জেলে মানসিক চাপে মিন্নি, বাবা-মাকে জেরার দাবি রিফাতের বাবার

ঢাকা, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

জেলে মানসিক চাপে মিন্নি, বাবা-মাকে জেরার দাবি রিফাতের বাবার

বরগুনা প্রতিনিধি ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০১৯

print
জেলে মানসিক চাপে মিন্নি, বাবা-মাকে জেরার দাবি রিফাতের বাবার

রিফাত শরীফকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি কারাগারে মানসিক চাপে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন বরগুনা সিভিল সার্জন দফতরের চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, মিন্নি কিছুটা মানসিকভাবে চাপে থাকলেও দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। এদিকে পুত্রবধূ মিন্নির বাবা-মাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন নিহত রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ।

গতকাল (২৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বরগুনা কারাগারে মিন্নিকে চিকিৎসাসেবা দিতে যান ডা. মো. হাবিবুর রহমান ও উম্মে সোলায়মান তাহিরা। সেখান থেকে বেরিয়ে ডা. হাবিবুর সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিন্নি তেমন কোনো গুরুতর অসুস্থ নন, একটু শারীরিক ব্যথা-বেদনা থাকতে পারে। এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল তাই মানসিকভাবে একটু চাপে আছেন। ভয় বা দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। তিনি ভালো আছেন।’

তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে এই চিকিৎসক জানান, তেমন কোনো কিছু দেখা যায়নি। তা ছাড়া মিন্নিও তেমন কিছু বলেননি। তবে তার ঘুম কম হচ্ছে। আমরা কারা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি তিনি যতটুকু বিশ্রাম নিতে চান তা যেন নিতে পারেন। জেল কর্তৃপক্ষও বিষয়টি দেখবে বলে জানিয়েছে।

এদিকে হত্যার ঘটনায় মিন্নির বাবা-মাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ। শুক্রবার বরগুনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। দুলাল শরীফ বলেন, ‘মিন্নি ও তার পরিবার প্রতারক। মেয়েকে বাঁচানোর জন্য তার পরিবার মামলাটি পিবিআইতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমি মিন্নির বাবা-মাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানাচ্ছি।’

এদিকে জেলগেটের সামনে বসে আবারও মিন্নির উন্নত চিকিৎসার দাবি জানান তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। তবে চিকিৎসক যখন সাংবাদিকদের সঙ্গে মিন্নির বিষয়ে কথা বলছিলেন তখন মোজাম্মেল হোসেন কিশোর পাশেই ছিলেন। কিন্তু তিনি চিকিৎসকের কাছে মিন্নির বিষয়ে কিছুই জানতে চাননি বা তার কথার কোনো প্রতিবাদও করেননি।

গত ২৬ জুন রিফাতকে প্রকাশ্যে সড়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে দুলাল শরীফের অভিযোগের পর গ্রেফতার মিন্নি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
তবে মিন্নির বাবার অভিযোগ, নির্যাতন করে জবানবন্দি দিতে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু এ অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ।

এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত সাতজনসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা সবাই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড গত ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।