মাল্টায় সেজেছে ঝালকাঠি

ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০ | ১৩ কার্তিক ১৪২৭

মাল্টায় সেজেছে ঝালকাঠি

তানজেরুল ইসলাম ও শফিউল আজম টুটুল, ঝালকাঠি ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ০৭, ২০২০

print
মাল্টায় সেজেছে ঝালকাঠি

চারদিকে শুধু সবুজ মাল্টা। বাড়ির আঙিনায়, অলিগলিতে গড়ে ওঠা বাগানে এমনকি টবের গাছেও ঝুলছে সবুজ মাল্টা। অথচ পাঁচ বছর আগেও এমনটা ছিল না। কয়েক জনের সাফল্যে উদ্যমী হয়ে ওঠে এক যোগে। স্বল্প ব্যয়ে বাম্পার ফলন হওয়ায় মাল্টা চাষে ঝুঁকেছেন অনেক বেকার যুবকও। ঝালকাঠি হয়ে ওঠেছে সবুজ মাল্টার গ্রাম। চলতি বছরে মাল্টা চাষ হচ্ছে ৫৫ হেক্টর জমিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝালকাঠি জেলায় বর্তমানে মাল্টা চাষি সংখ্যা ২০০ জন। গত বছর জেলার ২৫ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ হলেও বর্তমানে ৫৫ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ হচ্ছে। প্রতি হেক্টর জমিতে মাল্টা উৎপাদন হচ্ছে ৮-৯ মেট্রিক টন। সহজে পচনশীল না হওয়ায় মাল্টা সংরক্ষণ করা সহজ। ফলে লোকসানের সম্ভাবনা নেই। মাল্টাতে আছে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং চর্বিমুক্ত ক্যালরি। মাল্টা ফলের রয়েছে বিভিন্ন ঔষুধি গুণ। 

সদর উপজেলার বিকনা গ্রামে মাল্টা বাগান করেছেন দাইয়ান এগ্রোর পরিচালক খন্দকার ইকবাল মাহমুদ। ৩ একর জমিতে তার ৭৫০টি মাল্টা গাছ রয়েছে। চলতি বছর বাগানটি থেকে কমপক্ষে ছয় হাজার কেজি (১৫০ মণ) মাল্টা উৎপাদন হবে। যার সম্ভাব্য বর্তমান বাজার মূল্য ৭ লাখ টাকা। বাগান সৃজনের মোট বিনিয়োগের টাকা তিনি প্রথম দুই বছরে পেয়ে গেছেন। চলতি বছর থেকে মুনাফা পাওয়া শুরু করবেন বলে প্রত্যাশা করছেন।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. ফজলুল হক জানান, প্রতি বছর মাল্টা চাষি সংখ্যা বাড়ছে। জেলা প্রশাসনের কৃষি ঋণ কমিটি মাল্টা চাষিদের সহযোগিতা করছে। তবে শুধু স্বল্প সুদে নয়। চাষিদের সহজ শর্তে ঋণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। নতুবা প্রকৃত চাষিরা ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। এ ছাড়া মাল্টা চাষিদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।