ভালোবাসার ফুল!

ঢাকা, শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭

ভালোবাসার ফুল!

মাজেদা বেগম মাজু ১২:১৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১

print
ভালোবাসার ফুল!

বিল্টু আজ প্রথম প্রেম বিনিময় করবে ওর ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা! বিউটির দেওয়া গিফট বক্স খুলেই বিল্টু চলে যাবে ওকে নিয়ে প্রেম সাগরে হাবুডুবু খেতে। বিল্টুর প্রতীক্ষার প্রহর যেন শেষ হতে চায় না। প্রতিদিন গলির মোড়ে রিকশার জন্য দাঁড়িয়ে থাকা বিউটিকে দেখে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে বিল্টুর। চোখ কচলে বারবার দেখেও যেন সাধ মেটে না ওর। মেয়েমানুষ এত সুন্দর হয়! বিল্টু যেন বিশ্বাসই করতে চায় না। হর্সটেইল চুল, টি শার্ট, জিন্স প্যান্ট, চোখে সানগ্লাস পরা বিউটি যখন উঁচু হিল পরে কোমর দুলিয়ে গটগট করে হেঁটে যায়। দেখে মনে হয় যেন কোনো র‌্যাম্প মডেল বুঝি মঞ্চে হাঁটছে। আহ্, ‘বিউটি’ নাম যেন ওর সার্থক হয়েছে! বিল্টু বিউটিকে দেখে মনে মনে কতকিছু আওড়ায়, নিজেই জানে না। 

মনে মনে কত নামে ডাকে ওকে। কখনো বিউটি, কখনো বিউটিফুল, কখনো-বা ফুলসোনা। কিন্তু এসবের কোনোকিছুই আর ওর ফুলসোনাকে বলা হয় না। দুইবার উচ্চমাধ্যমিক ফেল করা বিল্টু বিউটির সামনে আসার সাহস করতে না পারলেও একদিন দুঃসাহস করে এসএমএস পাঠিয়ে দেয় ওর কাছে। ‘ফুলসোনা তুমি কিছু মনে করো না। আমি নিজের অজান্তে তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি। তুমি যদি রাজি থাক তবে আগামী ১৪ তারিখে ভালোবাসা দিবসে তোমার সঙ্গে পার্কে বসতে চাই’।

ফুলসোনা আবার পাল্টা এসএমএস পাঠায়, ‘বিল্টুসোনা তোমাকে দেখে আমি মুগ্ধ। তোমার প্রস্তাব আমি সানন্দে গ্রহণ করলাম। কিন্তু তার আগে আমি তোমাকে সারপ্রাইজ দিতে চাই। তোমাকে একটা গিফট বক্স দেব। ১৪ তারিখ বিকাল চারটার সময় ব্যালকনিতে বসে ঐ গিফট বক্স খুলে নিচের দিকে তাকালেই আমাকে পেয়ে যাবে’। ভালোবাসা দিবসের দুইদিন আগে পাঠানো গিফট বক্স পেয়ে অস্থিরতায় সময় কাটছে বিল্টুর।

প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হতে চায় না। মাঝারি সাইজের গিফট বক্সের ভিতরে কী সারপ্রাইজ থাকতে পারে! কতকিছু কল্পনা করে বিল্টু। রাতে ঘুম আসে না, বিছানায় ছটফট করে কাটায়। কখনো ঘুমিয়ে পড়লে কত কী স্বপ্ন দেখে গিফট বক্স নিয়ে। অবশেষে বিল্টুর অপেক্ষার পালা শেষ হয়ে আসে। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা! ঘড়ির কাঁটা ঠিক যখন চারটার দিকে ঘুরতে থাকে বিল্টুর উত্তেজনাও বাড়তে থাকে। চারটার কাঁটা যখন ছুঁই ছুঁই বিল্টুর হৃদপি- হাইস্পিডে ধুকধুক করছিল। টানটান উত্তেজনা! কাঁপা হাতে একটানে বক্সের র‌্যাপিং পেপার খুলে ফেলে বিল্টু। বক্স খুলে ওর চক্ষুযুগল ছানাবড়া হয়ে গেল। ডিমের খোসার ওপর লেখা ‘ভালোবাসার ফুল’। নিচের দিকে তাকিয়ে দেখে ওর ফুলসোনা পাশের ফ্ল্যাটের হ্যান্ডসাম তারেকের হাত ধরে সরু পেন্সিল হিলের আঘাতে ওর বুকের পাঁজরগুলো গুঁড়িয়ে দিয়ে হনহন করে হেঁটে পার্কের দিকে চলে গেল। ঠিক তখন ‘ভালোবাসার ফুল’ বিল্টুসোনার কানে দূর কোথা থেকে ভেসে এলো মমতাজের গান ‘বুকটা ফাইট্টা যায়...’।