আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজে অনিয়ম

ঢাকা, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২ পৌষ ১৪২৬

আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজে অনিয়ম

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ১২:৪০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৯, ২০১৯

print
আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজে অনিয়ম

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ‘যার জমি আছে ঘর নেই’ গৃহ নির্মাণ আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় ২৮২ টি ঘর নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের বরাদ্ধের কাজ চলতি অর্থবছরেও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদাররা। এমনকি আলোর মুখ দেখতে পায়নি তালিকায় যাদের নাম আছে। সাব-ঠিকাদার নিয়োগেও পাওয়া গেছে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্প ‘যার জমি আছে ঘর নেই’ আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় মির্জাগঞ্জে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ২৮২টি ঘর এর বিপরীতে ত্রাণ ও পূর্নবাসন মন্ত্রাণালয় থেকে দুই কোটি ৮২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই অর্থ বছরে কাজ শুরু না করে জুন ক্লোজিংয়ের নামে অর্থ ফেরৎ যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পিআইওর যোগসাজসে সস্পূর্ণ টাকা উত্তোলন করে ব্যাংকে যৌথ এ্যাকাউন্টে রাখেন।

ওই সময়ে কর্মরত পিআইও এসএম দেলোয়ার হোসেন ও ইউএনও অফিসে কর্মরত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মিরাজুল ইসলামের সহায়তায় নিয়োগ দেওয়া হয় তাদের পছন্দের ঠিকাদার সাবেক ইউপি সদস্য মাহাবুবুর রহমান মালেক ও ইউপি সদস্য বারেক মিয়াকে। মাহাবুবুর রহমান মালেক মিরাজের আপন বোনের জামাই ও বিএপির শাসন আমলে মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিলেন।

নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে মালেক ১০৭টি, ইউপি সদস্য বারেক ১০৩টি ও ছয় ইউপি চেয়ারম্যান ৭২টি ঘরের কাজের দায়িত্ব দেন তারা সাব ঠিকাদার আবদুল বারি (বারেক) ও মাহাবুবুর রহমান মালেক বলেন, প্রতিটি ঘরে বরাদ্ধ কম থাকার কারণে উপকার ভোগীদের কাছ থেকে পরিবহন খরচ নেওয়া হয়েছে। এটা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা স্যার আমাদের নিতে বলেছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, এ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা অনেক আগেই। তবে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের কাজ দুই বছরেও কেন শেষ হয়নি তা আমি জানি না। এমনকি এ প্রকল্পের ফাইলটি আমার অফিসে পাওয়া যায়নি। তবে শুনেছি এ প্রকল্পের ফাইলটি উপজেলা নির্বাহী অফিসের অফিস সহকারী মিরাজুল ইসলামের কাছে রয়েছে।

এ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে ঠিকাদার ও ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দিয়েছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরোয়ার হোসেন বলেন, এ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত প্রকল্প। প্রকল্পে যেসব ঘর এখনও অসমাপ্ত রয়েছে তা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে তালিকা তৈরী করে অতি দ্রুত ঘর নির্মাণের জন্য নিদের্শ দেওয়া হয়েছে।