মশার হুল

ঢাকা, সোমবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২১ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

মশার হুল

শাকিব হুসাইন
🕐 ২:৫৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১

মশার হুল

‘এই যে লাটসাহেবের পুত আর কত গান হোনাবেন। রক্ত খেতে কে যাবে হুনি?’ মশার বাবা বলল।
‘একটু পরেই যাইতাছি আব্বা হুজুর।’
‘আজ কিন্তু তোর সাথে আই যাইতে পারতাম ন। তোকে একলাই যাইতে হবে লাটসাহেব।’
‘আব্বা হুজুর এইডা কী কন। আই একলা যাব মানে?’
‘যেটা কইছি সেটাই। একলা মানে একলা।’

মশা একলা একলা মানুষের রক্ত খেতে বের হলো। রাস্তায় গিয়ে দেখল, পাশের টঙ দোকানে বসে একজন চা খাচ্ছে। মশা চিলের মতো ভাব নিয়ে উড়ে গিয়ে হুল বসাল মানুষটার ওপর। মশা বাবা বলে চিৎকার শুরু করে দিল- ‘ও বাবা গো। মানুষটা কি প্যান্ট পরেছে রে। হুল তো ঢোকেই না। বাঁকা হয়ে গেল হুলটা।’
আবার মশা চিলের মতো ভাব নিয়ে হুল বসাল। এবার তার অবস্থা আরও খারাপ। এবার সে মানুষটার বেল্টে হুল ফুটিয়েছে। আবারও বাবা গো বাবা গো বলে চিৎকার করা শুরু করল।
একপর্যায়ে মানুষটা ওখান থেকে উঠে গেল। মশার চোখ পড়ল আরেকটা মানুষের ওপর। মানুষটা রাস্তার মাঝে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। নড়াচড়া করছে না। মশা ভাবল, এই তো শিকার। মশা আবার চিলের মতো ভাব নিয়ে মানুষটার পেটে হুল বসাল। সঙ্গে সঙ্গে মশার হুল গেল বেঁকে। মশা বাবা গো বাবা গো বলে চিৎকার করা শুরু করে দিল। মশা মানুষটার পুরো দেহে হুল ফোটাতে লাগল। কিন্তু মানুষটা একটু টুঁ শব্দও করল না। নড়লও না। কোনো কিছুই হলো না মানুষটার। যা হওয়ার মশারই হলো।
ঠিক তখনই মশার বাবা সেখানে এলো। বলল, ‘মশা, তোর এ অবস্থা ক্যান?’
‘আব্বা হুজুর এই মানুষডারে যতবার হুল ফোটাতে যাই ততবারই হুল বাঁকা হইয়া গেছে। এইডা কোন ধরনের মানুষ রে বাবা।’ ‘আরে গাধা এইডা পাথরের মূর্তি। তুই কেবল মশা রাজ্যের মধ্যে একমাত্র গাধা যে মানুষ চিনিস না।’

দিনাজপুর সরকারি কলেজ

 
Electronic Paper