তালের বড়ার আটার রুটি

ঢাকা, বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১ | ৪ কার্তিক ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

তালের বড়ার আটার রুটি

স্বপন শর্মা
🕐 ৩:০৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২১

তালের বড়ার আটার রুটি

প্রতিযোগিতা, তুমুল প্রতিযোগিতা চলছে। প্রতিদ্বন্দ্বীরাও যে ভীষণ এক্সাইটেড। তিনজন শিক্ষককে নেওয়া হয়েছে প্রতিযোগীর আসনে, প্রত্যেক জনের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হলো একটি কলম, একটি প্যাড খাতা। উত্তেজিত দর্শক সারিতে রয়েছে সকল শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং বাকি শিক্ষকসহ স্কুল কমিটির প্রায় সকল সদস্য শুধু বাদ পড়েছে ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি শিক্ষাবিদ গেরো মফিজ।

শোনা কথা গেরো সাহেব নাকি শহরে গেছেন স্কুল উন্নয়ন বাজেট সেমিনারে, একটু আগে প্রধান শিক্ষক সকল দর্শক ও প্রতিযোগীদের জানিয়ে দিলেন। এবার মাইকে ঘোষণা করলেন প্রতিযোগী স্যারদের নাম। কিন্তু বয়স্ক শিক্ষক হিসেবে শুধু বয়স্ক নয় উনি অত্র এলাকায় অঙ্কের শিক্ষক হিসেবে বহুল পরিচিত বিএসসি তালেবর রহমান ওরফে তালের বড়া। তালের বড়া বিএসসি কখনো কোনো খেলায় অংশ নিয়েছিলেন কিনা, আশপাশের মানুষগুলোর কারও জানা নেই। তাছাড়া উনার সমবয়সী কাউকে এলাকায় খুঁজলেও হয়তো পাওয়া মুশকিল হবে।

আজকে যখন মাইকে ঘোষণা করা হলো তখন থেকে সবার আগ্রহের কেন্দ্র হলো তালের বড়া স্যার। সবার আগ্রহ এই বয়সে স্যার কোন খেলায় অংশ নিতে যাচ্ছে। শেষে হেড স্যার জানিয়ে দিলেন আজকে তিন তিনজন স্যার খেলায় অংশ নিচ্ছেন। বাংলার স্যার অমিত সাহা, ইংরেজির স্যার মাইকেল চয়ন ও বিএসসি স্যার তালেবর রহমান। আমাদের এই হাইলোন বান্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রত্যেক স্যারের একটি করে উপনাম রয়েছে এবং ওই নামে প্রায় সকল স্যার খুব পরিচিতি পেয়ে থাকেন। যেমন তালেবর রহমান স্যার সোজা তালের বড়া হিসেবে পরিচিত। এখনো ভাদ্রমাসে তালের পিঠা খেতে গিয়ে তালের বড়া স্যারের কথা খুব মনে পড়ে। অমিত স্যারের একটি চোখের সমস্যা থাকায় এক ব্যাটারি স্যার নামে বহুল পরিচিত।

ইংরেজির স্যারেরও একটি সুন্দর উপনাম আছে। ইনি যখন স্কুলে আসেন তখন নাকি চেহারাটা বাঁশের মতন চিকনা এবং লম্বা ছিলেন এখনো লম্বত্ব ঠিক আছে। তবে চেহারার একটু পরিবর্তন ঘটেছে। সেই তখনই উনার উপনাম পাওয়া যায় মাকলা বাঁশ। আসলে মাকলা বাঁশের ব্যবহার সঠিকভাবে জানা না থাকলেও হাইলোন বান্দা স্কুলের মাকলা বাঁশের ব্যবহার সর্বজনবিদিত। হেডমাস্টার কর্তৃক শিক্ষক প্রতিযোগীর নাম ঘোষণা শেষ হতে না হতে দেখা যাচ্ছে মৌলভী ওরফে ঠাকুর উদ্দিন স্যার ও প-িত ওরফে টুনিবাল্ব স্যারের উপস্থিতি। ইনাদের উপনামের ইতিহাস অন্যদিন সবিস্তারে বর্ণনা দেওয়ার প্রয়াস থাকল। তাদের আমন্ত্রণ জানালে তারাও সহজে রাজি হলেন না তারা দর্শক সারির আসনে উপবিষ্ট হলেন।

প্রতিযোগিতার নিয়মগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছেন হেড স্যার। নিয়মগুলো এরকম যে স্যার যে বিষয়ের শিক্ষক সেই স্যার সেই বিষয়ে বা ভার্সনে লিখবে। একটা বয়ামে রাখা হলো কিছু চিরকুট সেখান হতে ষষ্ঠ শ্রেণির মেয়ে চানুবালা বেগম একটা চিরকুট ওঠাবে আর সেই চিরকুট কাগজে যে মেন্যু লেখা থাকবে সেটাই সকল স্যারকে লিখতে হবে তাদের নিজ নিজ বিষয়ের ভাষায় বা ভার্সনে।

যেমন চিরকুটে লেখা আছে, মাছের তরকারি’। বাক্যটা একব্যাটারি... সরি অমিত স্যার উনার আঞ্চলিক ভাষায় লেখবেন (যেহেতু উনি বাংলার স্যার) এভাবে বাক্যটাকে মাকলা বাঁশ স্যার ইংরেজিতে ও তালের বড়া স্যার অংক সংখ্যা প্রতীকে।

সব বিষয়ের শিক্ষকের জন্য ঠিক আছে কিন্তু তালের বড়া বিএসসি স্যার কোন মাধ্যমে লিখবেন। গণিত তো আর এমন নয় যে সংখ্যা প্রতীক দ্বারা লেখা যাবে। বিএসসি স্যারকে নিয়ে সবার মাঝে চিন্তার ভাব।

উন্মুক্ত মঞ্চের টেবিলে ওপর চিরকুট ভর্তি বয়াম রাখা হলো। ডাকা হলো চানুবালা বেগমকে ও এসে বয়াম ঝাঁকিয়ে মুখ খুলে একটি চিরকুট হাতে তুলল। হেড স্যার চিরকুটে থাকা লেখাটা পড়ে শোনালেন, ‘আটার রুটি’। বাংলা স্যার তার আঞ্চলিক ভাষায় লিখে দিলেন। ইংরেজি স্যার ট্রান্সলেশন করে খাতা জমা দিলেন। এখন তালের বড়া স্যারের পালা। অল্প কিছু সময়ের ব্যবধানে সকল দর্শক দেখল যে তালের বড়া স্যার খাতা জমা দিলেন। কিন্তু কী লিখলেন?
হেড স্যার সকল দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তালের বড়া স্যারের লেখা খাতাটি উঁচিয়ে ধরলেন। সকলে দেখতে পেল ৮ (আট, আর, রুট, ই) লিখেছেন তালের বড়া স্যার আর তখন সমস্বরে সকলে বলতে লাগল- জয়তু তালের বড়া থুক্কু তালেবর স্যার।

উলিপুর, কুড়িগ্রাম

 
Electronic Paper