ভোলায় মেঘনা পাড়ের তুলাতলী অপরূপ

ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০ | ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭

ভোলায় মেঘনা পাড়ের তুলাতলী অপরূপ

ছোটন সাহা, ভোলা ১০:০৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৪, ২০২০

print
ভোলায় মেঘনা পাড়ের তুলাতলী অপরূপ

ভোলায় করোনাভাইরাসের মধ্যেও একটু নির্মল বাতাস আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্য দেখতে মেঘনা পাড়ে ভিড় জমাচ্ছেন শত শত মানুষ। তবে অন্যদিনের তুলনায় ছুটির দিনগুলোতে মানুষের ভিড় একটু বেশি। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনেকেই পরিবার-পরিজন আর সন্তানদের নিয়ে মেঘনা পাড়ের তুলাতলীতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তুলাতলীর নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে দূর দূরান্ত থেকে আসা এসব মানুষ মুগ্ধ হচ্ছেন। তবে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের নজরদারিও রয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেল, নদীর উত্তাল ঢেউ, সবুজের সমারোহ, বৃক্ষরাজি, দূরের ডুবোচর, কাঁশবন, নান্দনিক স্থাপনা আর বাহারি ফুলের সমারোহ নিয়ে মেঘনার তীর ঘেঁষে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকার এক দর্শনীয় স্থান তুলাতলী। এই জায়গাটিই এখন মানুষের একমাত্র বিনোদনের ভরসা। শহরের কোলাহলময় পরিবেশে ছেড়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে ছুটে আসছেন মানুষ। দোলনা, নাগর দোলা ও ঘোড়ায় উঠতে দেখা যায়। কেউ ছুবি তুলছেন, কেউ ঘুৃরে বেড়াচ্ছেন, ছোট ছোট নৌকায় উঠছেন।

মেঘনা পাড় সেজেছে অপরূপ সাজে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ঘুরতে এসে মুগ্ধ হচ্ছেন মানুষ। কলেজছাত্রী সানজিদা হোসেন এশা বলেন, অনেকদিন পরে ঘুরতে বের হয়ে ভালো লাগছে, এতদিন বাসার মধ্যে থেকে একঘেয়ে লাগছিল, তার জন্য বাইরে বের হয়ে ভালো লাগছে। আরেক দর্শনার্থী লতা কবির বলেন, আমি বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি এতে নিজের যেমন ভালো লাগছে তেমনি বাচ্চারাও আপন মনে খেলছে, বাচ্চারা তো সবসময় ঘরেই থাকে। এখন বের হয়ে ওদের ভালো লাগছে আর জায়গাটা সত্যিই অনেক সুন্দর। ছাত্রলীগ নেতা ইভান জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এখানে আমরা বন্ধুরা মিলে ঘুরতে এসেছি, ঘুরতে আসার জন্য তুলাতলী অনেক ভালো একটি স্পট।

দর্শনার্থী লিটন শেখ বলেন, করোনার মধ্যে দীর্ঘদিন বাড়িতে ছিলাম। আজ ঘুরতে এসেছি, পরিচতি সব মানুষের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, বেশ উপভোগ করছি। টুটুল আমিন বলেন,  একটু প্রশান্তির আশায় আমরা নদীর পাড়ে ঘুরতে এসছি, মনটাকে প্রফুল্ল করার জন্য।

ভোলা শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে মেঘনা পাড় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে না উঠলেও কয়েকজন উদ্যোক্তা শাহবাজপুর পর্যটন কেন্দ্রে হিসেবে এটিকে দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তাদের মধ্যে একজন ভোলা থিয়েটারের সম্পাদক সংস্কৃতিকর্মী আবিদুল আলম আবিদ বলেন, করোনাভাইরাসের মধ্যে মানুষ বাড়িতে থেকে অনেকটাই গৃহবন্দি হয়ে পড়েছিল, আজকে ছুটির দিনে এই প্রথম বারের মতো শাহবাজপুর পর্যটন কেন্দ্রে কিছু মানুষ ছুটে এসেছে। এর কারণ হচ্ছে বাইরের পরিবেশ, নির্মল বাতাস ও প্রকৃতি দেখার টানে মানুষ ছুটে এসেছেন।

এ ব্যাপারে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন বলেন, করোনাভাইরাস যাতে ছড়িয়ে না পাড়ে সেদিকেও পুলিশের নজরদারি রয়েছে। সবাই সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন সে জন্য পুলিশ কাজ করছে। অপরদিকে খুব শিগগিরই করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছে মানুষ।