খেলা নিয়ে বুদ্ধিজীবীর সংলাপ

ঢাকা, বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১ | ৪ কার্তিক ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

খেলা নিয়ে বুদ্ধিজীবীর সংলাপ

ফরিদ উদ্দিন রনি
🕐 ৪:৩৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১

খেলা নিয়ে বুদ্ধিজীবীর সংলাপ

বাংলাদেশ সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে জিতেছে সব মিলিয়ে বাংলাদেশ সামনের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা ও দলের সমস্যা নিয়ে একটি কাল্পনিক টকশোর আয়োজন করা হয়েছে। টকশোতে আলোচনা করতে বসছেন দেশের একজন বুদ্ধিজীবী। আলোচনাটি কাল্পনিক।

হোস্ট : বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে, তাও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন এবং বাংলাদেশ বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা কতটুকু?

বুদ্ধিজীবী : দেখুন আজকে যে দেশটিকে নিউজিল্যান্ড বলা হয় সে দেশটির বেশিরভাগ স্থানের নাম এসেছে মাওরি ও ব্রিটিশ উৎস থেকে। আমাদের ড. বদরুল আলি ঠিকই বলেছিলেন, এ দুটি দলই বিখ্যাত ব্যক্তি, ঘটনা, আদি নিবাস এবং তাদের এলাকার বৈশিষ্ট্য অনুসারে স্থানের নাম লেখা হয়েছে। আবার মাওরিরা নিউজিল্যান্ড দেশটির জন্য কোনো সামগ্রিক নাম রাখেনি, তবে উপনিবেশ পরবর্তীকালে আওতেয়ারোয়া বলা হয়ে থাকে। এখানে আরেকটা কথা বলে রাখা ভালো আওতেয়ারোয়াকে সাধারণ অনুবাদে ‘দীর্ঘ শ্বেত মেঘ’ বলা হয়ে থাকে। আমাদের বুদ্ধিজীবীরা বলে থাকে, এটি মহাদেশীয় রাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়ার কাছাকাছি অবস্থিত কিন্তু কথাটি পুরোপুরি সত্য নয়। এটি অস্ট্রেলিয়ার কাছাকাছি মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি অস্ট্রেলিয়া থেকে দক্ষিণ-পূর্বে ২০০০ কিলোমিটার দূরত্বে তাসমান সাগরে অবস্থিত। তখনকার ডাট মানচিত্রকাররা দ্বীপপুঞ্জের নাম রাখে নোভা জিল্যান্ডিয়া এবং পরবর্তীকালে ব্রিটিশ অভিযাত্রী জেমস কুক-এর ইংরেজিকরণ করেন নিউজিল্যান্ড। সেটি টমাস হিরো আলমের যায়যায়কলি বইয়ের ৭৭ নম্বর পৃষ্ঠায় আছে, আপনি তা দেখতে পাবেন। অবশ্য আমাদের নয়ন ছফার বাকবাকুম ডট বইয়েও তা উল্লেখ আছে।

