ঝুঁকি নিয়ে মাঠে স্বেচ্ছাসেবীরা

ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০ | ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭

ঝুঁকি নিয়ে মাঠে স্বেচ্ছাসেবীরা

ছোটন সাহা, ভোলা ৩:৪৬ অপরাহ্ণ, মে ২৩, ২০২০

print
ঝুঁকি নিয়ে মাঠে স্বেচ্ছাসেবীরা

ভোলায় করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও আর্তমানবতার সেবায় কাজ করছে বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা এসব মানুষ যেন একের জন করোনা যোদ্ধা। সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত, জীবনুণাশক স্প্রে ছিটানো ও স্বাস্থ্যবিধি মেনা চলার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ ও খাদ্য সহায়তা কর্যক্রমও করছেন তারা। স্বাস্থ্যবিভাগ ও জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি তাদের এ সামাজিক কার্যক্রমে সর্বমহলে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। মানুষের মধ্যে সচেতনা সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র জানায়, সারাদেশের মত ভোলাতেও করোনাভাইরাস মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোট, নৌ বাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবের টহলসহ নানা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নিরলসভাবে কাজ করছে স্বাস্থ্যবিভাগও। সরকারি এসব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি করোনা সংক্রমণরোধে সামাজিক কার্যক্রমে এগিয়ে এসেছে রেডক্রিসেন্ট, বিয়ে বাজার, চিলেকোঠা, বিডিক্লিন, স্কাউটস, হেল্প অ্যান্ড কেয়ার, ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ও হৃদয়ে ভোলাসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। 

স্বেচ্ছাসেবী পল্লি চিকিৎসক মহিউদ্দিন বলেন, জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে আমরা কাজ করছি, ত্রাণ সামগ্রী, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান ও লিফলেট বিতরণ করে বিয়ে বাজারের একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে আমরা দরিদ্র মানুষের পাশে আছি এবং থাকবো।

স্বেচ্ছাসেবী দুলাল পোদ্দার বলেন, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে আমরা ভোলাতে হাতধোয়া কর্মসূচী ও ত্রাণ কার্যক্রমসহ সামাজিক বিভিন্ন কার্যক্রমে সেচ্চাসেবী হিসাবে কাজ করছি। যতদিন পর্যন্ত করোনার প্রাদুর্ভাব থাকবে ততদিন আমরা সামাজিক কাজ করে যাবো’।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডিক্লিন ভোলা জেলা সমন্বয়ক হারুন হাওলাদার শিমুল বলেন, করোনা সংক্রমণরোধে ভোলা বিডিক্লিন প্রতিদিন হাতধোয়া কর্মসূচি ও জীবনুনাশক স্প্রে ছিটিয়ে যাচ্ছে, এছাড়াও প্রচার-প্রচরানা ও ৫০টি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চিলেকোঠা প্রতিষ্ঠাতা সাব্বির মুন্না বলেন, সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত এবং মানুষ যাতে ঠিকমত মাক্স ব্যবহার করে সে বিষয়ে আমরা মানুষকে সচেতন করছি। আমরা চাই গণমাধ্যম আমাদের পাশে থাকুক। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে করোনা যুদ্ধে আমরাও কাজ করতে চাই।

হৃদয়ে ভোলা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা বনি আমিন আপন বলেন, করোনা সংক্রমণরোধে শুরুতে আমরা সাধারণ মানুষর মাঝে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান বিতরণ করেছি, এখন আমরা কর্মহীন মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছি। আমাদের সংগঠনের ১৫ জন সদস্য কাজ করছে। শহর ও গ্রাম পর্যায়ে আমাদের এ কার্যক্রম চলমান আছে।

জেলা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির যুব প্রধান সাংবাদিক আদিল হোসেন তপু বলেন, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ভোলা ইউনিটের পক্ষ থেকে আমরা করোনা মোকাবেলায় স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে ভোলা হাসপাতাল, জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুপ্তপূর্ন প্রতিষ্ঠানে আমরা জীবনুণাশক স্প্রে করেছি।

বিয়ে বাজার প্রতিষ্ঠাতা প্রভাষক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, করেনা প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়ে আমরা ভোলাতে হাতধোয়া কর্মসূচি চালু করি, যাতে মানুষ হাত ধোয়ার অভ্যাস তৈরী করতে পারে। নিদিষ্ট দুরত্ব, সরকারিবিধি মেনে চলা এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছি।

সংস্কৃতিকর্মী তালহা তালুকদার বাঁধন বলেন, করোনা প্রাদুর্ভাবে জনজীবন যখন স্থবির তখন ভোলার কিছু মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানবতায় এগিয়ে এসেছেন, সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিতসহ সমাজিক অনেক কাজ করছেন তারা। করোনা ভয়াববতা সম্পর্কেও মানুষকে সজাগ করে দিচ্ছেন।

ভোলা জেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর এমন কার্যক্রমে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. রতন কুমার ঢালী।

তিনি বলেন, ভোলায় এখন পর্যন্ত করোনা সন্দেহে চার শতাধিক নমুনা সংগ্রহে হলেও শনাক্ত হয়েছে মাত্র পঁঅচজনের। যারা কিছুটা সুস্থ বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলায় কোয়ারান্টিনে আছেন ১৮০০।