পচা আঙ্কেল

ঢাকা, শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

পচা আঙ্কেল

মনিরা পারভীন ৩:১৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৩, ২০২০

print
পচা আঙ্কেল

বাবা-মায়ের একমাত্র আদরের মেয়ে সারা। খুব মেধাবী। সারা দিন নানা রকম খেলায় দিন কাটে তার। এছাড়া নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি তো চলছেই। ক্লাস ওয়ানে পড়ে সারা। ঢাকার মিরপুর ১০-এ থাকে।

শুক্রবার। আজ ছুটির দিন। বিকেলে সারার বাবার বন্ধু বেড়াতে এসেছেন। আঙ্কেলকে সালাম দেয় সারা। তিনি বলেন, মামনি কাছে আসো। তোমার জন্য অনেক চকলেট নিয়ে এসেছি। সারা কাছে গিয়ে বসে। সারার মা বলেন, ভাই ওর সঙ্গে গল্প করেন, আমি চা নিয়ে আসি। সারার বাবা কিছুক্ষণ গল্প করে চলে যায়।

সারাকে আঙ্কেল কোলে বসিয়ে নেন। তার ভালো লাগে না এ আঙ্কেলকে। কিছুক্ষণ পর সে নিজের ঘরে চলে যায়। পুতুল নিয়ে খেলা করে। সারার মা নাশতা নিয়ে আসে। ওর বাবাও আসে। সারাকে ডাকতে থাকে নাশতা করার জন্য। সারা কিছুতেই আসে না। রাগ করে বলে, খাব না কিছু, তোমরা খাও। তোমাদের সঙ্গে খেতে ভালো লাগে না। আমি পরে একা খাব। সারার এমন কথায় মা বোঝেন কিছু একটা হয়েছে।

নাশতা শেষে সারার বাবা বন্ধুর সঙ্গে বের হয়ে যান। সারার মা ঘরে এসে বলেন, সারা কী হয়েছে আম্মু? আসো একটু নাশতা করে নাও। আমরা ঘুরতে যাব, ঠিক আছে? রাগ করে না। সারা তবু খেলা নিয়ে থাকে। ওর মা তখন সোফায় ফেলে আসা চকলেট নিয়ে আসেন।

সারাকে বলেন, আম্মু এই যে তোমার চকলেট। দেখো আঙ্কেল তোমার পছন্দের চকলেট নিয়ে এসেছে। সারা তখন রাগ করে বলে, আম্মু ওই আঙ্কেল খুব পচা। এ কথা শুনে তিনি একটু ভাবনায় পড়েন।

আদর করে কাছে নিয়ে বলেন, কেন মা? সারা বলে, আঙ্কেল আদর করে ঠিক। কেমন করে যেন আদর করে। আরও আঙ্কেল আছে তো আম্মু। ওনারা খুব ভালো। এই আঙ্কেল ভালো না। আমি আর আঙ্কেলের কাছে যাব না।

সারার মা তখন মেয়েকে আদর দিয়ে বলেন, ঠিক আছে আম্মু, কাছে যাবে না। দূরে থাকবে। আর তোমার সব কথা আমাকে বলবে। আমি তোমার বন্ধু না? আজ ঠিক কাজ করেছ। লাভ ইউ সোনা। এখন থেকে একা আঙ্কেলের কাছে যেতে হবে না। তোমাকে একা কারও কাছে যেতে দিব না।

তুমিও সব জায়গায় সাবধানে থাকবে। বুঝে চলবে, আচ্ছা? সারা মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে। দুই গালে মাকে চুমু দেয়। তিনিও আদর দিয়ে বলেন, চলো তৈরি হয়ে নাও। আমরা ঘুরতে যাব। সারার মন ভালো হয়। সে বুঝতে পারে সব মানুষ ভালো না। সব আদর ভালো না। মা তার পাশে থাকবে। তার কোনো আর ভয় নেই।