অন্যরকম উদ্ধার অভিযান

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

অন্যরকম উদ্ধার অভিযান

আবদুর রব শরীফ ৩:৪৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২০

print
অন্যরকম উদ্ধার অভিযান

গফের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, উপায়ান্তর না দেখে রুশ মিগ-৩৫ ফাইভ-জি যুদ্ধবিমান নিয়ে রওনা হয়ে গেলাম। যদিও ভ্লাদিমির পুতিন সাহেব প্রথমে বিমান ধার দিতে রাজি হতে চাচ্ছিলেন না। তবুও মানবতা বলে একটা কথা আছে। একটি প্রেমের এমন সমাপ্তি হলে তা বিশ্বের জন্য হবে লজ্জাকর অধ্যায়। হতে পারে এ বিয়ে আটকে ফলাও করে প্রচার করে আগামী নোবেল শান্তি পুরস্কার রাশিয়ার থলিতে যোগও হতে পারে।

ঝামেলা হলো, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তাদের রাডারগুলো আপডেট দিয়েছে। যাওয়ার আগে একটি শান্তিচুক্তি করে নিলে মন্দ হবে না। যদিও আমেরিকার সঙ্গে শান্তিচুক্তি করতে গেলে তারা প্রেমের ইতিহাসে নাম লেখানোর জন্য উল্টো দ্য লকহিড এফ-১১ যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে দিতে পারে যা রাডার ফাঁকি দিতে কোনো অংশে কম যায় না।

যদিও ‘স্টেলথ মোড’ প্রযুক্তিযুক্ত যুদ্ধবিমানগুলো হাতেগোনা। তবে আমরা যেহেতু মিয়া-বিবি দুজন মুসলিম সুতরাং ইরানের কাহার এফ-৩১৩ নিলে আরেকটু আরামে যেতে পারতাম। একটা ধর্মীয় আবহ থাকত। যাই হোক গার্লফ্রেন্ডের বিয়ে নিয়ে কথা সুতরাং এত আরাম দিয়ে কী আর হবে!

শুনেছি আমাদের একটা ইউনিক ড্রোন আছে যা রাডার ফাঁকি না দিতে পারলেও মেয়ের বাবার চোখ অবশ্যই ফাঁকি দিতে পারবে বলে মনে হয়।

যাই হোক, বিমানে উঠে মনে হলো ফার্স্ট গিয়ারে পা দিলাম। ঘাপলা লাগল! আগে জানতাম গাড়িতে গিয়ার টিয়ার থাকে এখন দেখি বিমানেও...! এ আমি কোথায় উঠলাম!

গিয়ার আরও বাড়ালাম। উপরে ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’ বাজছে। আমিও কল্পনায় হারিয়ে যাচ্ছি। ছবির সুনামী গার্ডেনে শাহরুখ খানের মতো দুহাত ছড়িয়ে এক হাঁটু গুঁজে বসলাম। আবেগে গুনগুন করে ‘টুম্পা চে আয়ে, ইয়ু মুজকো বায়ে’ গাওয়া শুরু করলাম তারপর মনে পড়ল গফের নাম তো টুম্পা না।

এটা কী হলো! গানের সুরে অভিনয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দুহাত দুদিকে ছড়িয়ে দিতে গিয়ে দেখি, হাত থেকে হ্যান্ডেল ছেড়ে দেওয়ায় বিমান নোয়াখালীর ওপর ঘুরপাক খেতে খেতে প্রায় বরিশালে এসে থামল।

মনে পড়ল বরিশালের পেয়ারা মেয়েদের কী চেহারা। চিন্তা করছি এখানে থেকে যাব কিনা! কীসের গফ কীসের বফ! পাশ থেকে কে যেন এসে বলল, ‘মনু, বিমানে তেল দিছো না দিবা?’

মনে হলো, এখানের মেয়েরা সুবিধার না। দ্রুত পা দিয়ে আবারও গিয়ারে চাপ দিলাম। বিমান উপরে উঠছে। উড়ছে তো উড়ছে। স্টিয়ারিংয়ে প্রেশার দিলাম! মনে হলো গিয়ার ছিঁড়ে যাচ্ছে। সবদিকে গণ্ডগোল।

রাগে অভিমানে পা দিয়ে আরও জোরে চাপ দিলাম। সঙ্গে সঙ্গে ট্রিট ট্রিট করে গিয়ার ছিঁড়ে গেল! ভাবছি ভেঙে যাওয়ার কথা, ছিঁড়ে গেল কেমনে! যাই হোক নিশ্চিত মৃত্যু... ওদিকে গফের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে এদিকে আমার জীবন সংকটাপন্ন ‘ভেঙে গেল, ভেঙে গেল, ভেঙে গেল সবি, হয়তো জীবন বুঝি কাচেরও ছবি।’

তবুও রাগ ক্ষোভ যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে ভাঙা গিয়ার উপড়ে ফেলতে গিয়ে দেখি ঘুম ভেঙে গেছে। কাঁথার ছিদ্রে পা থাকায়, ঘুম থেকে জেগে দেখি পায়ের চাপে ছেঁড়া কাঁথা আরও ছিঁড়ে চৌচির।’