করোনাভাইরাসের বৈঠক

ঢাকা, সোমবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২১ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

করোনাভাইরাসের বৈঠক

মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন
🕐 ৪:৪৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৫, ২০২১

করোনাভাইরাসের বৈঠক

এ বছরের সেপ্টেম্বরের দশ তারিখ, হঠাৎ নোটিস এলো আগামীকাল ১১ সেপ্টেম্বর করোনাভাইরাসের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তাই উক্ত বৈঠকে যোগ দিতে বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ডেল্টা।

যথাসময়ে বৈঠক শুরু হলো।

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলল, আজ যে কারণে এই জরুরি সভা তা হলো বাংলাদেশে আগামীকাল স্কুল-কলেজ খুলছে।

আমাদের ভয়ে তারা আমাদের উপস্থিতি টের পাওয়া মাত্র স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দিয়েছিল। এবার তাই সুযোগ, প্রচুর আক্রমণ করার। তোমরা ব্যাপকভাবে স্কুল-কলেজগুলোতে ছড়িয়ে পড়বে। কারও মধ্যে কোনো চেষ্টার ত্রুটি যেন না দেখি। এটাই আমাদের মোক্ষম সুযোগ। এই দিনের অপেক্ষাতেই ছিলাম। এবার হবে খেলা। আমাদের কাজের অগ্রগতি কতটুকু হলো তার রিপোর্ট নিয়ে আমরা আবার ১৯ সেপ্টেম্বর বসব। তবে, মনে রেখো এই সুযোগ আমাদের হাতছাড়া করা যাবে না। এই বলে ডেল্টা সবাইকে আরও বেশি বেশি আক্রমণ করার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করল।

কিছুদিন পর, যথারীতি আরার ১৯ তারিখে সভা বসল। সভায় এসেই ভ্যারিয়েন্টগুলো কান্নাকাটি শুরু করে দিল। ডেল্টা বলল, তোমরা কাঁদছ কেন? উত্তরে সবাই বলল, আমরা প্রত্যেকটা স্কুল-কলেজে আক্রমণ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা মুখে মাস্ক, হাতে স্যানিটাইজার, বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার কারণে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেও সফল হতে পারিনি। আরেকটা ভ্যারিয়েন্ট বলে উঠল, তারা তিন ফুট দূরত্বে বেঞ্চ বসিয়ে প্রতি বেঞ্চে একজন করে বসিয়ে ক্লাস করায়।

এমনকি আমরা প্রাথমিক স্কুলগুলোতে গিয়েও কোমলমতি শিশুদের আক্রমণ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারাও খুব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুলে আসছে।

আর একটা ভ্যারিয়েন্ট বলে উঠল, বোধহয় এই দেশে আমরা আর সুবিধা করতে পারব না। অন্যান্য দেশে যেভাবে সহজে আক্রমণ করেছি, স্কুল-কলেজ তারা পুনরায় বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।

এখানে মনে হয় ওদের সঙ্গে আমরা পারব না। শুনেছি, এরা বীরের জাতি। যেকোনো দুর্যোগ এরা খুব সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারে।

সভাপতি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট বলল, আমাদের সর্বস্ব দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। হাল ছাড়া যাবে না। নতুন নতুন অজানা ভ্যারিয়েন্টদের আক্রমণে আনতে হবে। বিশ্বকে কাবু করে নাকানিচুবানি খাইয়েছি। আর এই ছোট্ট বাংলাদেশকে পারব না, তা হয় না। তোমরা তোমাদের দায়িত্ব নিয়ে আরও সুচারুভাবে চেষ্টা করো।

আমরা আবার ৬ অক্টোবর সভায় বসব। সেদিন যেন ফলাফল আমাদের অনুকূলে আসে। সবাই সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড় স্কুল-কলেজগুলোতে।

মনে রাখবা, বিশ্বকে যখন কাঁপিয়ে দিয়েছি, আমাদের কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না, এদেশকে করোনার ঢেউ দিয়ে ডোবাব। জয় করোনাকুলের।

নান্দিনা, জামালপুর

 
Electronic Paper