ফাইট ফর লাইফ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ফাইট ফর লাইফ

আবু সাইদ ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২০

print
ফাইট ফর লাইফ

হাসান সাহেব মাসিক রিপোর্ট প্রণয়নের বাকি অংশের কাজ করতে গিয়ে ফাইল কেবিনেটের চাবি খুঁজে পাচ্ছেন না। কোথায় রেখেছেন তাও মনে করতে পারছেন না। বারবার পিয়ন ফারুককে জিজ্ঞেস করছেন। কিন্তু সেও চাবির হদিস দিতে পারছে না। তাই হাসান সাহেব পিয়নের ওপর রাগ দেখিয়ে গালিগালাজ করছেন। চাবি না পাওয়ায় অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলেন ফাইল কেবিনেটের তালা ভাঙার।

হ্যাঁ, ঠিক তাই। হাতুড়ি দিয়ে ফাইল কেবিনেটের তালা ভেঙে তা উদ্ধার করা হল। পরক্ষণেই হাসান সাহেব প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে দেখেন চাবির গোছা বহাল তবিয়তে সেখানেই রয়েছে। তিনি নিজের ওপর বেদম ক্ষেপে গেলেন। সেদিনের অফিসের সময় প্রায় শেষ হতে চলেছে। উপায়ন্তর না দেখে অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলেন ডিস্ট্রিক্ট অফিসার মহোদয়ের কাছে দু’একদিনের সময় প্রার্থনার।

সে উদ্দেশ্যে তার মোবাইল ফোনটা কাঁধ দিয়ে ঠেস দিয়ে কানের কাছে ধরে বসের (নড়ংং) কাছে ফোন করলেন। আর দু’হাত দিয়ে ফাইলের ফিতা বাঁধতে লাগলেন। রিংটোন বেজে চলেছে আর এদিকে তার একপক্ষীয় গালিগালাজ চলছে পিয়নটার ওপর। পিয়ন নিথর পাথরের মতো নিশ্চুপ হয়ে তার অকথ্য গালিগালাজ হজম করে যাচ্ছে। নিশ্চুপতার কারণে একপর্যায়ে হাসান সাহেব আরও ক্ষেপে বলে উঠলেন, এই ব্যাটা, কথা বলিস না ক্যান?

বোবায় ধরেছে নাকি?

ইতোমধ্যে হাসান সাহেবের বস ফোনটা রিসিভ করেছেন। তার সাব-অর্ডিনেটের এহেন ধমক শুনে এক্কেবারে থান্ডার হয়ে গেলেন।
হাসান সাহেব!

বলে চিৎকার করে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে গর্জে উঠলেন হাসান সাহেবের বস। যেন হিরোশিমা নাগাসাকিতে ট্রুম্যানের আণবিক বোমা বর্ষিত হল।
সংবিত ফিরে পেয়ে কী বলবেন!
কী করবেন?
কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না তিনি।

ভয়ে কাঁপা শুরু করলেন। তার কাঁধ থেকে মোবাইল ফোনটা পড়ে গেল মাটিতে।
তার চাকরির যে বারোটা বেজে গেছে তা বুঝতে বাকি রইল না।
কী করা যায়!

কেমনে বসের কাছে তার ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়া যায়। ভাবতে ভাবতে বাসায় ফিরলেন তিনি। বাসায় গিয়ে বউয়ের কাছে পরামর্শ চাইতেই শুরু হলো আরেক বাকযুদ্ধ। হাসান সাহেবের স্ত্রী শুরু করে দিল তার পুরনো দুঃখের কথা। তার নাকি হাসান সাহেবের সঙ্গে বিয়ে হয়ে জীবন স্পয়েল হয়ে গেছে। এমন হাবাগোবা মানুষ নিয়ে বিশ বছর সংসার করেছে। সে না হয়ে অন্য যে কোনো মেয়ে হলে তাকে ছেড়ে কবেই চলে যেত... কত কী! আবারও উপায়ন্তর না দেখে বাড়ির বাইরে গিয়ে ভাবতে লাগলেন তিনি।

হঠাৎ তার মনে হলো পিয়ন ফারুককে ম্যানেজ করে তার বসের কাছে গিয়ে সত্যিটা জানানো। তাই সে ফারুককে ফোন করার জন্য মোবাইলটা বের করলেন। ফোন করতে গিয়ে দেখেন ফোনের মনিটর ঘোলাটে হয়ে গেছে তার বসের সঙ্গে কথা বলার সময় আছাড় খেয়ে।

তাই সে খুব খেয়াল করে ‘এফ’ বর্ণ দিয়ে ফারুকের নাম সার্চ দিয়ে ফোন দিলেন। সেখানেও বিপত্তি। মেয়েলি কণ্ঠ শুনে সে ভাবল ফোনটা রিসিভ করেছে ফারুকের বউ। অনেক গালাগাল করেছেন, অভিমান করে তাই হয়তো ফারুক তার বউকে দিয়ে ফোন রিসিভ করিয়েছে। এটা ভেবে হাসান সাহেব বলতে থাকলেন, ফারুক আমার ওপর খুব রাগ করেছে, তাই না? তাকে ফোনটা দাও।

হিহিহি... হিহিহি... হাসতে হাসতে মেয়েটি বলে উঠল, আরে দুলাভাই! মাথাটা ঠিক আছে তো?

আরে আমি ফারজানা। আপনার ছোট শ্যালিকা। কাকে কী বলছেন?

বলেই বিভিন্ন ধরনের রসাল আলাপ শুরু করে দিল। হ্যাঁ, হুম উত্তর দিয়ে তিনি কোনোমতে উদ্ধার হলেন। আবার ফারুককে ফোন দেওয়ার জন্য পুনরায় ‘এফ’ বর্ণ দিয়ে সার্চ দিলেন। সেই ঘোলা ঘোলা মনিটরে ফারুক নামটা মোটামুটি ডিটেক্ট করে ফোন দিলেন। এবার ফোন রিসিভ হওয়া মাত্রই হাসান সাহেব বলতে শুরু করল, বিকেলে তোকে খুব গালি দিয়েছি। খুব রাগ হয়েছে রে তোর? রাগ করিস না, ভাই। জানিসই তো আমার মাথা ঠিক ছিল না।

সাব-অর্ডিনেটের কাছে আবারও তুই-তোকারি শুনে অফিসারের মাথা আরও গরম হয়ে উঠল। পাগল হয়েছেন! কাকে কী বলতে হয়, সেটাও জানেন না?
বলেই আবার বাঘের মতো গর্জে উঠলেন তার বস। কারণ ফারহান স্যার নামে সেভ করা ছিল অফিসারের নম্বর। ফারুকের কাছে না গিয়ে ফোন গেছে তার বস ফারহান সাহেবের কাছে।

হাসান সাহেব বসের রুষ্ট কণ্ঠ শুনে ভয়ে পাগলপ্রায় হয়ে গেলেন। ফোনের লাইন না কেটে দিয়েই বিড়বিড় করে বলতে থাকলেন-
এফ ফর ফারুক।
এফ ফর ফারজানা।
এফ ফর ফারহান স্যার।
এফ ফর ফাইট।
ফাইট ফর লাইফ।