তেলবাবার তেলেসমাতি

ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১২ আশ্বিন ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

তেলবাবার তেলেসমাতি

রাসেল খান
🕐 ৩:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২১

তেলবাবার তেলেসমাতি

বিয়ে নিয়ে মজনু বেশ প্যারার মধ্যে আছে। বিয়ের বয়স পার হয়ে চল্লিশ ছুঁই ছুঁই। চুল-দাড়িতে পাক ধরেছে। চোখে-মুখে বয়সের ছাপ। তবুও বিয়ের ফুল ফুটছে না। পাত্রী দেখায় কোনো কমতি নেই মজনুর। কম হলেও একশ’ হবে। আজকাল বন্ধুদের সঙ্গে মিশতেই পারছে না মজনু। সবাই মজনুকে নিয়ে অনেক মজা করে। দেখা হলেই মজনু চাচা বলে সম্বোধন করে। মজনু সব হজম করলেও বাড়ি থেকে খুব চাপ আসছে তার। যেমন করেই হোক ঘরে একটা বউ আনা চাই। কিন্তু মজনু কী করবে! চেষ্টা তো আর কম করা হচ্ছে না।

একদিন মজনুর সঙ্গে তার বাল্যকালের স্কুল বন্ধু মতিনের দেখা হয়। মজনু তার বন্ধু মতিনকে সব খুলে বলে। মজনুর কথা শুনে মতিনের হাসতে হাসতে পেট ব্যথা অবস্থা। মতিনের হাসি দেখে মজনু রাগে গড়গড় করতে থাকে। মতিন তার হাসি থামিয়ে মজনুকে বলল, দোস্ত, আজকাল বিয়ে করা কোনো ব্যাপার নাকি! চাইলে প্রতি মাসে একটা করে বিয়ে করতে পারিস।

মতিনের কথা শুনে মজনু কী বলবে ভেবেই পাচ্ছিল না। যেখানে কাঠখড়ি পুড়িয়ে আজ পর্যন্ত একটি বিয়ে করতে পারিনি। সেখানে প্রতি মাসে একটা! মজনু অবাক হয়ে মতিনকে বলল, প্রতি মাসে একটার প্রয়োজন নেই। এখন অন্তত একটি হলেই চলবে।

মতিন বলল, সে আর কী কঠিন কাজ! এই বলেই মতিন মজনুকে তার তেলবাবার নিকট নিয়ে যায়। মজনু তেলবাবাকে দেখে তো রীতিমতো অবাক! তেলবাবার সারা শরীর তেলে ভরা। শরীর থেকে চুই চুই করে তেল গড়িয়ে পড়ছে। কেউ কেউ আবার তেলবাবার চুয়ে পড়া তেল বোতলে ভরছে। মজনুকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে তেলবাবা বলল, কী চাই, বাছাধন? এ বয়সেও বিয়ে হচ্ছে না, তাই তো! মজনু আস্তে করে বলল, হুম, বাবা। তেলবাবা তেলপড়া দিয়ে বলল, শোন, বাছাধন। এই তেলপড়া যাকে খাওয়াবি সে সাতদিনের মধ্যে তোর কাছে ছুটে আসবে। তবে খুব সাবধানে খাওয়াতে হবে।

মজনু তেলবাবার তেলপড়া পেয়ে মহাখুশি। মনে মনে ইচ্ছে খুশি নাচতে থাকে। কিন্তু এবার মজনু ভীষণ বিপাকে পড়ে। ইচ্ছে করলেই তো আর যাকে তাকে তেলপড়া খাওয়ানো যাবে না। এছাড়া বিষয়টা জানাজানি হলে কেলেঙ্কারিরও শেষ থাকবে না। তাই মজনু অনেক ভেবেচিন্তে একটি বুদ্ধি বের করল। বুদ্ধিটা হলো রাস্তায় রাস্তায় ঝাল মুড়ি বিক্রি করা। যেই ভাবা সেই কাজ। মজনু ঝাল মুড়ি নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। যাকে খুশি তাকে তেলপড়া মিশিয়ে ঝাল মুড়ি খাওয়াতে থাকে। আর মনে মনে অপেক্ষার প্রহর গোনে মজনু। ঠিক সাতদিন পর মজনু আবার রাস্তায় ঝাল মুড়ি নিয়ে বের হয়।

এদিক ওদিক একটু তাকাতেই মৌমাছির মতো ঝাঁকে ঝাঁকে যুবতী থেকে থুত্থুড়ে বুড়িরাও মজনুর দিকে ছুটে আসে। মজনুর বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও, একথা বুঝতে দেরি হয় না যে আজ তার কপালে খুব খারাপ কিছু আছে। বিয়ের স্বাদ আজ হাড়ে হাড়ে টের পাবে। একটা নয়, দুটো নয়, শত শত পাত্রী। তাই অবস্থা বেগতিক দেখে মজনু দৌড়ায় আর বলে, আমি আর বিয়েই করব না। আমি কিছু করিনি যা হয়েছে সব তেলবাবার তেলেসমাতি। এদিকে মজনুর পেছন পেছন সবাই ছুটছে আর বলছে, বিয়ে করিস আর নাই করিস তেলবাবার তেল আর ঝাল মুড়ির ঝাল মিটিয়েই ছাড়ব। একথা বলতেই উত্তম-মধ্যম শুরু করল। মজনুও চিৎপটাং হয়ে বলল, ‘তেলবাবার তেল না বলি, সহজ সরল পথে চলি।’

ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল

 
Electronic Paper