মন কেড়ে নেওয়া সোনালু

ঢাকা, রবিবার, ৭ জুন ২০২০ | ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

মন কেড়ে নেওয়া সোনালু

উত্তম গোলদার, মির্জাগঞ্জ, পটুয়াখালী ১০:১৯ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২০

print
মন কেড়ে নেওয়া সোনালু

গ্রীষ্মে প্রকৃতি সাজে তার অপরূপ সৌন্দর্যে। গাছে জন্ম নেয় নতুন পাতা। ফুল ফুলে ছেয়ে যায় সবুজ গাছ। পাতা ছেড়ে ফুলের পাঁপড়িতে রঙিন হয়ে ওঠে প্রকৃতি। করোনা আতঙ্কে মানুষ যখন দিশেহারা তখন প্রকৃতি নিজের সাজে সজ্জিত হচ্ছে। করোনার থাবায় মানবজাতির যখন চরম দুঃসময়; ঠিক তখনই প্রকৃতি মেতে উঠেছে আনন্দে। করোনাকালের একাকিত্ব! একা মানুষ, একা প্রকৃতি।

গ্রীষ্মের তাপদাহে ওষ্ঠাগত পথচারীরা পুলকিত নয়নে, অবাক বিস্ময়ে উপভোগ করেন এই সৌন্দর্য। ছড়া-কবিতা-গানে উপমা হিসেবে নানা ভঙিমায় এসেছে এই ফুলের সৌন্দর্য বর্ণনা। শোভাবর্ধনকারী এ বৃক্ষটি দেশের গ্রামীণ জনপদে জন্মে থাকে। এ গাছের কদর না থাকলেও; এর কাঠ তুলনামূলক দামি না হওয়া এবং ভালো কোনো ব্যবহারে না আসায় বাণিজ্যিকভাবে এ গাছ বপনে আগ্রহ অনেক কম। গ্রীষ্মের খরতাপে প্রকৃতিতে প্রাণের সজীবতা নিয়ে যেসব ফুল ফোটে তার মধ্যে সোনালু উল্লেখযোগ্য।

ঝাড়বাতির মতো ঝুলে থাকা এ ফুলগুলো চারপাশ আলোকিত করে রাখে। বড় বড় থোকায় হলুদ-সোনালি রঙের ফুল চলতি পথে পথিকের নজর কাড়বেই। গ্রীষ্ম রাঙানো এ ফুল দেখতে যেমন আকর্ষণীয় তেমনি তার নামের বাহার সোনালু, সোনাইল, সোঁদাল, বান্দরলাঠি ইত্যাদি। পুষ্পিত সোনালু তখন যেন কাঁচা সোনা রঙে আবৃত। ফুলের এমন শোভার কারণেই এ ফুলের ইংরেজি নাম গোল্ডেন শাওয়ার। দখিনা হাওয়ার পরশে এর থোকাগুলো দুলতে থাকে কানের দুলের মতো। আর হলুদ বরণ সৌন্দর্য মাতোয়ারা করে রাখে চার পাশ।

দিন দিন কমে আসছে সোনালুর সংখ্যা। কারণ হিসেবে অনেকেই মনে করেন, এ গাছের কাঠ খুব একটা দামি নয়। গাছটি খুব ধীরে বাড়ে। এ কারণেই কেউ আর তেমন উৎসাহ নিয়ে সোনালু গাছ রোপণ করেন না। প্রাকৃতিকভাবে যা হয়, তার ওপর ভর করেই হলুদ-সোনালি রঙের সৌন্দর্য বিতরণ করে অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে সোনালু। পথে প্রান্তরের গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে টুকটুকে লাল কৃষ্ণচূড়া, স্বর্ণাভ হলুদ সোনালু যেন পাপড়ির পেখম মেলে বসেছে এবং ঝুমকোর মতো পাপড়ি দুলছে সোনালু রঙিন ফুল। গ্রীষ্মের এমন খরতাপেও প্রকৃতিজুড়ে এসব ফুলের নান্দনিকতায় চোখ জুড়িয়ে যায়।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার আরাফাত হোসন বলেন, সোনালু গাছটাকে স্থানীয় ভাবে অনেক নামে ডাকা হয়। তবে এসব গাছ রাস্তার পাশে এমনকি বাড়ির আশপাশে জন্মে থাকে। এ গাছের প্রয়োজনীয়তা তেমন নেই। তাই এ গাছ তেমন রোপণ করা হয় না। গ্রীষ্মকালে রাস্তার পাশে গাছে গাছে দেখা যায় যেন সোনালি রঙ ছড়িয়ে আছে। তবে আমাদের প্রকৃতিকে সাজিয়ে রাখতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এসব গাছের চারা রোপণ করা একান্ত প্রয়োজন।