বরগুনায় ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের নদী পারাপার

ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

বৈরী আবহাওয়া

বরগুনায় ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের নদী পারাপার

বরগুনা প্রতিনিধি ৯:৪৯ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৮

print
বরগুনায় ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের নদী পারাপার

বরগুনার বিভিন্ন নদীতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে পারাপার হচ্ছে যাত্রীরা। ফলে প্রায়ই ট্রলারডুবির ঘটনায় জীবন হারাতে হচ্ছে অনেককেই। অথচ জেলার পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর এই তিনটি নদীর প্রায় ১৫টি পয়েন্টে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী পারাপার হয়। বর্তমানে ঝড়ের মৌসুমেও এই পয়েন্টগুলো দিয়ে কোনো রকম যাত্রী সুরক্ষা, বয়া বা লাইফ জ্যাকেট না পরিয়ে যাত্রীদের ট্রলারে পারাপার করে ঘাট ইজারাদার ও ট্রলার মালিকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরগুনা জেলায় বেতাগী উপজেলার কচুয়া-বেতাগী, মোকামিয়া-কাঁঠালিয়া, বামনা উপজেলার বামনা-বদনীখালী, খোলপটুয়া-সরিষামুড়ি, রামনা-ফুলঝুড়ি, পাথরঘাটা উপজেলার বাইনচটকী-বড়ইতলা, পাথরঘাটা-নিশানবাড়িয়া, বরগুনা সদরের চালিতাতলী-বগি, পচাকোড়ালিয়া-গোলবুনিয়া, তালতলী উপজেলার তালতলী-বালিয়াতলী, তালতলী-লতাচাপলীসহ ছোট-বড় কয়েকটি নদী পারাপারের স্থান রয়েছে।
সরেজমিন কয়েকটি খেয়াঘাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রমত্তা পায়রা ও বিষখালী নদী পার হচ্ছে যাত্রীরা। ছোট ছোট ট্রলারে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছে এসব খেয়া ট্রলার। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও এই প্রমত্তা নদী দিয়ে যাত্রীবোঝাই ট্রলার চালিয়ে এপার থেকে ওপারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাছাড়া একটি ট্রলারে শুধু যাত্রী পরিবহন নয় মোটরসাইকেল, এমনকি গবাদিপশুও পরিবহন করা হয়। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ও আবহাওয়া সংকেত না মেনে এই সকল খেয়া পারাপারে প্রতিবছরই ঘটে দুর্ঘটনা। কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বন্ধ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পারাপার বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
বামনা শহরের বাসিন্দা সাবু সিকদার জানান, পরিবারের প্রয়োজনে তাকে বামনা উপজেলা সদরে বসবাস করতে হয়। কিন্তু চাকরির সুবাদে প্রতিদিন তাকে বরগুনা জেলা শহরে যেতে হয়। তাই যাতায়াতের জন্য তাকে নানা দুর্ভোগের মধ্যে বামনা-ফুলঝুড়ি খেয়াঘাট পার হতে হয়। তাছাড়া প্রতিদিন এ রুটে কয়েক হাজার যাত্রী চলাচল করে।
জনস্বার্থে এখানে একটি ফেরিঘাট খুবই প্রয়োজন।
তালতলী উপজেলার দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিনিধি আরিফ হোসেন ফসল জানান, বগীর খেয়া দিয়ে প্রতিদিন যে পরিমাণ যাত্রী বরগুনা ও বরগুনা থেকে বগী হয়ে তালতলীতে আসেন তাতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সরকারের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
বরগুনা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা স্বপন কুমার ব্রক্ষ বলেন, খেয়াঘাটে সচেতনতায় আমাদের কোনো কর্মসূচি নেই। তবে দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা যথাসাধ্য ত্রাণ সহায়তার চেষ্টা করব। বরগুনা জেলা প্রশাসক মোখলেচুর রহমান বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে খেয়া পারাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে এই নির্দেশ না মানা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।