অবরোধ শেষে সাগরে জেলেরা

ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

অবরোধ শেষে সাগরে জেলেরা

সোলায়মান পিন্টু, কলাপাড়া, পটুয়াখালী ১০:২৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২০

print
অবরোধ শেষে সাগরে জেলেরা

টানা ৬৫ দিনের মৎস্য অবরোধ শেষে এখন মাছ শিকারের জন্য সাগরে যাচ্ছেন জেলেরা। তবে করোনাভাইরাস আর ৬৫ দিনের মৎস্য অবরোধের কারণে বহু কষ্টে জীবনযাপন করছেন উপকূলীয় এই জনপদের জেলেরা। দীর্ঘদিন মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেরা সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ায় প্রস্তুতি আগেভাগেই সম্পন্ন করে রেখেছিলেন। কেউ ইতোমধ্যে সাগরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার জেলে পল্লীগুলোতে এখন চলছে মহাকর্মযজ্ঞ। আর উপজেলার আলীপুর-মহিপুর-কুয়াকাটার মৎস্য আড়ৎগুলোর কর্মচাঞ্চল্য চোখে পড়ার মতো। ঝিমিয়ে পড়া জেলে পল্লী ও মৎস্য আড়ৎগুলো যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা ফিসিং ট্রলার মাঝি সমিতির সাবেক সভাপতি নুরু মাঝি জানান, গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার ছাড়া আর কোনো পেশায় তার অভিজ্ঞতা নেই। এ অবরোধের সময় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করতে হয়েছে। এতদিন শুধু অপেক্ষায় থেকেছেন কখন ইলিশ শিকারের মাধ্যমে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন। সরকারি বিধিনিষেধ মেনেই এতদিন সমুদ্রে মাছ শিকারে যাননি। কিন্তু কষ্ট হয় তখন, যখন ভারতীয় জেলেরা এ অবরোধের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে প্রচুর ইলিশ শিকার করে নিয়ে যায়।

অবরোধের সময় জেলে পল্লী ঘুরে দেখা গেছে, অবসর অবস্থায় জেলেরা কেউ পুরনো জাল সারাই করছেন। কেউ নতুন জাল প্রস্তুত করছেন। আবার কেউ পুরনো নৌকা, ট্রলার মেরামত করছেন। কেউ তৈরি করছেন নতুন ট্রলার। ট্রলার মালিক, জেলে এবং অড়ৎদারদের মহাব্যস্ততা ছিল লক্ষ্য করার মতো।

ট্রলার মালিক, আড়ৎদার, জেলে সমিতি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এ উপজেলায় অর্ধশতাধিক ট্রলার নির্মাণ করেছেন মৎস্যজীবীরা। গত বছর মৎস্য ব্যবসায়ীরা লাভবান হওয়ায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা নতুন ট্রলার বানাচ্ছেন মাছ শিকারের জন্য। তাছাড়া এ বছর অনেক ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা বাড়িয়েছেন। আবার অনেকেই নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে বেশ কিছু নতুন ট্রলার ঘাটে নোঙর করা শুরু করেছে। চলতি ইলিশ মৌসুমে এসব ট্রলার মাছ শিকারের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

কুয়াকাটা আশার আলো মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মো: নিজাম শেখ বলেন, পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে সমুদ্রে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ জেলেদের প্রণোদনা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ রইলো।

ইলিশ মৌসুমে গভীর সাগরে জেলেদের ওপরে জলদস্যুদের হামলার কথা উল্লেখ করে গঙ্গামতির জেলে জামাল হোসেন জানান, পূর্ব পুরুষদের মাছের ব্যবসা আঁকড়ে ধরে তিনি এ পেশায় আছেন। ধারদেনা এবং ঋণ করে এবার নিজেই ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন ট্রলার নির্মাণ করেছেন। কোনোভাবে জলদস্যুদের কবলে পড়লে তিনি নিঃস্ব হয়ে যাবেন।

কুয়াকাটা-আলীপুর মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সভাপতি মো: আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, মৌসুমের শুরুতে অবরোধের ফলে দক্ষিণের সবচাইতে বড় মৎস্য বন্দর আলীপুর-মহিপুর-কুয়াকাটার মাছের আড়ৎগুলো এতদিন নিষ্প্রাণ ছিল। বেকার, অলস, মানবেতর সময় পার করেছে মৎস্য শ্রমিকরা। এখন আবার কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে মৎস্যবন্দর। আশা করা যায় এবছর সাগরে প্রচুর মাছ ধরা পড়বে। তাই জেলেদের নিরাপদ মৎস্য শিকার নিশ্চিত করতে র?্যাবের সমন্বয়ে যৌথবাহিনী জলদস্যু দমনে যে কাজ করছে তা অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের নির্দেশক্রমে ৬৫ দিনের অবরোধ শেষ হবে ২৩ জুলাই। আশা করা যায় এবার জেলেদের জালে প্রচুর বড় বড় ইলিশ ধরা পড়বে।