আলুর দাম বাড়ানো যৌক্তিক!

ঢাকা, শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

আলুর দাম বাড়ানো যৌক্তিক!

হেলাল নিরব ২:৪১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২০

print
আলুর দাম বাড়ানো যৌক্তিক!

কত কিছুর তো দাম বাড়ছে! পেঁয়াজ, মরিচ, চাল আর এবার নতুন করে যুক্ত হলো আলু। সরকার হিসেবে পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও বাজারের চিত্র পুরাই উল্টো। তবে ঠিক কী কারণে এমন ভিন্ন চিত্র? আর কেনইবা বাড়ছে আলুর দাম? সে বিষয়ে যুক্তিসঙ্গত কারণ জানাচ্ছেন হেলাল নিরব

সংকট রোধে : বর্তমান বাজারে যেখানে সাধারণ সবজির দাম অর্ধশত পার করেছে সেখানে জনপ্রিয় আলু বিক্রি হতো মাত্র বিশ টাকায়! আর সে সুযোগে জনগণও ভবিষ্যৎ চিন্তা না করে আলুর পেছনে উঠে-পড়ে লেগেছিল। বাংলার ব্যবসায়ীরা দেখল, এমন চললে তো মহাবিপদ, উহু আর না! আর সে কারণে তারা মজুদ থাকা সত্ত্বেও আলুর দাম বাড়িয়েছে। ব্যবসায়ীরা আসলে ভবিষ্যৎ সংকট রোধের চেষ্টা চালাচ্ছে।

সাম্যবাদী চিন্তা : আলুকে অনেকটা জাতীয় সবজি বলা চলে। তবে জাতীয় নাম ধারণ করলেও বাজার বা রান্নার ঘরে স্বৈরাচারী রাজত্ব করে এ সবজি। তাই সরকারি হিসেবে আলুর পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে আলু কর্তৃক এ বৈষম্যের ইতি টানাতে চাচ্ছে।

‘গাহি সাম্যের গান’ স্লোগানে ব্যবসায়ীরা আলুর ওপর যাতে জনগণ অন্ধবিশ্বাসের মতো নির্ভরশীল না হন, সেই প্রচেষ্টা সফলভাবে চালাচ্ছেন।

ঐতিহ্য রক্ষার্থে : ‘তোষামোদ করা’ বা একদম সহজ ভাষায় ‘পা চাটা’কে বোঝানোর ক্ষেত্রে একসময় ‘আলু দিস না’ বিশেষণ ব্যবহার করা হতো।
কিন্তু যুগের তালে তালে আলুর বাজার মূল্য কম থাকায় সে জায়গাটা হারায় এ সবজি। নতুন করে সেখানে মানুষ বলে দামি গ্যাসের কথা (পাম দিস না)। কিন্তু পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আলুকে আগের জায়গায় বসাতেই আলুর এমন দাম বাড়ানো। মজুদ থাকার পরেও ব্যবসায়ীদের এমন সাংস্কৃতিক চিন্তাধারা বেশ প্রশংসাযোগ্য।

সমান্তরালে চলতে : ডিজিটাল যুগের দাপাদাপিতে আলুকে অনেকে ব্যাকডেটের পণ্য ভাবা শুরু করেছিল। তবে সবকিছুর দাম যেখানে বাড়ছে সেখানে দারুণ কূটকৌশলে বাজারের সব থেকে জনপ্রিয় এ সবজিকে অবহেলা করা হচ্ছিল, নীরবে নিভৃতে। যা মানতে পারেননি বাংলার প্রাণ বাংলার মান ব্যবসায়ীরা। তাই সরকারি হিসেবে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীরা আলুকে বাজারের মানসম্মত স্থানে তুলতে দাম বাড়ানোর এ প্রশংসনীয় উদ্যোগ নেন।

এক্সপেরিমেন্ট করতে : আলুর মজুদ থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীদের কয়েক দফা দাম বাড়ানোর পেছনের অন্যতম কারণ তাদের একটা ‘পরীক্ষা’ বা এক্সপেরিমেন্ট।

জনগণের ওপর দামের প্রভাব ফেলে আসলে ব্যবসায়ীরা দেখতে চাচ্ছে, বাংলাদেশের জনগণ ধনী নাকি গরিব। আর হুট করেই দাম বাড়িয়ে তারা বিচার করছে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা কতটুকু।