ওসির বিরুদ্ধে আসামিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ঢাকা, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২০ | ১৮ চৈত্র ১৪২৬

ওসির বিরুদ্ধে আসামিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি ৩:০১ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৬, ২০২০

print
ওসির বিরুদ্ধে আসামিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

বরগুনার আমতলী থানা হাজতে গত বুধবার রাতে একটি হত্যা মামলার আসামি শানু হাওলাদারকে পিটিয়ে হত্যা করে রশি দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ থানার ওসি আবুল বাশার ও ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রির দাবিকৃত তিন লাখ টাকা না দেওয়ায় শানুকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি ও ডিউটি অফিসার এএসআই আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

জান গেছে, গত বছর ৩ নভেম্বরে ইব্রাহিম নামে একজন কৃষককে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই হত্যা মামলায় শানু হাওলাদারের সৎ ভাই মিজানুর রহমান হাওলাদার এজাহারভুক্ত আসামি। ওই মামলার শানু হাওলদারকে গত সোমবার রাতে সহেন্দভাজন আসামি হিসেবে আমতলী থানা পুলিশ ধরে নিয়ে আসে। তাকে ধরে নিয়ে আসার পর আমতলী থানা ওসি আবুল বাশার ও ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি আসামীর পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তবে টাকা দিতে অস্বীকার করে তার পরিবার।

টাকা না পেয়ে আসামি শানুকে থানা হাজতে রেখে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করে। এক পর্যাে আসামির ছেলে সাকিব হোসেন গত মঙ্গলবার ওসি আবুল বাশারকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দেয়। কিন্তু তাতে তিনি তুষ্ট হয়নি। গত বুধবার শানুর সঙ্গে দেখা করতে চাইলে পুলিশ দেখা করতে দেয়নি উল্টো অশ্লীল আচরণ করে তাড়িয়ে দেয় এমন অভিযোগ নিহতের ছেলে সাকিব হোসেনের।

বৃহস্পতিবার  আসামি শানু ওয়াস রুমে যাওয়ার কথা বললে পুলিশ তাকে ওয়াশ রুমে নিয়ে যায়। পরে এক ফাঁকে আসামী শানু হাওলাদার ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রির কক্ষে ফ্যানের সাথে রশি পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে এমন দাবি ওসির আবুল বাশারের। খবর পেয়ে বরগুনা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন পিপিএম আমতলী থানা আসেন। ঘটনা তদন্তে জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহম্মেদকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ঠ কমিটি গঠন করা হয়।

গুলিশালালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, শানু হাওলাদারকে বাড়ি থেকে ধরে এনে নির্যাতন করেছে। আত্মহত্যার ঘটনা পুলিশের সাজানো। 

আমতলী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বলেন, থানার ওসি আবুল বাশার টাকা না পেয়ে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করছি। 

আমতলী উপজেলা আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান বলেন, পুলিশ পরিকল্পিতভাবে শানুকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।