করোনা পরবর্তী চাহিদা মেটাতে মাঠে কৃষি বিভাগ

ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২০ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

করোনা পরবর্তী চাহিদা মেটাতে মাঠে কৃষি বিভাগ

উত্তম গোলদার, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) ১:৩৪ অপরাহ্ণ, মে ০৯, ২০২০

print
করোনা পরবর্তী চাহিদা মেটাতে মাঠে কৃষি বিভাগ

করোনা ভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যেও নিরলসভাবে কাজ করছেন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কয়েকদিনের একটানা বৃষ্টির কারণে মুগ-বাদামের ক্ষেতে পানি জমে থাকায় কিছুটা ক্ষতি হলেও প্রতিটি ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে গিয়ে কৃষি কর্মকর্তাসহ অন্য কর্মকর্তারা পরামর্শ ও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরাফাত হোসেন বলেন, দুর্যোগে ফসলের মাঠে ঝুঁকিপূর্ণভাবে আমরাও সরকারের নির্দেশনা মেনে নিজেদের পেশায় নিয়োজিত আছি। কৃষি এবং কৃষকের সাথে কৃষি বিভাগ সব সময় ছিল। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে যাতে করে কোন ধরনের খাদ্য ঘাটতি না হয় সেজন্য আমরা বাড়তি সেবা দিচ্ছি কৃষকদের। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মতে কোন জমি যেন পতিত না থাকে সেজন্য কৃষকদের বীজ সরবরাহ করে বিনামূল্যে বিতরন করা হবে দুই এক দিনের মধ্যে।

প্রতিদিন কৃষকদের সেবা দিতে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন কৃষি বিভাগ। করোনা পরবর্তী খাদ্য চাহিদা পূরণ ও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের কৃষকদের দ্বারে দ্বারে ফসল ও সবজি উৎপাদনের আধুনিক প্রযুক্তির সেবা নিয়ে উপস্থিত হচ্ছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বোরো ধান কিনতে কৃষক তালিকা তৈরি, আউশ ধানের প্রণোদনায় কৃষক তালিকা তৈরি, করোনাভাইরাস সম্পর্কে কৃষকদের সচেতনতা করাসহ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, খামার যান্ত্রিকরণের লক্ষ্যে কম্বাইন হারভেস্টার বিতরণ, ধানের রোগ দমনসহ অন্য রোগ ও পোকার দমন, কৃষি কার্ড হালনাগাদ, আম, কাঁঠাল, লিচুর ফলনে কৃষককে পরামর্শ দেওয়া, এমনকি করোনা ভাইরাসের কারণে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করাসহ করোনা ঝুঁকিতেও এমন আরও কত কিছু করতে দেখা গেছে মির্জাগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তাসহ অন্য অফিসারদেরকে। এমনকি সারের ডিলারগণ কৃত্রিম সংকট যেন সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে নিয়মিত পরিদর্শনসহ বিভিন্ন ধরনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে তাদের সরাসরি মাঠ পর্যায়ে থেকে। মান্দাতার আমলের কৃষি পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসতে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে কৃষি পণ্য উৎপাদনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে কৃষি ও কৃষকের প্রাণে রূপান্তরিত হয়েছে। অক্লান্ত পরিশ্রমী মানুষটির দৈনন্দিন সরকারি সেবার বাইরে পেশার প্রতি আন্তরিকতার টানে মাটি ও মানুষের ভালোবাসায় বেরিয়ে যান কৃষকের দ্বার প্রান্তে। কখনো কৃষকের ক্ষেতে কখনও কৃষকের বারান্দায়।

কৃষকরা বিরক্তিবোধ করলেও তিনি নাছোড়বান্দা। আধুনিক পদ্ধতিতে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে স্বল্প জমিতে বিপুল পরিমাণ ফসল উৎপাদনে একাধিক নজির স্থাপন করেছে। ফসল উৎপাদনে ধান, পাট, সূর্যমুখী, গম, ভুট্টা, কলাচাষ, সবজি, কুল, আমসহ বিভিন্ন প্রজাতির কৃষি পণ্য চারা রোপন থেকে শুরু করে বাজারজাত করণ পর্যন্ত তার পরামর্শ অব্যাহত থাকে। এ কর্মকর্তার পরামর্শে অনেকটাই বিরক্তিবোধ হয় অনেক কৃষক। কিন্তু তিনি তাতে থেমে থাকে না। কৃষকের সঙ্গে বিকালের আড্ডায়, সন্ধ্যায় চায়ের দোকানের আড্ডায় কৃষক, এমনকি উচ্চ ফলনশীল ফসল ফলার মুহুর্তে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় করণীয় বিষয়ে জরুরি পরামর্শ প্রদান করেন।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ অন্য কৃষি কর্মকর্তারা সাধারণ ছুটি ঘোষণার শুরু থেকেই নিয়মিত অফিস করে যাচ্ছেন। এদিকে সাধারণ ছুটিকালীন উপজেলা পর্যায়ের যেসব অফিস সীমিত পরিসরে খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে সে লক্ষে কাজ করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।