রাগ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১ | ৭ বৈশাখ ১৪২৮

রাগ

শামীম শাহাবুদ্দীন ১২:০২ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৯, ২০২১

print
রাগ

তেলের শিশি ভাঙল বলে
খোকার পরে রাগ করো,
তোমরা যে সব বুড়ো খোকা
ভারত ভেঙে ভাগ করো। 

না, ভারত এমনি এমনি ভাগ হয়নি। ভারত ভাগের পিছনে যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত কারণ ছিল। আবার কেউ কেউ রাগ করেও ভাগ করে। যেমন ঢাকা সিটি ভাগ হলো। রাগ করে কে কী ভাগ করল, সেটি আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয় নয়।

প্রিয় পাঠক, আজাইরা প্যাঁচাল রেখে চলুন আমরা এবার মূল প্রসঙ্গে ফিরে যাই। তা না হলে আমাদের সম্পাদক মহোদয় রাগ করে আমার লেখাটাই গায়েব করে দিতে পারেন! তবে এটুকু বলে রাখি, ধান ভানতে গিয়ে এতক্ষণ শিবের গীত গাইলাম এই জন্য, যাতে সম্পাদক মহোদয় এই লেখা পড়ে রাগে অগ্নিশর্মা হন। রাগ বিষয়ক রম্য ফিচারের নামে আমি অখাদ্য কুখাদ্য লিখব, অথচ সম্পাদক রাগ করবেন না, তাহলে এই লেখার সার্থকতা কোথায়?
পাঠক, এতক্ষণে বোধহয় আপনারা রেগে গিয়ে আমাকে গালাগাল শুরু করেছেন...। মনে মনে বলছেন, এহ, ছোকরা ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানে না! লিখতে পারো না, না লিখলেই হয়। এত রামায়ণ পাঠের কী দরকার?
প্লিজ জনাব, দয়া করে রাগবেন না! মনীষীরা বলেছেন, রেগে গেলেন, তো হেরে গেলেন। সুতরাং নো রাগারাগি। আমরা আপনার হার দেখতে চাই না। তারচেয়ে বরং একটি ফাটাফাটি জোকস শুনিয়ে আপনার উত্তপ্ত মেজাজ শীতল করে দেওয়া যাক।
গভীর অরণ্যে সরু রাস্তায় গুলি খেয়ে পড়ে আছে আহত বাঘ। এই পথ দিয়েই এক শিয়াল যাচ্ছিল। হঠাৎ বাঘ দেখে বলল, হুজুর এই অবেলায় রাস্তায় শুয়ে আছেন যে! শরীর খারাপ?
উত্তরে বাঘ বলল, শুয়ে আছি কি আর সাধে রে! গুলি লেগেছে।
তাই বলে হারামজাদা, এভাবে রাস্তা বন্ধ করে শুয়ে থাকতে হবে? শিয়াল রেগে গিয়ে বলল।
হাতি গর্তে পড়লে নাকি চামচিকায়ও লাথি মারে। বেচারা বাঘের হয়েছে সেই দশা!
আঠারবাড়ি, গাড়াদিয়ার বন্ধু রহমত উল্যাহকে নিয়ে একবার রাগ করে বাড়ি থেকে পালিয়েছিলাম। মিরপুরে বড় মামার বাসায় সাতদিন ছিলাম। এই সাতদিন মামা-মামির অগোচরে চাকরির আশায় বিভিন্ন গার্মেন্টসে গিয়ে কত যে ধর্না দিয়েছি! কিন্তু আমাদের কেউ পাত্তাই দেয়নি। যার কাছেই যাই সেই বলে, আমরা নাকি চাকরি করতে পারব না! একজন তো বলেই ফেলল, রাগ করে বাড়ি থেকে চলে এসেছ তো? সুবোধ বালকের মতো বাড়ি ফিরে যাও, সব ঠিক হয়ে যাবে। সাতদিন ঘুরে ফিরে বুঝতে পারলাম, ও জিনিস আমাদের কপালে জুটবে না। কী আর করা! মন খারাপ করে বাড়িতে চলে এলাম। বাড়িতে এসে ভাবছি, আজ বুঝি আর রক্ষে নেই!
কিন্তু দেখা গেল, আব্বা আমাকে কিছুই বললেন না। তার ভাবখানা এমন- চান্দু, যেখানেই যাও, বাবার হোটেলের ভাতের মতো এমন সস্তা ভাত আর কোথাও পাবা না।

রাগ করে ইতোমধ্যে যারা বাবার হোটেল ছেড়েছেন, তাদের কথা আলাদা। কিন্তু যারা ছাড়বেন বলে সদ্য মনস্থ করেছেন, তাদের বলব, ভুল করেও আপনারা ও কাজটি করতে যাবেন না। কারণ বাবার হোটেলের খাবারের মতো এমন সস্তা ও সুস্বাদু খাবার কোথাও পাবেন না। যারা আগেই বাবার হোটেল ছাড়ার মতো অপকর্মটি করেছেন, তাদের বলি, দাদা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসুন। এক হিসেবে আপনি ভালোই করেছেন, বাবার হোটেল না ছাড়লে তো বুঝতে পারতেন না, বিনে পয়সায় বাবার হোটেলে থাকা প্লাস খাওয়ার মজাটা কী!

এই খাওয়া নিয়ে এবার আরেকটু হেসে নেওয়া যাক। জনৈক ভদ্রলোক এক বাড়িতে দাওয়াত খেতে গেছেন। তো দাওয়াতি অন্যান্য মেহমান ভদ্রলোককে বলছেনÑ ভাই, আপনাকে কি দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল? জবাবে ভদ্রলোক বললেন, বাড়ির কর্তা না হয় ভুল করে আমাকে দাওয়াত দেননি, কিন্তু আমার তো একটা বিবেচনাবোধ আছে। নাকি!

কলকাতার দাদাবাবুরা নাকি বাড়িতে অতিথি দেখলে বলেন, দাদা কি খেয়ে এসেছেন, নাকি (বাড়িতে) গিয়ে খাবেন? এমন তরো কথা শুনলে আপনাদের মেজাজের অবস্থা কী হবে জানি না, তবে আমার মেজাজ ফোর্টি নাইন হয়ে যাবে! অতএব, আর সামনে বাড়তে চাই না। কারণ আমার মেজাজ খারাপ করে আপনাদের মেজাজের বারটা বাজাতে চাই না! সুতরাং মেজাজ খারাপ না করাই হবে সকলের জন্য মঙ্গলজনক।
তবে আপনি যদি আমাকে আপনার বাড়িতে দাওয়াত করে খাওয়াতে চান, তাহলে ভিন্ন কথা!
মানে... সেক্ষেত্রে তো রাগ করার প্রশ্নই ওঠে না!