ভাতিজার সঙ্গে পিথাগোরাস!

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭

ভাতিজার সঙ্গে পিথাগোরাস!

খালিল ইমতিয়াজ ২:৩৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২০

print
ভাতিজার সঙ্গে পিথাগোরাস!

ভোর ৮টা। মর্নিং ওয়ার্কের জন্য বাসা থেকে বের হল ইমতিয়াজ। তার সঙ্গে ইতিহাসের অন্যতম গণিতবিদ ও বিজ্ঞানী পিথাগোরাসের দেখা হয়ে গেল রাতের স্বপ্নে। সে তখন ঢাকার নটরডেম কলেজের সামনে দিয়ে হাঁটছিল। সামনে কিছু দোকান। হঠাৎ দেখতে পেল অষ্টম আশ্চর্যটিকে। তার চোখ তখন এক লাফে কপালের শেষ প্রান্তে। পরে অবশ্য চোখ দুটিকে টেনে আসল জায়গায় আনল। সত্য! তার সামনে স্বয়ং পিথাগোরাস! পিথাগোরাস মোজো (বাংলাদেশি সফট ড্রিং) খাইতাছে। ইমতিয়াজ দৌড়ে পিথাগোরাসের কাছে গিয়ে বললÑ কাকা, ভালোই আছেন?

