যে কাজে নোবেল আসবে!

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১ | ৯ মাঘ ১৪২৭

যে কাজে নোবেল আসবে!

তারেকুর রহমান ১২:১৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০১, ২০২০

print
যে কাজে নোবেল আসবে!

চিকিৎসা
আমাদের দেশের গর্ভবতী মহিলাদের প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে সিজার করতে হয়। গর্ভবতী মহিলারা ডাক্তারের শরণাপন্ন হলেই সিজার করতে বলে। এরকম রোগী দেখলেই মুখস্ত সিজার করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে রোগীর ক্ষতি হয়েও গেলেও ডাক্তারের পকেট ভারী হয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে আমাদের দেশের সিজারের ৭৭ শতাংশই অপ্রয়োজনীয়। এমনকি আগের তুলনায় এখন সিজার ৫১ শতাংশ বেড়ে গেছে। এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অভূতপূর্ব আবিষ্কার। পৃথিবীর কোনো দেশের এরকম বেশি পরিমাণ সিজার না হলেও আমাদের দেশে হরহামেশাই হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এটাকে রোল মডেল হিসেবে নিতে পারে। তাই অদূর ভবিষ্যতে এই সিজারই আমাদের নোবেল এনে দিতে পারবে।

পদার্থবিজ্ঞান
আমরা জড়তার সংজ্ঞা থেকে জানি, কোনো বস্তু যে অবস্থায় আছে সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার প্রবণতা। জড়তা দুই প্রকার- একটি হলো স্থিতি জড়তা আরেকটি হলো গতি জড়তা। স্থির বস্তু স্থির থাকার প্রবণতাকে স্থিতি জড়তা এবং গতিশীল বস্তু তার গতিতে চলতে থাকার প্রবণতাকে গতি জড়তা বলে। জড়তা পদার্থবিজ্ঞানের এক মৌলিক বিষয় যা বস্তুর গতির অবস্থা সম্পর্কে ধারণা দেয়। আমাদের দেশে স্থিতি জড়তা এবং গতি জড়তার বড় ধরনের এক ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। পৃথিবীর কোনো দেশ জড়তার এরকম উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারেনি। ঢাকার রাস্তায় জ্যামের কারণে গাড়িগুলো নড়তে চায় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে। এটি স্থিতি জড়তার বড় উদাহরণ। আবার হাইওয়ে রোডে গেলে ড্রাইভারদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো দেখা যায়। তাদের গাড়ির গতি কিছুতেই থামতে চায় না। এটি গতি জড়তার বড় উদাহরণ।

রসায়ন
আপনারা ফরমালিনের নাম শুনেছেন। ফরমালিন হলো ফরমালডিহাইডের জলীয় দ্রবণ। ফরমালডিহাইড হলো এক ধরনের রাসায়নিক যৌগ। বর্ণহীন ও দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস হিসেবে এর পরিচিতি রয়েছে। এটি বিষাক্ত পদার্থ। এটি মূলত বস্ত্রখাতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু আমাদের এ দেশের মানুষ আরও একধাপ এগিয়ে। তারা ফরমালিনের নানামুখী ব্যবহার আবিষ্কার করে। বিশেষ করে মাছ তাজা রাখার জন্য ফরমালিন ব্যবহার করে রাখে। খাবারে ফরমালিন ব্যবহার ক্যান্সার সৃষ্টি করলেও মাছ তাজা রাখতে ফরমালিন ব্যবহার বিজ্ঞানের এক অভূতপূর্ব আবিষ্কার। এ দেশের বিজ্ঞানীরা মাছ ছাড়াও নানা জিনিসকে ফরমালিন দিয়ে তাজা রাখাও আবিষ্কার করছে। ফরমালিনের এই বহুমুখী ব্যবহারের জন্য আমরা রসায়নে নোবেল পেতে পারি।

অর্থনীতি
আমাদের দেশে বড় বড় অফিস আদালতে কোনো কাজ সম্পন্ন করতে হলে ঘুষ দিতে হয়। ঘুষ এখন ছড়িয়ে পড়েছে আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। ঘুষ খুবই উপকারী একটা বিষয়। ঘুষ না থাকলে এ দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ত। যারা ঘুষ খায় তারা ঘুষ না পেলে অসচ্ছল হয়ে যেত। ফলে দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়ে যেত। আবার ঘুষখোররা ব্যাংকে টাকা রাখার কারণে দেশের বড়ই উপকার হচ্ছে। এটি একটি লাভজনক খাত। একটা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ঘুষের ভূমিকা অপরিসীম। ইতোমধ্যে আমরা সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। তাই আমাদের ঘুষখোরদের অর্থনীতিতে নোবেল দেওয়া উচিত।

সাহিত্য
এখন ফেসবুকে অনেক লেখকের আনাগোনা। আমাদের দেশে মনে হয় একটু বেশিই আছে। বইমেলা এলে লেখকের সংখ্যা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। সারা বছর কোনো সাহিত্যকর্ম না থাকলেও বইমেলার সময় অটোগ্রাফ দিতে লাইন ধরে তথাকথিত লেখকরা। অনেকে মেতে উঠে কে কয় সংস্করণ শেষ করতে পেরেছে তার সংখ্যা নিয়ে। অনেকের তো বইমেলার প্রথম দিনেই বারো তেরো সংস্করণ শেষ হয়ে যায়। এদেশের অনেকেরই বই বের করার প্রবণতা দেখা যায়। লেখালেখি না শিখেই বই বের করার ইচ্ছে আমাদের সাহিত্যকে অনেক দূর নিয়ে যাচ্ছে। এটি সারা পৃথিবীর সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে এক ধরনের দৃষ্টান্ত। এ টাইপের লেখকরাই একদিন আমাদের সাহিত্যে নোবেল এনে দিতে পারবেন।

শান্তি
পৃথিবী উল্টে গেলেও এমনকি সারা পৃথিবীতে অনেক যুদ্ধ বিগ্রহ লাগলেও আমাদের টিভি চ্যানেল বিটিভিতে কোনো প্রকার অশান্তির কিছু দেখতে পাবেন না। বিটিভি সবসময় ইতিবাচক সংবাদ প্রচারের চেষ্টা করে। বিটিভি দেশের শান্তি শৃঙ্খলায় এক অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখে চলেছে। একটি জাতিকে কীভাবে শান্তির বাণী শুনিয়ে যুগের পর যুগ কাটিয়ে দেওয়া যায় তা আমাদের বিটিভি দেখিয়েছে। তাই বিটিভি শান্তিতে নোবেল পাওয়ার দাবি রাখে।