পাউবোর বিরুদ্ধে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১ আশ্বিন ১৪২৬

ঝালকাঠি-শেখেরহাট সড়ক

পাউবোর বিরুদ্ধে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ

শফিউল আজম টুটুল, ঝালকাঠি ৯:৪৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০১৯

print
পাউবোর বিরুদ্ধে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ

ঝালকাঠির গাবখান নদীর ভাঙনে ঝালকাঠি-শেখেরহাট সড়ক ধসের কারণে প্রায় অর্ধকোটি টাকা পাইলিংয়ের জন্য বরাদ্দ পায় পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু ঠিকাদার নিয়োগ না করেই ৫০ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে। এদিকে, নদীভাঙনে সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক স্থানে বাঁশ দিয়ে পাইলিং দেওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী ভাঙনের পাইলিং বাঁশ দিয়ে করায় এই লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ছয় কিলোমিটার এই সড়কে জরুরি ভিত্তিতে পাইলিংয়ের জন্য সাতটি প্যাকেজে ১২টি অংশের পাইলিংয়ের জন্য এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিপিএম পদ্ধতিতে কাগজে কলমে ঠিকাদারের মাধ্যমে এই কাজ করার কথা বললেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। এদিকে, বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজেরাই দায়সারাভাবে এই কাজ করে বরাদ্দ অর্থ লুটপাটের পাঁয়তারা করছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের গত সপ্তাহে জরুরি ভিত্তিতে গাবখান নদীর ভাঙনে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়া এই সড়কটি রক্ষায় পাইলিংয়ের জন্য ৪৯ লাখ ৭৪ হাজার ৫৯১ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তাছাড়া এলজিইডি বিভাগের আওতায় ৬ কিলোমিটারের এই সড়কটি সংস্কারের জন্য অনেক আগেই প্রায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ এসেছে। কিন্তু সড়কটির ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থ্যা না নেওয়ায় সেই টাকা কোনো কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

গাবখান নদী তীরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পাইলিং কাজের ঠিকাদারের কোনো লোক নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্য সহকারী রায়হান খান কাজ দেখা শোনা করছেন। তিনি জানান, সাময়িক এবং জরুরি কাজের জন্য এই মুহূর্তে কোনো ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড এই কাজের সার্বিক পরিচালনা করছে। এ সময় সেখানে রাস্তার ভাঙনকূলে বাঁশ দিয়ে পাইলিং কাজের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা কোনো স্থায়ী কাজ নয়। সাময়িক কাজ হওয়ায় বাঁশ ও গাছ দিয়ে পাইলিং দেওয়া হচ্ছে।

গাবখান এলাকার বাসিন্দা তপন তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা আ. শুক্কুর ও কৃষক নাসির হাওলাদার বলেন, এই পাইলিং কোনো কাজে লাগবে না। কারণ বাঁশ কিছু দিন পরই পচে নষ্ট হয়ে যাবে। তাছাড়া পাইলিংয়ের বাঁশের গোড়ার মাটি সরে গিয়ে এবং ভেতরে ফেলা বালুর ব্যাগের চাপে নদীতে পাইলিং ও সড়ক দুটোই ধসে পড়বে।

পাউবোর ঝালকাঠির নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আতাউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাইলিংয়ের এই কাজ করা হচ্ছে। অস্থায়ীভাবে জরুরি ভিত্তিতে এই পাইলিংয়ের কাজ করায় এতে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কাছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম এবং কার্যাদেশ না থাকার কারণ কি জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।