আয়রন ব্রিজ এখন মরণফাঁদ

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬

আয়রন ব্রিজ এখন মরণফাঁদ

সোলায়মান পিন্টু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) ১:৫১ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০২০

print
আয়রন ব্রিজ এখন মরণফাঁদ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার লক্ষ্মীরহাট খালের ওপর নির্মিত আয়রণ ব্রিজটি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সরকার অধিদফতর ২০০১ সালে উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের লক্ষ্মীরহাট খালের ওপর নির্মাণ করে এ ব্রিজ। নির্মাণের পর থেকে কোন সংস্কার না হওয়ায় বিগত দু’বছর ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে ব্রিজটি। স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ পাঁচ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে এটির ওপর দিয়ে। ভাঙা ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীসহ পথচারীরা প্রায়শই ছোট বড় দুর্ঘটনার শিকার হয়।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার অধিদফতর ২০০১ সালে লক্ষ্মীর হাট খালের ওপর এ আয়রণ ব্রিজটি নির্মাণ করে। প্রতিদিন এই ব্রিজটির ওপর দিয়ে খাপড়াভাঙ্গা ও লতাচাপলী ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। এছাড়াও কুয়াকাটা খানাবাদ ডিগ্রি কলেজ, মিশ্রীপাড়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মিশ্রিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী এ ব্রিজ পার হয়ে স্কুল-কলেজে যাওয়া আসা করে।

বর্তমানে ব্রিজটির আরসিসি সিপ্লার ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়রা কাঠ দিয়ে যেনতেনভাবে মেরামত করে চলাচল করছে। আর চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পরছেন পথচারীরা। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হয় স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে ব্রিজ ভেঙে যেকোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

লক্ষ্মীরহাট গ্রামের শফিকুল আলম ও আ.রশিদ হাওলাদার বলেন, নির্মাণের পর থেকে ব্রিজটি মেরামত করা হয়নি। লোকজনের চলাচলে দুর্ভোগ হওয়ায় কাঠের তক্তা দিয়ে স্থানীয়রা মেরামত করে কোন রকমে চলাচল করছে।

খানাবাদ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক খান এ রাজ্জাক বলেন, জরাজীর্ণ এ ব্রিজ পার হতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের কথা মাথায় রেখে হলেও এটির দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন।

লতাচাপলী ইউপি চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, ব্রিজটি পারাপারের অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়েছে। তারপরও লোকজন ঝুঁকি নিয়ে এটি ব্যবহার করছে। লতাচাপলী ইউনিয়নে এরকম আরও ব্রিজ রয়েছে যা দ্রুত নির্মাণ বা সংস্কার করা দরকার। তবে সংস্কারের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে বলে তিনি জানান।

কলাপাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের প্রকৌশলী আ.মান্নান বলেন, ব্রিজটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ার খবর শুনেছি। যত দ্রুত সম্ভব কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।