প্রত্মতত্ত্বপ্রেমী এলিজা  

ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬

প্রত্মতত্ত্বপ্রেমী এলিজা  

ছোটন সাহা, ভোলা ৮:০৭ অপরাহ্ণ, মে ৩০, ২০১৯

print
প্রত্মতত্ত্বপ্রেমী এলিজা   

‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ঘুরতে ঘুরতে মনে হলো নিজের দেশটাও ঘুরে দেখি। বিশেষ করে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী প্রত্মতাত্ত্বিক জায়গাগুলো ঘুরতে গিয়ে মনে হয়েছে, গর্ব করার মতো নানা বৈচিত্র্যে ভরপুর এক জনপদ বাংলাদেশ। আমার কাছে স্রেফ ঘুরে বেড়ানো নয়, বরং ইতিহাস, প্রেরণা ঐতিহ্য, শক্তি, সংস্কৃতি, শিক্ষা, আত্মপরিচয়, আর শেকড়ের সন্ধানে এক বিনির্মাণের যাত্রা।’ কথাগুলো বলছিলেন পর্যটক এলিজা বিনতে এলাহী। ৪৩ এর চৌকাঠ পেরুনো এ সাহসী নারী সৃষ্টি করে চলেছেন এক বিরল ইতিহাস। যা অন্যদের কাছে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

নোটবুক, কলম, ক্যামেরা আর মোবাইল নিয়ে ছুটে চলেন তিনি। কখনো সড়কপথে কখনো বা নৌ পথে। ঝুঁকি আর প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে নেই ছুটে চলা।

দেশের প্রত্মতাত্ত্বিক ট্যুরিজমকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বাংলাদেশি বিশ্ব পর্যটক ও লেখক এলিজা বিনতে এলাহী ছুটে চলছেন। শিগরিই দেশের সবকটি জেলা ভ্রমণ করতে চান তিনি।

এলিজা বিনতে এলাহী বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রত্মতাত্ত্বিক বা হেরিটেজের ট্যুরিজমের রয়েছে অপার সম্ভাবনা, কিন্তু সেগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণে তেমন উদ্যোগ নেই। আমি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক জনপদ ঘুরে সেসব স্থানের তথ্য তুলে আনছি। দেশের প্রত্মতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে যা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে শিক্ষা গবেষণার পাশাপাশি দেশে পর্যটনশিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি।

ভ্রমনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এলিজা বলেন, সারা দেশে ছড়িয়ে আছে বহু প্রত্মতাত্ত্বিক স্থাপনা, যা হেরিটেজ ট্যুরিজমকে করতে পারে সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময়। এসব ঐতিহ্যের স্থাপনাগুলোকে সংরক্ষণ ও সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির কাজে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার ভ্রমণ করছি।

এলিজা বিনতে এলাহী ১৯৯৯ সাল থেকে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো ভ্রমণ শুরু করেন। যা এখনো অব্যাহত আছে। গত ২০ বছরে এ পর্যন্ত ইউরোপ ও এশিয়ার ৪৬টি দেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা ভ্রমণ সমাপ্ত করেন। ২০১৬ সাল থেকে হেরিটেজ ট্যুর শুরু করেন তিনি। এখন পর্যন্ত ভোলাসহ মোট ৪৯টি জেলার প্রত্মতাত্তিক স্থান ভ্রমণ ও তথ্য সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করেন।