নির্মাণ শুরুর আগেই কাজের মেয়াদ শেষ

ঢাকা, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১০ আশ্বিন ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

নির্মাণ শুরুর আগেই কাজের মেয়াদ শেষ

ইউসুফ আলম সেন্টু, বাউফল (পটুয়াখালী)
🕐 ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৭, ২০২২

নির্মাণ শুরুর আগেই কাজের মেয়াদ শেষ

বাউফলে উপজেলার বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় তৈরির মেয়াদকাল শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কাজই শুরু হয়নি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে কায়না-বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ নামের একটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে এলজিইডি।

১৮ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পটির নির্মাণকাজের মেয়াদ শেষ হয়। অথচ এখন পর্যন্ত কোনো কাজই শুরু করেনি ঠিকাদার। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফ আলী খান বলেন, ২টি শ্রেণিকক্ষে দেড়শ’ ছাত্রছাত্রী গাদাগাদি করে বসিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে। একই অবস্থা পূর্ব দাসপাড়া আমেনা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ওই বিদ্যালয়ে ১ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য মাসুদ অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের একটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে এলজিইডি।

গত ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো কাজই শুরু করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের ২ শতাধিক ছাত্রছাত্রীকে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শারমিন আরা চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর ক্ষুদ্র ও রুটিন মেরামতের অর্থে জরাজীর্ণ ভবন জোড়াতালি দিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। নতুন ভবনটি দ্রুত নির্মাণ করা না হলে পাঠদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে। 

একই তারিখে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা তালতলী-ভরিপাশা, ভাংড়া ভিডিসি, সুলতানাবাদ উত্তর নাজিরপুর, পূর্ব বামনিকাঠী সরকারি ও পশ্চিম ভরিপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ২০২১ সালের ১ নভেম্বর চরওয়াডেল এবং ১৪ অক্টোবর উত্তর মধ্য রাজাপুর ও মদনপুরা দরগাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। এছাড়াও নির্ধারিত সময়ে মান্দারবন জোমাদ্দার বাড়ি, পশ্চিম সন্যাসী কান্দা, দক্ষিণ-পূর্ব মনদপুরা, আড়াইনাও, দক্ষিণ রাজাপুর ও ইন্দ্রকূল চৌমুহনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।

এদিকে বগা ইউনিয়নের পশ্চিম কায়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেজমেন্ট নির্মাণ করে ৩ বছর ধরে ফেলে রেখেছেন ঠিকাদার। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে এসএইচ এন্টারপ্রাইজ দেড় কোটি টাকা চুক্তিতে প্রকল্পটির কাজ শুরু করে।
এ প্রসঙ্গে বাউফল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, নতুন ভবণ নির্মাণ না হওয়ায় এবং পুরাতন ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করায় ওইসব বিদ্যালয়ের পাঠদান বিঘ্নিত হচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দেবাশীষ ঘোষ বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে অস্বাভাবিক পরিবেশে আমার ছাত্রছাএীরা ও শিক্ষকরা অনেক কষ্ট করে পাঠদান করছেন।

এ প্রসঙ্গে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী সুলতান হোসেন বলেন, নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি এবং করোনার অজুহাত দিয়ে ভবণগুলোর নির্মাণকাজ শুরু করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। চুক্তির পরে নির্মাণকাজ শুরুর জন্য প্রত্যেক ঠিকাদারকে চিঠি দিয়ে একাধিকবার বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাজ শুরু না করায় আমরা বিব্রত। চুক্তি ভঙ্গ করায় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 
Electronic Paper