কিপ্টে জামাই

ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১২ আশ্বিন ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

কিপ্টে জামাই

আরিফুল ইসলাম আকাশ
🕐 ৩:০৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২১

কিপ্টে জামাই

বগলে করে জুতা নিয়ে শ্বশুরবাড়ির উঠানে গিয়ে পায়ে দিলাম। এই প্রথম শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে এসে শ্বশুরের চোখে-মুখে অগ্নিকণা দেখে আমি শিহরিত। নয়া বউকে বলেই ফেললাম, ‘আমার শ্বশুর বেচারা যে শ্বাশুড়িকে নিয়ে অশান্তিতে আছে তা বুঝতে পারছি।’

কিছু সময় একাই রুমে বসে রইলাম। শালা-শ্যালিকা কিংবা শ্বশুর-শাশুড়ি কেউই তেমনভাবে স্বাগত জানাল না। বউটাও সেই কখন আসছি তখন হতে লাপাত্তা হয়ে গেল। এইমাত্র তার পদযুগল এ রুমের মাটি স্পর্শ করল। দেখি সে নাকের জলে, চোখের জলে একাকার করে ফেলেছে। তার চক্ষু থেকে অশ্রু ঝরছে শ্রাবণ দাঁড়ায়। সদ্য বিবাহিত বউকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কি রে জরিনা, ভ্যাটকাও ক্যান! তোমার কি খিদা লাগছে? তাইলে ওই যে আদা কেজি মুড়ি আর বিচি কলা আনছি, ওইখান দিয়া পেট গাদিয়ে খাও।’

বউ অশ্রুমাখানো গলাটা দিয়ে কর্কশ করে বলল, ‘নতুন শ্বশুরবাড়িতে কেউ মুড়ি আর বিচি কলা নিয়ে প্রথমবার বেড়াতে আসে?’

রেগে আগুন হয়ে বললাম, ‘বর্তমান ফরমালিনের যুগে মুড়ি আর বিচি কলা থেকে আর ভালো কী জিনিস আছে!’
‘হইছে হইছে। আর কিপ্টামির ডায়লগ চালান লাগবে না। বিকালে মামাত ভাই আর আমার ছোট বোন আপনাকে নিয়ে মেলায় যাবে। আল্লার দোহাই লাগে কিপ্টামি করবেন না।’ বউয়ের কথা শুনে আমার মেজাজটা যেন কালবৈশাখীর ওই দুরন্ত ঝড়ে দুমড়েমুচড়ে গেল।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেই অনিচ্ছা পোষণ করা সত্ত্বেও যেতে হলো ছোট ছোট শালা-শ্যালিকাদের নিয়ে। মেলাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বলতে লাগলাম, ‘জানো তোমরা, বর্তমানের কোনো কিছুর ওপর বিশ্বাস নেই। এরকম মেলায় এসে আমার বন্ধুকে একদল বদলোকেরা ওষুধ খাইয়ে সকল জিনিস নিয়ে গেছিল। আর একবার তো আমার দাদার বাপেরে চোখে ওষুধ দিয়ে পরনের লুঙ্গিটুকুও নিয়ে গেছিল।’

এভাবে নানা কাল্পনিক গল্প শুনিয়ে শুনিয়ে মেলা অবধি তাদের না পৌঁছাতে দিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিলাম। যাক বাবা এক টাকাও খরচ করতে হয়নি।

দুই.

প্রথম কন্যাসন্তানের জনক হওয়ায় শাশুড়ি এবং শ্বশুরমশাই ইয়া বড় একটা পাঠা ছাগল নিয়ে এলো, সঙ্গে একটা মুরগিও ছিল। বউকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কি রে জরিনা, আমার বলদা শ্বশুরে দিহি পাঠা নিয়ে আইছে। তার মতলব কী বল তো!’
‘আপনে যে একটা কিপ্টা এটা আমার বাপ জানে। তার জন্যই ছাগল নিয়ে আসছে তার নাতনির নামে আকিকা দেওয়ার জন্য।’
ছাগলটা দুই হাজার টাকায় বিক্রি করে দিলাম। বউকে বললাম, ‘দ্যাখ জরিনা, তোর তো আবার অভ্যাস আছে কিছু হইলেই ফোচর ফোচর নাক ভাজাইতে পারো। আকিকা হলো প্রাণের জন্য প্রাণ বিসর্জন দেওয়া, তা ছাগল হোক বা মুরগি হোক।’
দুপুরবেলায় যখন শ্বশুরকে নিয়ে খেতে বসলাম তখন কাচুমাচু করে বলেই ফেলল, ‘বাবা, ছাগলের গোস্ত কোথায়?’
‘আব্বা, জবাই তো দিতে পারিনি।’
‘কেন, বাবা?’
‘ওটার তো আপনার মতো চরিত্র ভালো না। আমাদের এলাকায় অনেক কিউট ছাগী আছে। কোনটারে নিয়ে যেন পার্কে গেছে ডেটিং করতে। পার্ক আবার কাছেই!’

 
Electronic Paper