করোনা জয়ী চিকিৎসক মনিরুজ্জামান খাঁন কোয়ারান্টিনে

ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২০ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

করোনা জয়ী চিকিৎসক মনিরুজ্জামান খাঁন কোয়ারান্টিনে

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি ৪:৪২ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২০

print
করোনা জয়ী চিকিৎসক মনিরুজ্জামান খাঁন কোয়ারান্টিনে

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস জয়ী তরুণ চিকিৎসক আমতলীর কৃতি সন্তান ডা. মনিরুজ্জামান খাঁন আবার করোনা যুদ্ধের অপেক্ষায় হাসপাতালের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টিনে আছেন। গত শুক্রবার ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে থেকে করোনাভাইরাস মুক্ত ছাড়পত্র পেয়েছেন তিনি। গত শনিবার তার কর্মস্থল বাখেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টিনে অবস্থান করছেন। ১৪ দিন কোয়ারান্টিন শেষে আবারো ফিরবেন করোনা যুদ্ধে। নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে করোনাভাইরাসের রোগীতে সুস্থ করে তুলবেন।

জানা গেছে, আমতলী উপজেলার কৃতি সন্তান শিক্ষানুরাগী একেএম ইউনুস আলী খানের ছেলে তরুণ চিকিৎসক মনিরুজ্জামান খাঁন গত ৩৯ তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে বরিশাল জেলার বাখেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ডিসেম্বর মাসে যোগদান করেন। ওই হাসপাতালে যোগদানের তিন মাস পরেই সারা বিশ্বে দেখা দেয় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাব। ডাক পেয়ে বসেন করোনা যুদ্ধের।

তরুণ চিকিৎসক উদ্যম ও সাহসীকায় করোনাভাইরাসকে পাত্তা না দিয়েই জীবনের ঝুঁকি করোনা যুদ্ধে অংশগ্রহণে রাজি হন। বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য)-এর সংযুক্তির আদেশে গত ২৪ মার্চ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে যোগদান করেন। ওই হাসপাতালে ডা. মনিরুজ্জামান খাঁন করোনা যোদ্ধা হিসেবে করোনায় আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসাসেবা দেন। সেবার পাশাপাশি জাতীয় স্বাস্থ্য বাতায়ন- ৩৩৩ নম্বরেও তিনি সার্ভিস প্রদান করেন।

গত ২০ এপ্রিল তার শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয়। ২৪ এপ্রিল বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের RT PCR for COVID-19 test করালে রিপোর্টে কোভিড-১৯ পজিটিভ আসে। ওই দিন রাতেই তাকে ওই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে রাখেন। তার অবস্থা সঙ্কটজনক হলে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ২৬ এপ্রিল উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রেরন করেন। ওই হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। কুর্মিটোলা হাসপাতালের চিকিৎসায় তিনি সুস্থতা অনুভব করেন। ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরপর দু’বার নমুনা পরীক্ষা করেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় তার নমুনা প্রতিবেদন নেগেটিভ আসে। ১৪ দিন সঙ্গে যুদ্ধ করে করোনাকে জয় করেন তিনি। পরে গত শুক্রবার ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে সুস্থতার ছাড়পত্র দেন। ছাড়পত্র পেয়ে তিনি আবারো করোনা যুদ্ধে ফেরার অপেক্ষায় কর্মস্থল বাখেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টিনে আসেন। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টিনে আছেন।

করোনা যোদ্ধা ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করে বর্তমানে সুস্থ আছি। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বাখেরগঞ্জ হাসপাতালের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টিনে আছি। ১৪ দিন কোয়ারান্টিন শেষে আবারো করোনা যুদ্ধে নেমে যাব।

তিনি আরো বলেন, করোনার কষ্টটা কতোটা কঠিন তা হারে হারে টের পেয়েছি। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে যা শিখেছি তা দিয়ে করোনা রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তুলবো।