উৎসাহ

ঢাকা, রবিবার, ২২ মে ২০২২ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

উৎসাহ

বিশ্বজিৎ দাস
🕐 ৩:৩৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০২১

উৎসাহ

‘শুনছ?’ ফিসফিস করে ডাকল মনিকা।
পরীক্ষা হলো। কলেজের বার্ষিক পরীক্ষা চলছে। করোনার ভীতি কাটিয়ে আবার শুরু হয়েছে পড়াশোনার পালা।
নামেই পড়াশোনা। পড়তে বসলেই মনিকা চোখের সামনে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ আর বায়োলজি বইগুলোর ছবি নাচতে থাকে। যেন বলে, আমাকে পড় আমাকে পড়।

বেচারি মনিকা কাকে ছেড়ে কাকে পড়বে ভাবতে ভাবতেই সময় পার হয়ে যায়।
প্রতিদিন রাতে ভাবে খুব সকালে উঠেই পড়তে বসবে।
সকালে দেরি করে ঘুম থেকে উঠেই ভাবে আজ রাতেই পড়া জমবে ভালো। এই করেই দিনগুলো কেমন কেমন করে যেন কেটে গেল।
মাঝে তো ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছিল মনিকা।
ক্লাস, প্রাইভেট সব কিছু বাদ দিয়েছিল দিন সাতেকের জন্য।
বাসা থেকে বের হবে না। শুধুই পড়বে।
ঠিক করেছিল ছয়দিনে পুরো ফিজিক্স বই পড়ে শেষ করবে। ছয়দিন কাটতে সময় লাগেনি।
ছয় লাইন পড়াও হয়নি!
‘এই মেয়ে, শুনছ?’ ফিসফিস করে ডাকল মনিকা।
বেঞ্চের অপর পাশে বসা মেয়েটি একমনে লিখে চলেছে। মাথা নিচু করে। বোঝাই যাচ্ছে ভালো ছাত্রী।
‘শুনছ? এই মেয়ে।’
‘আমার নাম মৌনতা।’ ঘাড় না ঘুরিয়েই বলল মেয়েটি।
‘তুমি তো ভালোই লিখছ।’ মনিকা বলল।
‘হুমম।’
‘আমাকে একটু দেখাও না। এই একটা দুটো প্রশ্নের উত্তর দেখালেই হবে।’ কাকুতি করল ও।
খাতা থেকে চোখ সরাল মৌনতা। এদিক ওদিক তাকাল। পরীক্ষার হলে গার্ড দিচ্ছেন দুজন শিক্ষক। তারা কোথায় আছেন দেখে নিল।
তারপর নিজের খাতা খুলে দিল মৌনতা। খোলা খাতা রেখে দিল দুজনের মাঝে। অতিরিক্ত খাতায় নিজে লিখতে লাগল।
নিজের ভাগ্যকে ধন্যবাদ জানাল মনিকা।
বলতে গেলে কোনো প্রশ্নই কমন পায়নি ও। পড়লে না কমন পড়বে। একেই বলে ভাগ্য! মেঘ না চাইতেই জল।
তাড়াতাড়ি লিখতে শুরু করল মনিকা। একটু আগেই ফিজিক্স পরীক্ষায় ফেল করবে বলে ভয় লাগছিল আর ভয় লাগছে না।
মৌনতাকে চেনে না মনিকা। কলেজে এসে বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি হয়। তাই সবাই সবাইকে চেনে না।
মনিকা ঠিক করল, পরীক্ষা শেষে মৌনতাকে একটা বড় ধন্যবাদ জানাবে।
এমন একজন মেধাবী ছাত্রী পাশে বসার কত্ত উপকারিতা। বাকি পরীক্ষাগুলোও বাসায় না পড়েই ভালোভাবে দিতে পারা যাবেÑ ভাবল মনিকা।
পরীক্ষা শেষে মৌনতাকে পাকড়াও করল ও।
‘এই মৌনতা, দাঁড়াও তোমার সাথে কথা আছে।’
‘কী কথা?’ অবাক চোখে তাকাল মেয়েটি।
‘তুমি তো অনেক লিখলে। বোঝাই যাচ্ছে বেশ ভালো ছাত্রী তুমি। এতগুলো প্রশ্নের উত্তর কখন কীভাবে পড়লে? আমি তো পড়তেই পারছি না।’
‘আমিও পারছি না।’ ধীরে ধীরে বলল মৌনতা।
‘তাহলে এতগুলো প্রশ্নের উত্তর লিখলে কীভাবে?’
‘বানিয়ে বানিয়ে। আমি বানিয়ে বানিয়ে ভালোই লিখতে পারি।’
মনিকা অতি উৎসাহে ঠাণ্ডা পানি ঢেলে দিল মৌনতা।

 
Electronic Paper