গার্লফ্রেন্ডের সংজ্ঞা

ঢাকা, শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

গার্লফ্রেন্ডের সংজ্ঞা

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ২:৩৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২০

print
গার্লফ্রেন্ডের সংজ্ঞা

সব শোনার পর আমাদের বস আকবর আলী মৃধা অথৈ সাগরে পড়লেন। তিনি গার্লফ্রেন্ডের ধারণাটা কিছুতেই বুঝতে পারছিলেন না। বারবার জিজ্ঞাসা করছিলেন, ‘তাহলে ফ্রেন্ডের সঙ্গে মিলটা কোথায় আর ওয়াইফের সঙ্গেই-বা পার্থক্য কী?’ আমরা বিজ্ঞান বইয়ের কায়দায় দফাওয়ারি পার্থক্য বললাম- বউকে বিয়ে করতে হয়, গার্লফ্রেন্ডকে বিয়ে করতে হয় না; বউয়ের সঙ্গে ডিভোর্স হয়, গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে ব্রেক-আপ হয়; বউয়ের বাচ্চা হয়, গার্লফ্রেন্ডের বাচ্চা হয় না...। প্রতিটা পার্থক্যের শেষে তিনি কেবল ‘কেন-কেন’ করছিলেন।

এরপর বিষয়টা আমরা ভুলে গেলাম। অনেকদিন ভুলেই থাকলাম। একদিন স্যারের রুমে ঢুকে দেখি বিষয়টা তিনি মোটেই ভোলেননি- ‘ইয়াংমেন, আমি বোধহয় এতদিনে ব্যাপারটা ধরতে পেরেছি।’ সামনে উপবিষ্ট একজন প্রৌঢ়া ভদ্রমহিলার দিকে তাকিয়ে গদগদ কণ্ঠে আমাদের বললেন।

ভদ্রমহিলা চেয়ারে বসেই আমাদের দিকে একটু ঘুরে হাসলেন। মুখ ফেরাতেই বুঝলাম তার সব চুল পাকা। মিহি কালো কলপ ঠেলে এক সেন্টিমিটার সাদা চুল বেরিয়েছে- মাথার মাঝ বরাবর সিঁথিতে দেখা যাচ্ছে, মধ্য কপালে এসে সেই এক সেন্টিমিটার সাদা চুলের রেখা দুই ভাগ হয়ে কপালের ধার বেয়ে দুই দিকে গিয়েছে। ভদ্রমহিলার মুখের গড়নে বংশানুক্রমিক আভিজাত্য আর মানানসই সম্ভ্রমবোধ।

স্যার বললেন, ‘ও হচ্ছে প্রফেসর শামসাদ বেগম। হোম ইকোনোমিক্সের প্রফেসর। আমার কলেজ ফ্রেন্ড।’ আমরা তার সম্ভ্রান্ত ফ্রেন্ডকে দেখে যতদূর সম্ভব পরিশীলিত হাসি দিলাম। তিনি বোধ হয় এতক্ষণ ধরে স্যারকে বুঝিয়ে ছেড়েছেন।

স্যার হাত তুললেন, ‘ইয়াংমেন, শোনো তোমরা,’ বুড়ি আঙুল বাঁকা করে কড়ে আঙুলের কর গুনে গুনে বললেন, ‘ওর কোনো বাচ্চা নেই, ওর বিয়েও হয়নি, ওর কখনো ডিভোর্সও হয়নি, তবে ভার্সিটিতে থাকতে একবার দুবার ব্রেকআপ হয়েছে। অতএব ও হচ্ছে একজন গার্লফ্রেন্ড!’