অসময়ে বৃষ্টি কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০ | ১৮ আষাঢ় ১৪২৭

অসময়ে বৃষ্টি কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ৩:৪২ অপরাহ্ণ, মে ২৪, ২০২০

print
অসময়ে বৃষ্টি কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ

গত ক’দিনের অনাকাঙ্খিত বৃষ্টিতে কৃষকদের রবিশষ্যের ক্ষতির আশঙ্কায় দু:শ্চিন্তায় পড়েছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কৃষকরা। বৃষ্টির পানি ক্ষেতে জমে যাওয়ায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কৃষকের কপালে।

এখন নালা কেটে পানি নামাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন উপকূলীয় এ এলাকার কৃষকরা। অসময়ের এ বৃষ্টিতে উপজেলার বেশ কিছু এলাকার শাক সব্জি, বিভিন্ন ধরনের ডাল, ভূট্টা, মরিচ, মিষ্টি আলু, সূর্যমুখী ফুল ও চিনা বাদাম ক্ষেতে পানি জমে তা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তবে কৃষকদের এ দু:সময়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে তাদের পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছেন বলে উপজেলা কৃষি অফিস।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এ বছর ৫২০ হেক্টর জমিতে মরিচ, ২০০০ হেক্টর জমিতে শাক সবজি, ২০০০ হেক্টর জমিতে মুগ ডাল, ৬২০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা, ৮০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী, ১৫০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলু, এবং ৫৫০ হেক্টর জমিতে চিনাবাদাম চাষ করা হয়েছে।

গত ক’দিনের বৃষ্টিপাতে রবিশষ্যের ক্ষেতে পানি জমে যাওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েন কৃষকরা। এখন ক্ষেত থেকে পানি নিস্কাশনের জন্য নালা কেটে দিচ্ছে কৃষক। অসময়ের এ বৃষ্টিতে শাক সবজি ক্ষেতের শতকরা ২০ ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মরিচ ক্ষেতের শতকরা ৩০ ভাগ, ভূট্টা ক্ষেতের শতকরা ০৫ ভাগ, মুগ ডাল ক্ষেতের শতকরা ২০ ভাগ, সূর্যমুখী ক্ষেতের শতকরা ৩০ ভাগ, চিনাবাদাম ক্ষেতের শতকরা ২৫ ভাগ ও মিষ্টি আলু ক্ষেতের শতকরা ২৫ ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে সূত্রটি জানায়। তবে যথাসময়ে রবিশষ্যের ক্ষেত থেকে পানি নামাতে পারলে ক্ষতির পরিমান কমবে।

উপজেলার ধূলাসার ইউনিয়নের অনন্তপাড়া গ্রামের কৃষক বশির মৃধা বলেন, গত ক’দিনের বৃষ্টিতে চিনাবাদাম ক্ষেতে পানি জমে চারা নষ্টের উপক্রম হয়েছে। নালা কেটে পানি নামালেও বেশ ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষক মাসুদ হাওলাদার বলেন, অসময়ের বৃষ্টিতে রবিশষ্যের ক্ষেতে পানি জমে গিয়েছিল। নালা কেটে ক্ষেতের পানি নামিয়েছি। এভাবে বৃষ্টি হলে ক্ষতির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আ. মন্নান বলেন, আগাম বৃষ্টিপাতে রবিশষ্যের ক্ষেতে পানি জমে ফসলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় কৃষকরা দু:শ্চিন্তা পড়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষককে সব রকমের পরামর্শ ও সহযোগীতা প্রদান করছে। তবে ক্ষতির পরিমান এখনই নির্ধারন করা যাবেনা।