সাত কোটি টাকার ক্ষতি

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

কাঁঠালিয়ায় বুলবুলের তাণ্ডব

সাত কোটি টাকার ক্ষতি

কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি ৫:০৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৬, ২০১৯

print
সাত কোটি টাকার ক্ষতি

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিষখালী নদীর তীরবর্তী ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার জনপদ। সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যানে চারটি উপজেলার মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কাঁঠালিয়া। বেড়িবাঁধ ও ঘরবাড়ি বিধ্বস্তসহ ফসলহানিতে প্রায় সাত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ঘর বিধ্বস্ত হওয়ায় আকাশের নিচে বাস করছে অনেক পরিবার।

আড়াই লক্ষাধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত কাঁঠালিয়া উপজেলার এক তৃতীয়াংশ এলাকা বিষখালী নদী বেষ্টিত। এখানকার সিংহভাগ মানুষের জীবিকা কৃষি ও মৎস্য নির্ভর। নদীর তীরবর্তী ২৬ কিলোমিটার এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানি বৃদ্ধি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। পানিবন্দি হয়ে পড়ে শত শত পরিবার। প্রাণহাণি ঘটে মানুষ ও গবাদি পশুর। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও বাগানবাড়ির। প্রলঙ্করী সিডরে সবকিছু হারিয়ে বিগত এক যুগেও এর ক্ষত কাটিয়ে উঠতে পারেনি কাঁঠালিয়াবাসী।

এরপর আয়লা ও মহাসেনের পরবর্তী ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে পাল্টে দিয়ে গেল কাঁঠালিয়ার চিত্রপট। বুলবুলের প্রভাবে ভারি বর্ষণ, দমকা হাওয়া ও নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৫-৭ ফুট বৃদ্ধির কারণে পাঁচ টিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এছাড়া গাছ উপড়ে পরে দুই শতাধিক বসতঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত, অসংখ্য মাছের ঘের, ধান-পান-কলা ও ফসলের ক্ষেত, কাঁচা রাস্তাঘাট ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকন্দ মোহম্মদ ফয়সাল উদ্দীন বলেন, ব্যাপক প্রচারণার কারণে বুলবুলের আঘাতে কাঁঠালিয়ায় কোনো প্রাণহাণি ঘটেনি। তবে গাছ উপড়ে পরে দুইশ বসতঘর বিধ্বস্ত, পাঁচ কিলোমিটার এলাকার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১৭৭টি মাছের ঘের ও পুকুর, ৯০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, ২৮৭ একর জমির ধান, পান, কলা ও সবজি ফসল এবং ৩০ লাখ টাকা মূল্যের গাছের ক্ষতি হয়েছে।