বরিশাল মেডিকেলে কোটি টাকার দুর্নীতি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

বরিশাল মেডিকেলে কোটি টাকার দুর্নীতি

হেলাল উদ্দিন, বরিশাল ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২০

print
বরিশাল মেডিকেলে কোটি টাকার দুর্নীতি

দুর্নীতি যেন পিছু ছাড়ছে না বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের। জনবল নিয়োগে দুর্নীতির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার হাসপাতাল পরিচালনায় অনিয়ম দুর্নীতি। রোগী কিংবা সাধারণ মানুষের অভিযোগ নয়, খোদ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ অডিট অধিদফতরের রিপোর্টে সম্প্রতি উঠে এসেছে এসব চিত্র। শুধু ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরেই এখানে দুর্নীতি হয়েছে প্রায় ৮০ কোটি টাকার। কেনাকাটায় অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও চিকিৎসা সেবায় ঠকবাজিসহ সব খাতেই রয়েছে অনিয়মের মহোৎসব।

অভিযোগে জানা যায়, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অর্থবিত্তে যেন ফুলে ফেঁপে উঠেছেন হাসপাতাল পরিচালক। বরিশালে গড়েছেন দুটি বহুতল বাড়ি, হয়েছেন গাড়ির মালিক। রাজধানীসহ একাধিক স্থানেও গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। এ নিয়ে একাধিক সময়ে হয়েছেন গণমাধ্যমের শিরোনাম। তারপরও আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে গা বাঁচিয়েছেন পরিচালক ডা. বাকির হোসেন। দেশে করোনা মহামারীর শুরুতে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করেছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু পরে তা স্থগিত হয়ে যায়।

তথ্য মতে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ অডিট অধিদফতরের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের অডিটে ১৭টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বড় স্বাস্থ্য খাতের বড় ৪টি দফতরে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির তথ্য উঠে আসে। যার মধ্যে অন্যতম স্থানে রয়েছে শেবাচিম হাসপাতাল।

রিপোর্টে বলা হয়, এসব অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিদের কেউ কেউ সরাসরি জড়িত। আবার অনেকে পরোক্ষভাবে অনিয়ম-দুর্নীতিতে সায় দিয়েছেন। দায়ীদের চিহ্নিত করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তাব্যক্তিদের চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ অডিট অধিদফতর। শেবাচিম হাসপাতালের অনিয়ম-দুর্নীতির রিপোর্টে বলা হয় আর্থিক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে ক্রয়চুক্তি অনুমোদন করায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে ব্যয় করা হয় ৪ কোটি ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।

আমদানির পক্ষে কোনো রেকর্ড-পত্রগ্রহণ না করা সত্ত্বেও ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহ বাবদ ঠিকাদারকে জালিয়াতির মাধ্যমে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। এমএসআর কেমিক্যাল রি-এজেন্ট বাজারমূল্য অপেক্ষা অতিরিক্ত দরে পরিশোধ করায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি ১৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা। স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত এমএসআর ওষুধ ও সার্জিক্যাল টেপ ক্রয়ে আর্থিক জালিয়াতি ১ কোটি ১৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। অতিরিক্ত দরে ব্রয়লার মুরগির মাংস ক্রয়ে আর্থিক ক্ষতি ৬০ লাখ ৫৬ হাজার টাকা আত্মসাৎ। পণ্য খাতে রোগী অপেক্ষা পাউরুটি, কলা ও ডিম সরবরাহ দেখিয়ে ৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা আত্মসাৎ। বেড সংখ্যা অপেক্ষা অধিক রোগীর পথ্য দেখিয়ে ১ কোটি ৮২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ। এ ছাড়া অন্যান্য খাতে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৯৬ টাকার গুরুতর অনিয়ম হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের হাসপাতাল শাখার অতিরিক্ত সচিব মুহিবুর রহমান বলেন, অডিট অধিদফতরের প্রতিবেদন আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। শিগগিরই এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।