রুদ্ররূপে আগুনমুখা

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

রুদ্ররূপে আগুনমুখা

আল আমিন, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ৭:৩৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৯

print
রুদ্ররূপে আগুনমুখা

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বিছিন্ন দ্বীপ চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নটি আগুনমুখার ভাঙনের গ্রাসে চার গ্রামের ভৌগোলিক চিত্র থেকে মুছে ভিটেবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে কেউ হচ্ছে ভূমিহীন, কেউবা নিঃস্ব। প্রতিনিয়ত তাদের আর্তনাদে এখানকার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে রয়েছে। এর মধ্যেও যারা টিকে আছে, বেড়িবাঁধ বিলীন হওয়ায় তারাও জোয়ারে ডুবছে আর ভাটায় ভাসছে। অথচ তাদের রক্ষায় কেউ এগিয়ে আসছে না।

সরেজমিন ভাঙনকবলিত চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর চালিতাবুনিয়া, মধ্য চালিতাবুনিয়া, বিবির হাওলা ও গোলবুনিয়া গ্রামে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে। ভাঙনের পূর্বে ছিল অসংখ্য বসতি। আর আজ? কেউ হয়েছেন নিঃস্ব। কেউ সব হারিয়ে ভিখারি। জমি জমার মালিক একরাতেই হয়ে গেছেন দিনমজুর। এদের মধ্যে কেউ উঁচু জায়গায় গিয়ে বসতি গড়েছেন, কেউ আবার নিজ এ জন্মভূমি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

এখন ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন উত্তর চালিতাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা আমেনা বেগম। স্বামী সমশের আলী, পেশায় জেলে। ছেলে-মেয়েসহ চার সদস্যের সংসার। এর আগেও দুইবার ভাঙনে তার ভিটেবাড়ি বিলীন হয়ে যায়। নতুন করে সংসার গোছানো শুরু করতে না করতেই আবারও ভাঙনের মুখে।

আমেনা বেগম বলেন, ‘দিনে জোয়ারের সময় বাচ্চা-গাচ্চা নিয়া রাস্তায় যাই। আবার ভাডায় (ভাটায়) ঘরে আই। আবার রাইতের জোয়ার আইলে ঘুমাই না, সজাগ থাহি। কোন সময় যে ঘরডা নদীতে ভাইস্সা যায়, হেই চিন্তায় থাহি।

স্থানীয়রা জানায়, আগুনমুখা নদীর ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ওই ইউনিয়নের উত্তর চালিতাবুনিয়া, মধ্য চালিতাবুনিয়া, বিবির হাওলা ও গোলবুনিয়া গ্রামের প্রায় ৩০টি পরিবার বসত ভিটেবাড়ি হারিয়েছে। এ কয়দিনে ওইসব গ্রামের পাঁচ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তাই জোয়ারের সময় গ্রামগুলোর বসত বাড়িঘর ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়।

চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমজেদ হোসেন বলেন, বেড়িবাঁধ না থাকায় দুই সপ্তাহে চারটি গ্রামে জোয়ারের পানি উঠে ২০ হেক্টর জমির আমন বীজতলা নিমজ্জিত হয়ে আছে। এরমধ্যে ১০ হেক্টর জমির বীজতলা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।

চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, ‘প্রায় ২০ দিনে পাঁচ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ এবং ৩০টি পরিবারের বাড়িঘরসহ ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাই অচিরেই ভুখণ্ড রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তা না হলে আয়তন কমতে কমতে চালিতাবুনিয়া পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।’

কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের বলেন, ‘চালিতাবুনিয়ার বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার কথা শুনেছি। কিন্তু চালিতাবুনিয়ার জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ না পেলে আমরা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারব না। অন্যান্য রাজস্ব খাতে প্রস্তাব দেব।