পায়রা নদীর ভাঙনে হুমকিতে আমতলী

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১ আশ্বিন ১৪২৬

পায়রা নদীর ভাঙনে হুমকিতে আমতলী

জয়নুল আবেদীন, আমতলী (বরগুনা) ৫:৫০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৯

print
পায়রা নদীর ভাঙনে হুমকিতে আমতলী

পায়রা নদীর ভাঙনে শহর রক্ষা বাঁধের সিসি ব্লক সরে যাওয়ায় ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে বরগুনার আমতলী পৌর শহর। ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে বিলিন হয়ে যাবে পাউবো অফিস, খাদ্যগুদাম, মুক্তিযোদ্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লঞ্চঘাট ও ফেরিঘাটসহ শতাধিক স্থাপনা।

জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে আমতলী পৌর শহরকে পায়রা নদীর ভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় ফেরীঘাট এলাকা থেকে পাউবোর অফিস পর্যন্ত ১২০০ মিটার শহর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের অধিনে সিসি ব্লক ফেলে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ওই সময় নিম্নমানের কাজ করায় অল্পদিনে মধ্যেই ব্লক সরে যেতে থাকে। ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, মহাসেন ও রোয়ানুর প্রভাবে আমতলী পৌর শহর সংলগ্ন পায়রা নদীর সিসি ব্লক সরে ও ভেঙে যায়।

এতে ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট, কাঠপট্রি, পুরাতন লঞ্চঘাট, শ্মশানঘাট ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকা নদী বক্ষে বিলিন হওয়ার উপক্রম হয়। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০১৪ সালে সিডর প্রকল্পের আওতায় আমতলী পৌরশহরকে পায়রা নদীর ভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় ১২০০ মিটার ব্লক মেরামতের কাজ অন্তর্ভুক্ত করে।

বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এমবিইএল ১১৫ মিটার পায়রা নদীর তীর সংরক্ষনে সিসি ব্লক সংস্কার করে। অবশিষ্ট কাজ না করেই চলে যায়। এতে আরও হুমকির মুখে পড়ে পৌর শহর। গত ২১ বছর সংস্কার না করায় পায়রার ভাঙনে অধিকাংশ ব্লক নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। তাই আমতলী পৌরশহরকে পায়রা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় দ্রুত শহর রক্ষা বাঁধ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আমতলী পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান বলেন, পায়রা নদীর ভাঙনে প্রতিদিনই পৌরশহরের আয়তন ছোট হচ্ছে। ভাঙনে বহু স্থাপনা হুমকির মুখে পরেছে। পুরাতন সিসি ব্লক সরে নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। দ্রুত শহর রক্ষা বাঁধ সংস্কার করা না হলে ভাঙনের ভয়াবহতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আজিজুর রহমান বলেন, শহর রক্ষা বাঁধের পঞ্চম স্তরের প্রজেক্টে আমতলী পৌর শহর রক্ষায় পায়রা নদীর ব্লক সংস্কার ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকা থেকে বৈঠাকাটা পর্যন্ত প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।