পায়রা নদীতে ভাঙন

ঢাকা, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পায়রা নদীতে ভাঙন

হুমকিতে কাকড়াবুনিয়া বাজার ও লঞ্চঘাট

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ৬:০৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০১৯

print
পায়রা নদীতে ভাঙন

পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাকড়াবুনিয়া লঞ্চঘাট এলাকাসহ বাজারটি পায়রার নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে। কয়েক বছর আগে লঞ্চঘাটের যাত্রী ছাউনিসহ কয়েকটি বসতঘর ও দোকানঘর ভেঙে নদীতে বিলীন হয়েছে। ইতিমধ্যে কাকড়াবুনিয়া বাজারের পূর্ব পাশে পায়রার নদীর পাড়ের ১০-১৫টি বাড়ীঘর, দোকান ও বাড়িগুলো সড়িয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, পায়রা নদীর পায়রাকুঞ্জ ফেরীঘাট এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় পিঁপড়াখালী গ্রামটিসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, পিঁপড়াখালী বাজার ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ বাজারে প্রায় ৩ শতাধিক দোকানপাট ছিলো। এখন বেড়িবাঁধের ওপর ৪-৫টি দোকান রয়েছে। অন্যরা স্থান নিয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। উপজেলাটি পায়রা নদীর তীরবর্তী হওয়ায় কারণে ভাঙনের মাত্র বৃদ্ধি পাওয়ায় ছোট হয়ে যাচ্ছে মির্জাগঞ্জের মানচিত্র।

পায়রার অব্যহত ভাঙনে ইতিমধ্যে উপজেলার গোলখালী, চরখালী, রানীপুর, হাজীখালী, মেন্দিয়াবাদ, সাতবাড়িয়া, কাকড়াবুনিয়া বাজার, ভয়াং, মনোয়ারখালী, কলাগাছিয়া, পিঁপড়াখালী, রামপুর এবং ভিকাখালী বাজার, সুন্ড্রা বাজার ও কাকড়াবুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ গ্রামের ঘরবাড়ি এবং ফসলী জমি পায়রা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অনেক পরিবার ভিটে মাটি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে।

কাকড়াবুনিয়া বাজারের ভাঙন কবলিত ঘরের শিরিন বেগম জানান, পায়রা নদীর ভাঙনে আমরা একাধিকবার ঘর অনত্র সরিয়ে নিয়েছি। আমার ঘরের পূর্ব পাশে আরও কয়েকটি ঘর ছিলো তা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। যদি সরকারিভাবে কাকড়াবুনিয়া বাজার ও কাকড়াবুনিয়া লঞ্চঘাট রক্ষার ব্যাপারে বস্তায় মাটি দিয়ে নদীর তীরে বাঁধ দিলে ভাঙন থেকে রক্ষা পেত।

উপজেলার মজিদবাড়িয়া ও কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের জেলে সমিতির সভাপতি আলী আকব্বর জানান, আমার এ পর্যন্ত ১১২০ শতাংশ জমি (স্থানীয় ৭ কানি) জমি পায়রা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সয়-সম্পত্তি হারিয়ে পায়রা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। এ বছরে যে নদী ভাঙন হয়েছে তা আমার বৃদ্ধ বয়েসেও দেখিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেন জানান, কাকড়াবুনিয়া বাজার ও লঞ্চঘাট এলাকা পায়রা নদীতে ভেঙে যাওয়ার ব্যাপারে আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং যাত্রীদের ওঠা-নামার জন্য পল্টুনটি রক্ষায় সড়ক ও জনপদ বিভাগে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসানুজ্জমান জানান, পায়রা নদীর ভাঙন রোধে বড় একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এ সমস্যা আর থাকবে না আশা করছি। তবে কাকড়াবুনিয়া বাজার ও কাকড়াবুনিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় পায়রা নদীতে ভেঙে যাচ্ছে সে লক্ষে লোক পাঠিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।