কাউখালীতে ভাসমান হাট

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬

কাউখালীতে ভাসমান হাট

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি ৭:১২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯

print
কাউখালীতে ভাসমান হাট

পিরোজপুরের কাউখালীতে জমে উঠেছে ভাসমান আমন ধানের চারা কেনা বেচার হাট। কাউখালী উপজেলার চিরাপড়া নদীর ব্রিজের নিচে ভাসমান এই হাট সপ্তাহে শুক্রবার ও সোমবার ভোর থেকেই বসছে আমন চারা বিক্রীর হাট। গত বছরের তুলনায় এ বছর আমন ধানের চারার দাম একটু বেশী। তারপরেও ক্রেতারা তাদের জমিতে চারা রোপনের জন্য বাধ্য হয়েই বেশী দামে চারা কিনছেন।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, কাউখালী উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী এলাকায় এখন চলছে আমন ধান আবাদের মৌসুম। কৃষকরা এখন মাঠের পরিচর্যা করে চারা লাগানোর ব্যস্ত সময় পার করছেন। মৌসুমের শুরুতে টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বীজতলায় জলাবদ্ধতার কারণে অধিকাংশ কৃষকেরা সময় মত চারা উৎপাদন করতে পারেননি।

কৃষকেরা সকল প্রতিকূলতা পেরিয়ে নতুন উদ্যোমে শুরু করেছে আমন আবাদ। তাই কৃষকরা আমন ধানের চারা কিনতে ছুটছেন কাউখালীর চারার হাটে। কাউখালী উপজেলার বেশীরভাগ জমি অন্যান্য এলাকার তুলনায় উঁচু ও নদী বেষ্টীত হওয়ায় এখানে জলাবদ্ধতা নেই বললেই চলে। তাই বীজ তলা নষ্ট হয় না। এ কারণে অন্যান্য এলাকার কৃষক আমন ধানের চারার সংকট কাটাতে কাউখালী চারার হাটে আসেন।

কাউখালী চারার হাটে চারা সংগ্রহ করতে আসেন ভান্ডারিয়া, নাজিরপুর, নেছারাবাদ, রাজাপুর, ঝালকাঠী, পিরোজপুর উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। এই হাটে আমন ধানের চারা পোন (৮০ মুঠো) হিসেবে বিক্রী করা হয়। প্রতি পোন চারার মূল্য ৮০০-১২০০ টাকায় বিক্রী হচ্ছে। চারা কিনতে আসা ঝালকাঠীর শ্রমন্তকাঠীর কৃষক রবিন্দ্র নাথ বলেন, বর্তমানে ধানের জমি চাষ করতে শ্রমিক পাওয়া যায় না। আর পাওয়া গেলেও তাদের দৈনিক মজুরী ৬-৭শ টাকা দিতে হয়। এতো টাকা খরচ করে বীজ তলা তৈরি করার চেয়ে চারা কিনে চাষাবাদ করলে অনেক খরচ কম হয়। তাই আমি আমার জমির জন্য কাউখালীর হাট থেকে চারা সংগ্রহ করেছি।

নাজিরপুর উপজেলার কৃষক রফিক মিয়া বলেন, আমাদের এলাকার জমি নিচু এজন্য জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তাই আমরা সময় মত বীজ তলা তৈরি করতে পারি না। এই হাটের চারাগুলো লম্বা ও ভাল মানের তাই আমি এখান থেকে চারা কিনে নিয়ে আমার জমিতে রোপন করি।

কাউখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী আজিম শরীফ বলেন, এই এলাকার জমি একটু উঁচু ও নদী বেষ্ঠিত হওয়ায় জমিতে পানি জমতে পারে না। তাই এখানকার কৃষকরা সময় মতো আমন ধানের চারার বীজতলা তৈরী করতে পারেন।

কাউখালী আমন ধানের চারা ভালো ও লম্বা হওয়ায় পোকামাকোরের আক্রমন হয়না। তাই কৃষকদের কাউখালীর আমন ধানের চারার উপর আগ্রহ বেশী।