পিথা : ভালোই আছি, ভাতিজা। তুমি কেমন?
ইমতিয়াজ : জি কাকা, ভালোই।
পিথা : বহুদ্দিন পর দুনিয়ায় আইতে মন চাইল। তাই আইলাম। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছিলাম। উনি কবুল করলেন আরকি। লগে টাকা-পয়সা নাই। মোজোর দামটা দিয়া দাও।
ইমতি : একশ’বার দেব। হাজারবার দেব।
ইমতিয়াজ মোজোর দাম পরিশোধ করল।
পিথা : আশ্চর্য! তুমি আমারে চিনলা কেমনে? আমি তো খ্রিস্টপূর্ব (৬০০-৫৫০)...।
ইমতি : দুনিয়া বহুত আধুনিক হইছে কাকা। গতকাল আপনার সিডি দেখছি। আবার স্বপ্ন... এভাবেই চিনলাম আরকি।
পিথা : ঈশ্বরে কইছে, তুমি নাকি আমার কাছে কী চাও? তাড়াতাড়ি কও। সময় নাই। ঈশ্বরে ডাকতাছে।
ইমতি : কইছিলাম কী কাকা?
পিথা : তাড়াতাড়ি কও ভাতিজা?
ইমতি : শরম করতাছে আরকি।
পিথা : আরে শালার পুত, থুক্কু ভাতিজা। শোন ভাতিজা, তুমি কি জানো না, মাইন্ড করলে শাইন করা যায় না। কুইক কর, কুইক কর?
ইমতি : মানে আপনি যেই উপপাদ্যটা দিয়া গেছেন, সেটা খুবই বড় হইয়া যায়। বিকল্প প্রমাণ শিখতেই তো ছেলেমেয়েদের খবর হইয়া যায়।
পিথা : তুমি কি আমারে ইনসাল্ট করতাছ?
ইমতি : কী যে বলেন কাকা। আপনারে ইনসাল্ট করা কি আমার শোভা পায়? আপনার যদি একটু সদয়-সহানুভূতি হয়, তাহলে আপনি ইচ্ছা করলেই উপপাদ্যটি আরও সংক্ষেপ করে দিতে পারেন।
পিথা : ইউ আর ঠিক, ইউ আর ঠিক। আমি সবই ক্যান?
ইমতি : কাকা কিন্তু মারাত্মক ইংরেজি বলতে ক্যান?
পিথা : ঠ্যাং খাও, ঠ্যাং খাও। এইবার আসল কথা বলি। উপপাদ্য বদলাইতে হইলে কয়েকজন মরহুম বিজ্ঞানীর অনুমতি লাগব। নিউটনের সঙ্গে তো অবশ্যই কথা বলতে হইব। তোমার লগে মোবাইল আছে?
ইমতি : জি আছে। এনডব্লিউডি মোবাইল ফোন।
পিথা : এইডা দিয়া তো কিছুই হইব না। নিউটনরা এখন থাকে দুনিয়ার বাইরে। আইএসডি মোবাইল দিয়াও তো হইব না। আমার কাছে একটা মোবাইল আছে। এইটা হইল ইবিএম (ঈশ্বর-বিজ্ঞানী-মহাকাশ)। কিন্তু এখন বন্ধ হইয়া আছে। গরম পানি দরকার।
ইমতি : ঠিক বুঝলাম না কাকা, মোবাইল চালাইতে গরম পানি?
পিথা : আমরা যারা মরহুম বিজ্ঞানী তাদের মোবাইল গরম পানি (হট ওয়াটার) দিয়া চলে আর কি। হি হি হি!
ইমতি : গরম পানি দিয়া কেমনে কী করবেন?
পিথা : বেশি কিছু না। মোবাইলটা ফুটন্ত গরম পানিতে চুবাইয়া আনলেই চলব। অটো চার্জ হইয়া যাইব।
ইমতি : এইটা কোনো ব্যাপার না। দেন, মোবাইলটা দেন।
ইমতিয়াজ চায়ের দোকানের গরম কেটলি থেকে মোবাইলটা চুবিয়ে আনে।
ইমতি : নেন কাকা, মোবাইল চার্জ হইয়া গেছে।
পিথা : আরে ভাতিজা, একদম ১০০ পার্সেন্ট চার্জ হইয়া গেছে। এখনই নিউটনরে ফোন দেব?
ইমতি : জি কাকা, তাড়াতাড়ি দেন।
পিথা : মহাকাশে লাইন যাইতে একটু সময় লাগব। এই ফাঁকে তুমি একটা মমতাজের গান শোনাও।
ইমতি : আসলে কাকা আমি তো... (আমতা, আমতা)।
পিথা : যেমন পারো, তেমনই গাও।
ইমতি : পোলা তো নয় সে আগুনেরই গোলা...
পিথা : মারহাবা, মারহাবা।
ইমতি : কাকা দেখি আরবিও জানেন!
পিথা : আর বলিস না, দোজখে কত দেশের কত মানুষ (জিবে কামড়)। চুপ, চুপ লাইন ঢুকছে।
পিথা : হ্যালো নিউটন...?
নিউটন : হ্যাঁ, শুনতে পাচ্ছি দাদা- গাঁধা-বাঁধা-ধাঁধা। আমি একটু টয়লেটে ছিলাম, তাই ফোন ধরতে দেরি হয়ে গেল। সরি দাদা- গাঁধা-বাঁধা-ধাঁধা।
পিথা : ইটস ওকে।
(দাদা-গাঁধা-বাঁধা-ধাঁধা-এর ব্যাখ্যায় বলা যায়, নিউটন পিথাগোরাসকে এ নামে ডাকতেন। যদিও নিউটন এবং পিথাগোরাসের মধ্যে ৬০-৭০টি জেনারেশন গ্যাপ ছিল। কিন্তু এখানে ৬০-৭০টি নাম ব্যবহৃত হয়নি। বহু প্রাচীন বা অধিক জেনারেশন গ্যাপের কারণে গ্রিকরা এসব শব্দ ব্যবহার করত। কারণ দাদার সাত বা চৌদ্দপুরুষ আগের জনকে কী নামে ডাকতে হবে তা পৃথিবীর অনেক সাহিত্যেই বিবেচনা করা হয়নি)।
পিথা : আমি চাচ্ছি আমার উপপাদ্যটি আরও সংক্ষিপ্ত করে দেই। তুমি কী বলো, নিউটন?
নিউটন : ভালোই হবে, দাদা-গাঁধা-বাঁধা-ধাঁধা। বড় হওয়ার কারণে আপনার উপপাদ্য লিখতে বেশি কাগজ লাগে। এতে পৃথিবীর ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। সংক্ষিপ্ত করে দিতে পারেন।
পিথা ফোনের লাইন কেটে দিলেন। ইমতিয়াজের উদ্দেশে বললেন, ভাতিজা!
ইমতি : জি কাকা?
পিথা : উপপাদ্য ছোট করা যাইব। তুমি কোনো চিন্তা কইরো না।
ইমতি : আলহামদুলিল্লাহ।
পিথা : তোমার কাজ তো হইল। এবার আমার একটা শেষ আরজি আছে। আমার মহাকাশ যান নটরডেম কলেজের ছাদে আমার জন্য অপেক্ষা করতেছে। শেষ আরজিটা রাখতে পারবা?
ইমতি : কাকা কিন্তু বেশি ভনিতা করছেন। বলে ফেলুন না আরজিটা কী? আমার পক্ষে সম্ভব হলে অবশ্যই চেষ্টা করব।
পিথা : যদি...!
ইমতি : যদি কী?
পিথা : যদি আরও দুইটা মোজো খরিদ কইরা দিতা, তাহলে আমি একটা খাইতাম আর একটা নিউটন রে দিতাম।
ইমতি : এইটা কোনো ব্যাপার হইল কাকা?
ইমতিয়াজ দোকান থেকে দুইটা মোজো কিনে পিথাগোরাসের হাতে দিল।
পিথা : তাহলে আমি আজকে আসি। সবারই তো উপরওয়ালার কাছে ফিরতে হইব। তুমিও আমাদের সঙ্গে যোগ দিবা বলে আশা করি।
ইমতি : কিন্তু আপনার মুখ ফসকে যে বের হয়ে গিয়েছিল, আপনারা দোজখে থাকেন!
পিথা : তাহলে তুমিও সেইখানে আসবা। হি হি হি!
পিথাগোরাস ইমতিয়াজের কাছ থেকে বিদায় নিলেন।