এখন যেমন সবিতা

ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৪ আশ্বিন ১৪২৭

এখন যেমন সবিতা

শফিউল আজম টুটুল, ঝালকাঠি ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৬, ২০২০

print
এখন যেমন সবিতা

সবিতা দাস। ১২ বছর যাবৎ বৃষ্টিতে ভিজে রোদে পুড়ে ফুটপাতে বসে জুতা সেলাই করে জীবন চালিয়েছেন। বাবার মৃত্যুর পর অভাবের নির্মম কষাঘাতে তাকে বেছে নিতে হয়েছে এ পেশা। ঝালকাঠি জেলায় সবিতাই একমাত্র নারী জুতা মেরামতকারী।

সদর উপজেলার বাউকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মাদুর বিছিয়ে জুতা সেলাই করতেন সবিতা। এ থেকে যা আয় হতো তা দিয়েই চালাতেন সংসার। কোনো ধরনের মূলধন না থাকায় সবিতা কখনো স্থায়ী কোনো দোকানের কথা চিন্তাও করতে পারেননি। এভাবেই চলছিল সবিতার ছন্দবিহীন জীবনের পথচলা।

কিছুদিন আগে একজন গণমাধ্যমকর্মী বিষয়টি নজরে আনেন ঝালকাঠি শহরের তরুণ সমাজসেবক ঠিকাদার ছবির হোসেনের। ছবির হোসেন ছুটে যান সবিতার কাছে। জানতে চান কী করার আছে তার জন্য। সবিতা দাস তখন নিজেন আজীবনের লালিত স্বপ্ন নিজস্ব একটি দোকান ঘর, যেখানে কোনো ভাড়া থাকবে না, জুতা সেলাই ছাড়াও যেখানে বিক্রি হবে নতুন জুতা স্যান্ডেল।

এ রকম একটি স্বপ্নের দোকানে কথা জানান ছবির হোসেনকে। ছবির হোসেন রাজি হয়ে যান। এরপর শুরু হয় নিজস্ব জায়গা নির্ধারণ, নতুন দোকান ঘর তৈরি ও দোকানের মালামাল সংগ্রহের কাজ। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সবকিছু রেডি করে ফেলেন ঝালকাঠি শহরে মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে পরিচিত ছবির হোসেন। দেড় লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করে সবিতার জন্য তৈরি করেন দোকান ঘর ও দোকানের প্রয়োজনীয় সাজ-সরঞ্জাম।

গতকাল বুধবার সকালে স্থানানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে উদ্বোধন করা হয় সবিতার নতুন দোকান ‘সবিতা সু হাউজ’। ছবির হোসেন খোলা কাগজকে বলেন, সবিতা একজন সংগ্রামী নারী। তার কাজের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকেই আমি তাকে আরো অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য নতুন দোকান করে দিয়েছি।

সবিতা দাস খোলা কাগজকে জানান, এ ধরনের একটি ভাড়ামুক্ত মালামালসহ নতুন দোকান উপহার পাবÑতা স্বপ্নেও ভাবিনি।

তিনি বলেন, আমি কঠোর পরিশ্রম করে সফল হব। আমি যদি কোনোদিন ব্যবসা করে বড় হতে পারি, তাহলে ছবির ভাইয়ের মতো আমিও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াব।