বিকল্প কাজ নেই ৫০ হাজার জেলে-শ্রমিকের

ঢাকা, শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২ | ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

বিকল্প কাজ নেই ৫০ হাজার জেলে-শ্রমিকের

ইমরান হোসাইন, পাথরঘাটা (বরগুনা)
🕐 ৩:১৩ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২২

বিকল্প কাজ নেই ৫০ হাজার জেলে-শ্রমিকের

দেশের সামুদ্রিক মাছে সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন ও সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের জন্য সাগরে মাছধরা নিষেধ। আজ শুক্রবার মধ্যরাত থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এ সময় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে মৎস্য বিভাগ, নৌবাহিনী, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড।

এদিকে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়বেন উপকূলীয় পাথরঘাটার প্রায় ৫০ হাজার জেলে ও শ্রমিকরা। অভাব-অনটন আর সংকটের মধ্যে পড়বেন তারা। পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে দিন কাটাবেন সে চিন্তায় দিশাহারা হয়ে পড়ছেন জেলেরা। প্রতিবছর মৌসুমের শুরুতে জেলেরা বোট ও জাল মেরামত করে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতির ঠিক সময়ে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে জেলেরা তাদের ট্রলার নিয়ে উপকূলে ফিরে আসছেন।

দেশের জলসীমায় ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা দিলেও পাশর্^বর্তী দেশ ভারতের জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমানায় অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে সরকারের নিষেধাজ্ঞা না মেনে বঙ্গোপসাগরসহ উপকূলীয় এলাকায় এসে ছোট-ছোট মাছ শিকার করে নিয়ে যায় এমন অভিযোগ করে সরকারের কাছে এগুলো বন্ধের দাবি জানিয়েছেন মৎস্যজীবীরা।

পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞার কারণে নিবন্ধিত জেলেদের সহায়তা করবেন সরকার। পাথরঘাটায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ১১ হাজার ৪১১ জন। নিবন্ধিত প্রত্যেক জেলে দুই ধাপে ৮৬ কেজি সরকারের বরাদ্দকৃত চাল পাবেন।

গতকাল দেশের বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র (বিএফডিসি) বরগুনার পাথরঘাটায় দেখা যায়, সাগরে ইলিশ ধরতে যাওয়া উপজেলার প্রায় সব এলাকার জেলেদের ট্রলার ঘাটে অবস্থান করেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কিছু জেলেরা সাগরে থাকলে তারাও ঘাটের উদ্দেশ্যে ফিরছেন বলে জানা গেছে। এ সময় জেলেদের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, প্রতি বছর বছর ইলিশের মৌসুম শুরুতেই ইলিশ শিকারে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এতে উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার জেলে ও শ্রমিককে না খেয়ে জীবনযাপন করতে হয়। নিবন্ধিত জেলেদের সরকার চাল দিলেও অনিবন্ধতিত জেলে ও শ্রমিকরা কোনো সহায়তা পান না।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, জেলেরা আইন মেনে মাছ শিকার বন্ধ রাখলেও ভারতীয় জেলেরা আমাদের জলসীমায় এসে মাছ শিকার করে নিয়ে যায়। অন্যদিকে কিছু অসাধু জেলেরা নিষিদ্ধ বেহুন্দী, গড়া, বাঁধা, ঘোপ জাল দিয়ে ছোট মাছ শিকার করছেন। এগুলো বন্ধ করা না গেলে দিন দিন ইলিশ মাছের পরিমাণ কমে যাবে।

পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার (অপু) বলেন, ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই ৬৫ দিন সাগর ও মোহনায় মাছধরা সম্পূর্ণ নিষেধ। সাগর ও মোহনায় মাছ ধরায় নিয়োজিত সব নৌযান ও জেলেকে নিজ নিজ ঘাটে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আগে তেমন ইলিশ ধরা না পড়লেও নিষেধাজ্ঞার পরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে এমনটা আশা করছেন মৎস্য বিভাগ।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদ বলেন, এ আইন বাস্তবায়নে মৎস্য অধিদপ্তর, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে ব্যাপকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চলবে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ও জেলেদের উপকারের স্বার্থেই সরকারের এ আইন। আইন অমান্য করলে সামুদ্রিক মৎস্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 
Electronic Paper