আবার ইউরোপীয়রা আঠারোর শেষে ও উনিশ শতকের শুরুর দিকে বেশ কিছু মাওরি আদি নাম বদলে নতুন নাম রাখে। এখানে আরেকটি বিষয় বলে রাখা দরকার, তাতে হীমন রবীন্দ্রনাথ তার বিরোধিতা করেছিল অবশ্য তাতে কাজ হয়নি। আজকে বুদ্ধিজীবীরা এ মহাসত্যকে বাদ দিয়ে ইতিহাস লিখছে তা সত্য নয়। ইউরোপীয়ানরা উপনিবেশরা এ ধারণা আরবদের কাছ থেকে নিয়েছিল। তখনকার আরবের মাদ্রাসাগুলোতে ইস্তিতাস্তা বলে একটি শব্দ ব্যবহার করত। এ ইস্তিতাস্তা থেকে আজকের নিউজিল্যান্ড। কিন্তু আমাদের বুদ্ধিজীবীরা তা স্বীকার করতে চান না। এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার থাকা ভালো, ১৮৯৪ সালে সরকারি সংশোধনী ও ১৯৪০ এর মধ্যভাগে নিউজিল্যান্ডের ভৌগোলিক পরিষদ মূল মাওরি নামগুলোকে উৎসাহিত করে, যদিও সেগুলোর ভুল বানান ও ভুল উচ্চারণ চলতে থাকে। কারণ তারা না পারে ভালো ইংরেজি না পারে বাংলা। আপনি চিনে থাকবেন আমাদের একজন বুদ্ধিজীবী বিশ্বরাজনীতির ওপর বই লিখেছেন, তার সঙ্গে কিছুদিন আগে বাহাত্তর চ্যানেলের এক আলোচনায় আমি বিষয়টি তুলেছি, কিন্তু তিনি মানতে নারাজ। তো যা হোক সেদিকে যাচ্ছি না। সংক্ষেপে শেষ করি, বর্তমানেও কিন্তু বেশ কিছু নামের বিকল্প অথবা ইংরেজি ও মাওরি দ্বৈত নাম অথবা খুব অল্প কিছু দ্বৈত মাওরি অথবা দ্বৈত ইংরেজিতে আছে। যদিও বেশির ভাগ নাম সরকার স্বীকৃত নয়, কিন্তু যদি সেগুলো কোনো কর্তৃপক্ষীয় প্রকাশনায় উল্লেখ করা হয় তবে তাকে প্রামাণ্য নাম হিসেবে গ্রহণ করা হয়। যেটি তখনকার সময় ছিল না। নিউজিল্যান্ডের উপনিবেশিক নামগুলো দেওয়া হয়েছে তার আরেকটি কারণ জায়গাটির কোনো মজার কোনো অবস্থান থেকে যা বিনোদনদায়ক বা বিজ্ঞাপনী স্লোগান বা কোনো পূর্ণ নামের সংক্ষেপণ করে। কিছু জায়গার নাম রাখা হয়েছে জনপ্রিয় হলিউড সিনেমা দ্য লর্ড অব দ্য রিংস থেকে কপি করে যদিও বলা হয়েছে জায়গাটির সঙ্গে মুভির সম্পর্ক বোঝানোর জন্য এ নাম যেন তা আকর্ষণ সৃষ্টি করে। সেখান থেকে আজকের নিউজিল্যান্ড।
-স্যার, স্যার আমাদের প্রশ্ন ছিল...
জি, জি, আরেকটু সময়, আমি শেষ করে দিচ্ছি।

কাজেই দেখুন, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশ জিতলেও খুব যে ভালো খেলছে তা নয়। তারাও কিন্তু দুই ম্যাচ জিতছে। আপনি একটু খেয়াল করলে দেখবেন, সেই পূর্ববর্তী সরকারের উপনিবেশ আইন অনুসারে তাদের যে দল ঘোষণা হয়েছে বিশ্বকাপের জন্য তাতে এক-দুইজন ব্যতীত কেউ আসেনি বাংলাদেশ সফরে। এখানে আরেকটা বিষয় বলে রাখা ভালো, আমাদের বুদ্ধিজীবীরা বলে থাকবেন অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজ জেতার পর আমাদের বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা বেড়ে গেছে। তা মোটেও সত্য নয়।

এখন আপনার প্রশ্ন থাকতে পারে কেন স্যার? দেখুন সিরিজ জিতলেও আমাদের ব্যাটসম্যানরা কিন্তু ভালো করতে পারে নাই। যে কয়েক ম্যাচে, থ্রি ফিগারে রান গেছে তাতে আমাদের ব্যাটসম্যানরা কোনো চমক দেখাতে পারেনি। অবশ্য সে বিষয়ে সতর্ক করে আমাদের উপমহাদেশের একজন বুদ্ধিজীবী কারওয়ান বাজার আলোতে বেশ বড় একটি প্রবন্ধও লিখেছে। কাজেই নিজেদের মাঠে দুই সিরিজ জিতে আপনি বলতে পারেন না, বিশ্বকাপ আমরা জিতে যাব। তবে সবশেষে বলব, বিশ্বকাপ জিতুক আর না জিতুক, অংশগ্রহণ করাটাই বড় কথা।
দুঃখিত, আমি মনে হয় সময় একটু বেশি নিয়ে নিছি।

 
Electronic Paper