ভোলায় পাকা ধান কাটছে কৃষকরা

ঢাকা, রবিবার, ৭ জুন ২০২০ | ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান

ভোলায় পাকা ধান কাটছে কৃষকরা

ছোটন সাহা, ভোলা ৩:১৮ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২০

print
ভোলায় পাকা ধান কাটছে কৃষকরা

ভোলায় ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ ক্ষতি এড়াতে কৃষকদের পাকা ধানসহ সব ধরনের পাকা ফসল ঘরে তোলার নিদের্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। এরমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটা শুরু করেছে কৃষকরা। তবে যেসব ধান বা অন্য ফসল এখনো পাকেনি সেগুলো কাটতে পারছেনা চাষিরা। এতে কিছুটা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তারা।

কৃষি বিভাগ জানায়, বর্তমানে কৃষকের বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেতে বোরো, চিনা বাদাম, মচির, মুগ, ফেল ডাল ও সয়াবিন রয়েছে। এ বছর ৩৮ হাজার ৭৮৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে, যারমধ্যে এখন পর্যন্ত কর্তন হয়েছে ৬৮ ভাগ। চিনা বাদান আবাদ হয়েছে ১৪ হাজার ৪৫০ হেক্টর। এরমধ্যে কাটা হয়েছে ৪০ ভাগ, মরিচ আবাদ হয়েছে ১৮ হাজার ২২৫ হেক্টর,এরমধ্যে কাটা হয়েছে ২৫ ভাগ, মুগ আবাদ হয়েছে ৩৭ হাজার ৪১৫ হেক্টর। যারমধ্যে প্রায় ৫০ ভাগ কাটা হয়ে গেছে। এছাড়াও ফেলন ডাল ১০ হাজার ২০ হেক্টর ও সয়াবিন ৯ হাজার ৭৭৯ হেক্টরের মধ্যে বেশীভাগ এখনো কর্তন হয়নি। এসব পাকা ফলন দ্রুত কাটার নির্দেশ দিয়েছে কৃষি বিভাগ।

গতকাল রোববার সকাল থেকে ভোলা সদরের ভেলুময়িা ইউনিয়নের চরগাজীসহ বিভিন্ন এলাকায় ধানসহ অন্য ফসল কাটা শুরু করেছে কৃষকরা। এরমধ্যে কিছু পরিমান ফসল ঘরে তুললেও অন্যগুলো ঘরে তোলর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কৃষকরা। তবে কৃষি বিভাগের নির্দেশ পেয়ে ফস ঘরে তোলা শুরু করে দিয়েছে কৃষকরা।

ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চরগাজী গ্রামের কৃষক হারুন মাঝি বলেন, এছর ৪ একর জমিতে বোরো আবার করেছি, এখন ক্ষেতের কিছু পেকে গেছে কিছু ধান এখনো কাচা রয়েছে। শুনেছি ঘূর্ণিঝড় আইবো, তাই পাকা ধান কাটা শুরু করে দিয়েছি। ২ একর জমির ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে।

কৃষক ওমর আলী জানান, আমরা কৃষি বিভাগ থেকে জানতে পেরেছি ঝড় হবে তাই পাকা ধান দ্রুত কেটে ফেলতে হবে। বেশীরভাগ কৃষক ধান কাটতে শুরু করে দিয়েছেন। এ বছর ধানের ফলন অনেক ভালো হয়েছে বলেও জানান তিনি। আমার এক একর জমির ফসল কাটা শেষ।

ভোলা কৃষি সম্প্রসার অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ হরলাম মধু বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ফসল রক্ষায় আমরা কৃষকদের দ্রুত পাকা ফলন কেটে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছে। শনিবার থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এ বিষয়ে প্রচার-প্রচরনা করা হয়েছে।

এদিকে সিপিপি জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১২৫০ কিলোমিটার দক্ষিন-দক্ষিন পশ্চিম কিলোমিটার দুরে অবস্থান করছিলো।
ভোলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি(সিপিপি) মো.সাহাবুদ্দিন জানান, বর্তমানে ভোলায় ৪ নাম্বার স্থানীয় সংকেত চলছে, ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়ে আমরা আমাদের সেচ্চাসেবীদের উপকূলে মাইকিং করার নির্দেশ দিয়েছি।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ইতমধ্যে শনিবার জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি হিসাবে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

যারমধ্যে সামজিক দুরত্ব নিশ্চিত করে মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা, স্বাস্থ্যবিভাগের মেডিকেল টিম গঠন, জেলেদের জন্য সতর্কবার্তা ও মাছ শিকারে যাওয়া আগে মৎস্যবিভাগকে অবহিতকরা, ত্রান মজুদ এবং জেলায় ১ হাজার আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা।