আমতলীতে বিশেষ সহায়তা পাচ্ছেন ১৭ হাজার জেলে

ঢাকা, বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ | ১২ আষাঢ় ১৪২৬

আমতলীতে বিশেষ সহায়তা পাচ্ছেন ১৭ হাজার জেলে

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি ৯:১১ অপরাহ্ণ, মে ৩০, ২০১৯

print
আমতলীতে বিশেষ সহায়তা পাচ্ছেন ১৭ হাজার জেলে

বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলার ১৭ হাজার সমুদ্রে মৎস্য আহরণে বিরত থাকা জেলেদের জন্য বিশেষ ভিজিএফ খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এক মাসের জন্য এ বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুই উপজেলার মৎস্য অফিসের নিবন্ধিত ১৭ হাজার ১৬৫ জেলে এ সহায়তা পাচ্ছেন। এ সপ্তাহেই এ চাল বিতরণ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। চাল বরাদ্দের খবরে জেলেদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

তালতলী উপজেলার গাবতলী এলাকার জেলে ছত্তার মিয়া, মোস্তফা সিকদার বলেন, মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাই। সরকার এখন যে সহায়তা দিচ্ছে তাতে কিছুটা হলেও ভালো হবে। তারা আরও বলেন, যত দিন সাগরে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ তত দিন যেন সরকার তাদের এ সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন সেই দাবি জানান তারা।

গুলিশাখালী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, মৎস্য অফিস থেকে নিবন্ধিত জেলেদের তালিকা পেয়েছি। দ্রুত চাল বিতরণ করা হবে। আমতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, উপজেলার ৭৯১০ জন নিবন্ধিত জেলেদের তালিকা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের কাছে দিয়েছি। তারা ওই তালিকা অনুসারে জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করবে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপায়ন দাশ শুভ বলেন, নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে আগামীকালের মধ্যে চাল বিতরণের জন্য নির্দেশ দিয়েছি। আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরোয়ার হোসেন বলেন, জেলেদের বিশেষ ভিজিএফের চাল দ্রুত বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৬৫ দিন ধরে সমুদ্রে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ সময়ে জেলেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জেলেদের মানবতার জীবনযাপনের কথা বিবেচনা করে সরকার নিবন্ধিত সব জেলেদের জন্য এক মাসের জন্য বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এতে প্রত্যেক জেলে ৪০ কেজি করে চাল পাবেন। আমতলী উপজেলায় ৭ হাজার ৯১০ ও তালতলী উপজেলায় ৯ হাজার ২৫৫ জন নিবন্ধিত জেলে এ সহায়তা পাচ্ছেন। গত ২৮ মে বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জেলেদের বিশেষ ভিজিএফের চাল বরাদ্দপত্র উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁছেছে। আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরোয়ার হোসেন এবং তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপায়ন দাশ শুভ দ্রুত চাল বরাদ্দের ছাড়পত্র উপজেলা মৎস্য অফিসারকে দিয়েছেন। আমতলী ও তালতলী উপজেলা মৎস্য অফিস কর্তৃপক্ষ নিবন্ধিত জেলেদের তালিকা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের কাছে দিয়েছেন। ওই তালিকা অনুসারে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ইউনিয়নের নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করবেন। চাল বরাদ্দের খবরে জেলেদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। জেলেরা দাবি করেন, যত দিন সাগরে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ তত দিন যেন তাদের এ সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।