কাঁচা সড়কের বেহাল দশা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০ | ১৪ কার্তিক ১৪২৭

কাঁচা সড়কের বেহাল দশা

দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ৩:৫০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০

print
কাঁচা সড়কের বেহাল দশা

পটুয়াখালীর দুমকিতে প্রায় দেড়শো কিলোমিটার কাঁচা সড়কের বেহাল দশা। যথাযথ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কগুলো চলতি বৃষ্টি মৌসুমে কাঁদা জলে একাকার হয়ে গেছে।

টানা বর্ষণ ও জলোচ্ছাসে পায়রা তীরবর্তী ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ভেঙে পাংগাশিয়া ইউনিয়নসহ উপজেলার অন্তত ৫-৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এছাড়াও উপজেলার তিন দিকে বেষ্টিত পায়রা-পাতাবুনিয়া ও লোহালিয়া নদীর তীরবর্তী ওয়াপদা বেড়ি বাঁধের ভাঙনে পাঁচ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে লেবুখালী, পাংগাশিয়া, মুরাদিয়া, আংগারিয়া ও শ্রীরামপুর ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামীণ কাঁচা রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কাঁচা রাস্তাঘাট একটানা বৃষ্টিতে ভেঙে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।

এ সময় জলাবদ্ধতায় ডুবে যাওয়া রাস্তাঘাট, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি দিনের পর দিন তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এতে লেবুখালী ইউনিয়নের ফকিরবাড়ি থেকে আঠারগাছিয়া নেছারিয়া মাদ্রাসা হয়ে কার্তিকপাশার কাটাখালীর খাল, শ্রীরামপুর ইউনিয়নের পিরতলা বাজার থেকে দক্ষিণ দিকে খান বাড়ির পূর্ব পাশ থেকে বাদশাবাড়ি সড়ক, গাবতলী বাজার থেকে মোহাম্মদ হাওলাদারবাড়ি হয়ে তালতলির হাট, আঠারগাছিয়া মাদ্রাসা থেকে কালবার্ড বাজার, মুরাদিয়া ইউনিয়নের পঞ্চায়েত বাজার থেকে মজুমদারবাড়ি লঞ্চঘাট, দক্ষিণ মুরাদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে কালে খা গ্রাম, বোর্ড অফিস বাজার থেকে সন্তোষদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে ঝিলনা লঞ্চঘাটের পশ্চিম পাড় পর্যন্ত, আংগারিয়া ইউনিয়নের জলিশা বোর্ড স্কুল থেকে রাজাখালী বাসস্ট্যান্ড সড়ক, রূপাসিয়ার সফের মুন্সীরপুল থেকে পশ্চিম ঝাটরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে মাদ্রাসা ব্রিজ সড়ক, পাংগাশিয়ার হাজিরহাট থেকে নগেন বৈদ্যর বাড়ি, রাজগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধোপারহাট হয়ে চানশরিফের বাড়ি পর্যন্ত সড়কসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন সংযোগ কাঁচা সড়কগুলো পায়রা-লোহালিয়া নদীর জলোচ্ছাসে প্লাবিত ও পরবর্তীতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

সরেজমিন এসব কাঁচা রাস্তাঘাটের চরম দুরবস্থার বাস্তব চিত্র দেখা গেছে। অধিকাংশ রাস্তা কাঁদা-জলে একাকার হয়ে গেছে।

মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাফর উল্লাহ বলেন, মাটির রাস্তা বর্ষায় ক্ষতি হবে, এটি খুবই স্বাভাবিক বিষয়। তবে এ বছর মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টি আর জলোচ্ছাসে প্লাবিত হওয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার অস্বাভাবিক ক্ষতি হয়েছে।

আংগারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. সুলতান আহম্মেদ হাওলাদার জানান, বিষয়টি উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন কমিটির সভায় তোলা হয়েছে। অধিক ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলো শিগগিরই জনচলাচলের দুর্ভোগ বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী দিপুল কুমার বিশ্বাস বলেন, চলতি অর্থবছরে ২৮টি রাস্তার প্রকল্প প্রস্তাব ঢাকায় পাঠানোর কার্যক্রম চলছে। অনুমোদন পেলে পর্যায়ক্রমে কাজ শুরু করা হবে।