আইনজীবীর জিম্মায় থাকবেন মিন্নি

ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৬ আশ্বিন ১৪২৭

রিফাত হত্যা

আইনজীবীর জিম্মায় থাকবেন মিন্নি

বরগুনা প্রতিনিধি ২:৫৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

print
আইনজীবীর জিম্মায় থাকবেন মিন্নি

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির রায়ের তারিখ ঘোষণা করেছেন আদালত। এছাড়াও উচ্চ আদালতের দেয়া জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে তার মনোনীত আইনজীবীর জিম্মায় দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মিন্নিকে তার মনোনীত আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল বারী আসলামের জিম্মায় দেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান।

এর আগে পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী মিন্নিকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য উপস্থাপিত যুক্তি খণ্ডনের দিন ধার্য থাকায় সকাল ৯টার দিকে বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের সঙ্গে আদালতে আসেন আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। এছাড়াও কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয় এ মামলার কারাগারে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক আট আসামিকেও।

এরপর বেলা ১১টার দিকে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মিন্নির পক্ষে উপস্থাপিত যুক্তি খণ্ডন শুরু করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। যুক্তি খণ্ডন শেষে উচ্চ আদালতের দেয়া মিন্নির জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মিন্নিকে নিজের জিম্মায় জামিনে রাখতে তার পক্ষে আদালতে আবেদন করেন মিন্নির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল বারী আসলাম।

এরপর এ আবেদন মঞ্জুর করে আদালত রায়ের আগ পর্যন্ত মিন্নিকে আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলামের জিম্মায় দেন। একই সঙ্গে ১০ আসামির পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে হওয়ায় আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলার রায়ের দিন ধার্য করেন আদালত।

এ বিষয়ে মিন্নির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, এ মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ আদালতের দেয়া মিন্নির জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর মিন্নিকে আমার জিম্মায় জামিনে মুক্ত রাখার জন্য আবেদন করি। পরে আদালত এ আবেদন মঞ্জুর করে রায়ের আগ পর্যন্ত মিন্নিকে আমার জিম্মায় জামিন দেন।

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলার রায় ঘোষণার দিন মিন্নিকে আদালতে হাজির করা হবে বলেও জানান তিনি।

গত বছরের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত হত্যাকাণ্ড ঘটে। ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দু’ভাগে বিভক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনও পলাতক।

গত ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এরপর ৮ জানুয়ারি থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন আদালত। মোট ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে এ মামলায়।

রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলেন, রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো. হাসান, মো. মুসা, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর এবং কামরুল ইসলাম সাইমুন।