ফ্রি-ফায়ার মিশন, হচ্ছে ক্ষতি ভীষণ

ঢাকা, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২০ | ১৬ কার্তিক ১৪২৭

ফ্রি-ফায়ার মিশন, হচ্ছে ক্ষতি ভীষণ

এস আর শানু খান ১:০৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০

print
ফ্রি-ফায়ার মিশন, হচ্ছে ক্ষতি ভীষণ

জনপ্রিয় কয়েকটি গেমের মধ্যে ফ্রি-ফায়ার সম্প্রতি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটা গেমের অবস্থানে। মহামারীর বেড়াজালে সিজনাল খেলাধুলা করার সুযোগ নেই। ছেলেমেয়েরা গেমে ঝুঁকেছে। আর এই ফ্রি-ফায়ার গেমে আসক্ত ছেলেমেয়েদের অভিভাবকদের কাছে ফ্রি-ফায়ার যেন যমদূত। চলুন কিছু রঙ-ঢঙয়ের গল্প শুনি।

এসএসসি পরীক্ষা শেষে আমার খালাত ভাই নাঈম নানাবাড়িতে বেড়াতে এসেছে। শীতকাল। সারাক্ষণ ফোন নিয়ে পড়ে থাকে। দিনে নানা-নানি বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকে। তাছাড়া তেমন খেয়ালও করেন না যে নাঈম হাসান ফোনে কী করেন। তারা বয়স্ক মানুষ। একদিন রাতে তাহাজ্জুতের নামাজ পড়তে উঠে নানির খেয়াল হল নাঈম হাসান লেপ মুড়ি দিয়ে কী সব যেন বলাবলি করছে। নাঈম হাসান বলছে, অস্ত্র দাও, অস্ত্র দাও...। কিছু সময় পর বলছে, গুলি শেষ, কেউ গুলি দাও...।

এসব শুনে নানির তো চোখ কপালে ওঠার উপক্রম। আরও খেয়াল করতে লাগলেন। ওদিকে নাঈম হাসান কখনো বলছে মাথায় গুলি করো! কখনো বলছে ডাকাতি করো। তা পাও নিয়ে নাও। বোমা মারো। এমনি নানা ভয়ানক কথা। এসব কথা শোনার পর নানি সারারাতে চোখ বুজতে পারেননি। ফজরের নামাজের সময় ফোন দিয়েছেন আমার মায়ের কাছে। ফোন দিয়ে ফিসফিস করে মাকে বলছেন, নাঈমরে আমাদের বাড়ি থেকে নিয়ে যাও। যার ছেলে তার কাছে পাঠাও। ও ফোনে কী যেন শিখছে। সারা রাত কাদের সঙ্গে কথা বলে। ডাকাতি করে। গুলি মারে, বোমা মারে। মানুষও মারে। মণি, ও ছেলে মাস্তান হয়ে যাচ্ছে।

মা এসে আমার কাছে গিয়ে বলল সব কথা। তখন আমিও ফ্রি-ফায়ার জানি না। মায়ের এমন কথা শুনে হঠাৎ মনে পড়ল বাজারের কথা। বাজারের এক চায়ের দোকানে বসে আছি। পাশেই কয়েকজন পোলাপান ফোন চাপাচাপি করছে আর কী সব বলাবলি করছে। হঠাৎ ওদের কেউ এক আচমকা বলে উঠল, গুলি করো, গুলি করো... সামনে এনিমি। এই কথা শোনা মাত্রই চায়ের কাপ আমার হাত থেকে পড়ে গেল। মাকে বললাম, নাঈম হয়ত গেমে মশগুল থাকে। সকাল ১০টা বাজার আগেই দেখি নাঈমকে নানি আমাদের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। রাতে নাঈম এক লেপে আমি আর আমার বউ এক লেপে। হঠাৎ রাতে নাঈম আমাকে ঘুম থেকে ডেকে উঠিয়ে বলল, ভাইয়া, আমি বুইয়া হইছি বুইয়া।
বললাম, সেটা আবার কী!

সে বেশ কিছুদিন এখানে ছিল। আমার ছোট ভাই অনুসহ কয়েকজনকে গেমটি শেখাল। একদিন দুপুরে রাস্তা থেকে আওয়াজ এল। অনু জোরে জোরে বলছে, মার মার মার... হেড শট ডে। গুলি নেই? ঘুষিয়ে মার। এই কথা শুনে মা রান্নাবান্না ফেলে দৌড় আরম্ভ করেছে রাস্তার দিকে। মায়ের দৌড় দেখে আমিসহ বাড়ির সবাই দৌড়াল। অনু খুব বদরাগী। সবাই মনে করেছে হয়ত কারও সঙ্গে ঝামেলা করেছে। গিয়ে দেখি অনু আর আমার দুই চাচাত ভাই বসে ফোনে গেম খেলছে। আমার এক ভাইপো সারারাত ফ্রি-ফায়ার খেলে। তো একদিন রাতে জোরে জোরে বলছে, আমি মরে গেছি। আমি মরে গেছি। পেছন থেকে গুলি করেছে। এই কথা শুনে ভাবি পাশের রুম থেকে চিৎকার মেরে বাড়ির লোক জড়ো করে ফেলেছে। পরে জানা গেল, ওটা ফ্রি-ফায়ার কেস!

ভাগিনা সোহান ক্লাসে নাইনে পড়ে। বাপের ফোন চুরি করে সেও এই ফ্রি-ফায়ার খেলে। সেদিন দেখি ওর নানি মানে আমার চাচি হাতে লাঠি নিয়ে ওকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। পাচ্ছে না। আর ও দিকে ওর বাপ ফোনের জন্য ভারী ঝামেলা বাধাচ্ছে। পরে খোঁজাখুঁজি করে সোহানকে পাওয়া গেল। সে বাড়ির পাশের এক বড় আম গাছে উঠে গেমে মশগুল!