জেলেকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন

ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬

জেলেকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ১১, ২০১৯

print
জেলেকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন

সাগরে মাছ শিকারে সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে দাদনের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ এক জেলেকে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বরগুনার পাথরঘাটায় গত রোববার মো. জসিম নামে ওই জেলেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে মারধর করেন ট্রলার মাঝি জাকির হোসেন।

পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের হাজিরখাল এলাকার বাসিন্দা জেলে জসিম জানান, চার মাস আগে তিনি পাথরঘাটার ট্রলার মালিক নজরুলের মালিকানাধীন ট্রলারে জেলে শ্রমিক হিসেবে সাগরে মাছ ধরতে আট হাজার টাকা দাদন নিয়েছিলেন। মৌসুমের শুরুতে মাছ ধরায় সরকারি ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ট্রলারের মাঝি জাকির সাগরে যেতে তাড়া দেন। কিন্তু তিনি যেতে রাজি হননি।

রোববার সকালে বাজারে এলে জাকিরের সঙ্গে জেলে জসিমের দেখা হয়। এ সময় জসিমকে লঞ্চঘাটের সায়াদতনগরের ট্রলারের কাছে নিয়ে আসেন জাকির। জাকির টাকা ফেরত চাইলে জসিম ১৫ দিন সময় চান। কিন্তু সময় না দিয়ে অন্য জেলেদের সহায়তায় জাকিরকে শিকল দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত জেলে জসিমকে নির্যাতন করা হয়। খবর পেয়ে ট্রলার মালিকের ছোটভাই আল-আমিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে জসিমকে মুক্ত করে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠান।

ওই ট্রলার মালিক নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মৌসুমে মাঝির দায়িত্বেই ট্রলার নিয়ে মাছ শিকারে যায়। জেলে শ্রমিক জোগাড় ও তাদের দাদন দেওয়াসহ জেলেদের সব দায়-দায়িত্ব থাকে মাঝির ওপর। এ ঘটনা আমি শুনে তাৎক্ষণিক ছোটভাইকে পাঠিয়ে জসিমকে মুক্ত করে চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়েছি। মাঝি জাকির যে ঘটনা ঘটিয়েছে জেলে সমিতির মাধ্যমে এর বিচার হবে।

মাঝি জাকির হোসেন বলেন, জসিম আরও কয়েকটি ট্রলারের দাদন নিয়েছে খবর পেয়েছি। আমাদের টাকা ফেরত চাইলে দিচ্ছিলেন না। তাকে ট্রলারের স্টাফদের কাছে রেখে আমি বাড়িতে গিয়েছিলাম। কে বা কারা বেঁধেছে আমি জানি না।

পাথরঘাটা জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক দুলাল মাঝি জানান, জেলে সমিতিতে ভুক্তভোগী জেলে অভিযোগ করলে সত্যতা মিললে মাঝির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, সাগরে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত জেলেদের বলা হয় শূন্যভাগী। উপজেলায় এমন সংখ্যা প্রায় ২২ হাজার। কোনো পুঁজি ছাড়া শ্রম দিয়ে মাছ ধরে আহরিত লভ্যাংশের বিনিময়ে শ্রমিক হিসেবে চাকরি করেন তারা। মৌসুম শুরুতে শ্রমিকরা ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা দাদন হিসেবে পরিবারের খাই-খরচা নিয়ে থাকেন। মৌসুম শেষে তাদের মজুরি থেকে কেটে নেন মালিক। মৌসুম শেষ হয়নি, ভরা মৌসুমে সাগরে চলছে সরকার ঘোষিত ৬৫ দিনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা। তাই কোনো শ্রমিকের ওপর এমন আচরণ দুঃখজনক।

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হানিফ সিকদার বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলেকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন