ভালো নেই কুকরি-মুকরির কাঁকড়া শিকারিরা

ঢাকা, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২০ | ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭

ভালো নেই কুকরি-মুকরির কাঁকড়া শিকারিরা

ছোটন সাহা, কুকরি-মুকরি, চরফ্যাশন, ভোলা থেকে ফিরে ৯:৪০ অপরাহ্ণ, জুলাই ০২, ২০২০

print
ভালো নেই কুকরি-মুকরির কাঁকড়া শিকারিরা

ভালো নেই ভোলার চরফ্যাশনের চর কুকরি-মুকরির কাঁকড়া শিকারি ও ব্যবসায়ীরা। করোনাভাইরাসের কারণে কাঁকড়া রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। তবুও অনেক শিকারি তাদের পেশা ধরে রাখতে কাঁকড়া শিকার ও বিক্রি অব্যাহত রেখেছেন। তবে স্থানীয় বাজারে তেমন দাম পাচ্ছেন না তারা। এতে করে অনেকে শিকারি বেকারত্ব নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার লাভের আশায় পেশা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলার সাগর উপকূলের এক সবুজ দ্বীপ কুকরি-মুকরি। এখানে শত শত কাঁকড়া শিকারি রয়েছেন। অল্প পরিশ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় অনেকেই ঝুঁকে পড়েছেন এ পেশায়। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে অনেকের। নিচু এলাকা, খালের কর্দমাক্ত স্থান এবং নদীতে জাল ফেলে কাঁকড়া শিকার করেন তারা। এই শিকারিরা তাদের আহরিত কাঁকড়া পাইকারদের মাধ্যমে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। পাইকাররা আবার বড় বড় আড়তে পাঠান এসব কাঁকড়া।

সেখান থেকে দেশের গ-ি পেরিয়ে বিদেশে রপ্তানি হয় এসব কাঁকড়া। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে বিভিন্ন দেশে লকডাউন থাকায় হঠাৎ করেই কাঁকড়া রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন শিকারি ও ব্যবসায়ীরা। দু-চারটি চালান পাঠানো হলেও তাতে লোকসান গুনতে হচ্ছে পাইকারদের। তবুও অনেক শিকারি আর্থিক সংকট দূর করতে কাঁকড়া শিকার করছেন। অর্ধেক দামও পাচ্ছি না। তবুও জীবিকার তাগিদে কাঁকড়া শিকার করছি। কাঁকড়া শিকার করতে গিয়ে আমাদের যে পরিশ্রম হয়, সেই তুলনায় যে দাম পাই তাতে পোষায় না। তারপরও উপায় না পেয়ে কাঁকড়া শিকার করছি।

কাঁকড়া ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আগে যেখানে শুধু কুকরি-মুকরি থেকে অর্ধশত ঝুঁড়ি কাঁকড়া রপ্তানি হতো সেখানে ৫/১০ ঝুঁড়ির বেশি কাঁকড়া বিক্রি হচ্ছে না। কখনও কখনও আবার এসব মাল ফেরত চলে আসছে। সেক্ষেত্রে আরও কম দামে বিক্রি করতে হয়।

কাঁকড়া ব্যবসায়ী ও পাইকার খলিল এবং মফিজুল ইসলামসহ অনেকে জানান, করোনাভাইরাসের আগে কাঁকড়ার চাহিদা অনেক ভালো ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের পর থেকে ভালো নাই, কখনও কখনও মাল পাঠানো হলেও আবার ফেরত আসে, তখন আরও কম দামে স্থানীয় বাজারে মাল বিক্রি করতে হয়। তারা আরও জানান, অনেকেই আবার ঘের থেকে কাঁকড়া বিক্রির জন্য পাঠাচ্ছেন, কিন্তু সময়মত তা সাপ্লাই দিতে না পারায় অনেক কাঁকড়া মারা যাচ্ছে। তখন লোকসান গুনতে হচ্ছে। আবার দুই দিন চালান নেয় তো সাতদিন বন্ধ থাকে। এভাবে ব্যবসা করে আমরা ব্যবসায়ীরা তেমন ভালো নেই।

এদিকে কাঁকড়া শিকার একটি লাভজনক পেশা হলেও লোকসানের মুখে অনেকেই কাঁকড়া শিকার বন্ধ করে দিয়েছে। কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে অনেকেই কাঁকড়া শিকারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

অবশ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও কাঁকড়া ব্যবসা জমজমাট হবেÑ এমনটাই আশা করছেন কাঁকড়া শিকারি ও ব্যবসায়ীরা।

এ ব্যাপারে ভোলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কাঁকড়া শিকারি এবং ব্যবাসয়ীদের আমরা উৎসাহ দিচ্ছি, তারা বর্তমানে কিছুটা লোকসানে থাকলেও সংকট কেটে গেলে সবকিছু আবার স্বাভাবিক হবে বলে আমরা মনে করছি।