শয়তানের শক্তি

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১ | ৯ মাঘ ১৪২৭

শয়তানের শক্তি

আব্দুল্লাহ আল মাছুম ১২:৪১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০১, ২০২০

print
শয়তানের শক্তি

নরওয়েজীয় লোককাহিনি অবলম্বনে গল্প। বাংলায় রূপান্তর করেছেন আব্দুল্লাহ আল মাছুম

একদিন এক ইঁচড়েপাকা পোলা রাস্তায় একলা হাঁটছিল। হাঁটতে হাঁটতে একটি পোকা খাওয়া বাদাম নজরে পড়ে। পোলা বাদামটি হাতে নেয়। ঠিক তখনই শয়তানের সঙ্গে দেখা। শয়তানকে দেখে বলে, ‘শয়তান নাকি যত ইচ্ছা ততই ছোট হতে পারে। এমনকি পিনের ছিদ্রেও ঢুকতে পারে। সত্যি নাকি?’ 
শয়তান দশ হাত চওড়া এক ভেটকি দিয়ে বলে, ‘হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছ।’ 

‘ওহ, তাই! আমাকে দেখাও দেখি। বেশি কিছু না। পারলে এই বাদামে পোকায় করা ছিদ্রে ঢোকো তো’!
সক্ষমতা দেখাতে শয়তান পোকায় করা ছিদ্র দিয়ে বাদামে ঢুকে পড়ে। অমনি পোলা পিন দিয়ে বাদামের ছিদ্র বন্ধ করে দেয়। বলে, ‘তোমাকে ভালোমতো আটকেছি’। বাদামটি পকেটে রেখে হাঁটতে শুরু করে। এরপর কিছুদূর হেঁটে পোলা কামারশালায় আসে। কামার তাকে বাদামটি ভেঙে দিতে পারবে কিনা জিজ্ঞাসা করে। কামার বলে, ‘আরেহ, এত সহজ আর আছে নাকি!’ বেশ ফুরফুরায় কামার বাদামটি নেহাইয়ের ওপর রেখে ছোট্ট একটি হাতুড়ি দিয়ে বাড়ি দেয়। কিন্তু বাদাম ভাঙতে পারল না। এরপর সে আরেকটু বড় হাতুড়ি দিয়ে চেষ্টা করেও পারল না। এবার আরও বড় হাতুড়ি দিয়ে দিল এক বাড়ি। কিন্তু একই অবস্থা। বাদামে চিড় ধরাতে পারল না। কামার রাগে গড়গড় করে ওঠে। সবচেয়ে বড় ও ভারী হাতুড়ির হাতল ধরে বলে, ‘এবার তোকে টুকরো টুকরো করে ছাড়ব।’ হাতুড়ি তুলে কামার সর্বশক্তি দিয়ে দেয় প্রচ- বাড়ি। অমনি বাদাম টুকরো টুকরো হয়ে ছিটকে কামারশালার ছাদে গিয়ে আঘাত করে। আঘাতে অর্ধেক ছাদ ফুটো হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে কামারশালায় ফাটল ধরে বিকট শব্দ হয়। যেন এখনই ঘর ধসে পড়বে। ‘বাদামে অবশ্যই শয়তান আছে। না হয় এমন হবে কেন?’ কামার দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। ‘তোমার ধারণা একদমই সঠিক’। পোলা হাসতে হাসতে বাজারে থাকা আরও ছোট-বড় পোলার ভিড়ে মিশে যায়।