রিশান ফরাজী ৫ দিনের রিমান্ডে

ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬

রিফাত হত্যাকাণ্ড

রিশান ফরাজী ৫ দিনের রিমান্ডে

বরগুনা প্রতিনিধি ১১:১০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০১৯

print
রিশান ফরাজী ৫ দিনের রিমান্ডে

বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তৃতীয় আসামি রিশান ফারাজীর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার সকালে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে রিশান ফরাজীকে গ্রেফতারের পর শুক্রবার সকালে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে শুনানি শেষে আদালত রিশান ফরাজীর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিফাত হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির জানান, এ মামলার তিন নাম্বার আসামি রিশান ফরাজীকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে শুনানি শেষে আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে ১২ জন অভিযুক্ত রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া এ মামলার তিনজন অভিযুক্ত রিমান্ডে রয়েছেন।

পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন জানান, আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী মিন্নিসহ এখন পর্যন্ত ১৬ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়াও মামলার প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

গ্রেফতারদের মধ্যে ১২ জন রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়াও এ মামলার তিনজন অভিযুক্ত রিমান্ডে রয়েছেন।

এদিকে রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতারের পর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গত বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেলে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিফাত হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য গত মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে মিন্নিকে তার সদর উপজেলার দক্ষিণ মাইঠা এলাকার বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ নিয়ে যায়। রাত ৯টার দিকে তাকে গ্রেফতার দেখায়।

সেদিন রাত সোয়া ৯টায় সংক্ষিপ্ত এক সংবাদ সম্মেলনে বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন জানান, দিনব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এবং এর আগেও দীর্ঘ সময় ধরে প্রাপ্ত তথ্যাদি পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিন্নির সংশ্লিষ্টতা প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। তাই মামলার মূল রহস্য উদঘাটন এবং সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রসঙ্গত, রগুনা সরকারি কলেজের পাশে গত ২৬ জুন (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে চলে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় বরগুনার পুরাকাটা এলাকায় গত ২ জুলাই ভোররাতে বন্দুকযুদ্ধে এ মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড নিহত হয়।

নিহত নয়ন বন্ড বরগুনা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পশ্চিম কলেজ রোড এলাকার মৃত মো. আবুবক্কর সিদ্দিকের ছেলে এবং রিফাত শরীফ হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি ছিলেন।