দয়ালুর আলু

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২০ | ২০ শ্রাবণ ১৪২৭

দয়ালুর আলু

গোলাম মোর্তুজা ৩:২৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৭, ২০২০

print
দয়ালুর আলু

লেতুপুরের কেতু মিয়া। বড়ই তার হিয়া। বাবাও নাই, মাও নাই। শুধু আছে এক বোন দুভাই। ভাই বোনদের ঠকিয়ে আজ, কেতু মিয়া পরেছে নতুন সাজ। সব না দাবি করে। লিখে নিয়েছে নিজের করে। বিয়ে করেছে মজে প্রেমভাবে।

এত সম্পদ কে আর খাবে। তিন বছরের মাথায়। সন্তান পান ও পরাগ যমজ হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওদেরকে একবাক্যে রাখতে হয় চোখে চোখে। পানের মাথার স্ক্রু ঢিলা। পরাগ বাউ-ুলের টিলা। কেতু মিয়ার বয়সও বাড়ে। নির্বাচনে দাঁড়াবেন অধিক ছাড়ে। দাঁড়ালেই পাস। এ যে হাস্যকর সার্কাস। নির্বাচন হলো শেষে।

চারদিকে জয়ের ভেলা ভাসে। গোটা গ্রামে কতজন। কেতুর প্রিয়জন। এ হিসেব তো কারো জানা নেই। নির্বাচনও হয়েছে সেই সেই। একদিন গ্রামে এল রোগ। কেতু করে তা উপভোগ। চেয়ারম্যানের বাড়িতে। বিজয়ী মেম্বাররা খুশিতে। একজন মেম্বার বললেন। অন্যজনরা তখন শ্রোতা হলেন। ‘এ খারাপ সময়ে ত্রাণের বিনিময়ে যাওয়া যাবে জনগণের কাছে। কেউ না জানলে আমরা তো জানি কীভাবে আমাদের পাস হয়েছে।

ত্রাণ দিলে রটবে আমাদের সুনাম। তখন ঘুচবে কিছুটা নির্বাচনী দুর্নাম। উপর থেকে আসছে ত্রাণ। পাচ্ছি বণ্টনের ঘ্রাণ। চেয়ারম্যান কেতু। উপরে উঠবার পেলেন সেতু। বললেন, মুচকি হাসি হাসলেন। ‘সবাই শুনুন, তালিকা করুন। কিছু কিছু করে আলু কিনুন। গ্রামের গরিবদের একদিন আলু দেওয়া হোক। খুশি হবে তবে লোক।’ চেয়ারম্যান যখন থামলেন। মেম্বাররা তখন ‘হ্যাঁ হ্যাঁ’ রব তুললেন। সেদিন হল না আর কথা। মেম্বাররা চললেন হেথা ওথা।

পাঁচদিন চলল আলু কেনা। গ্রামের অনেকেই ঘোঁষে কানখানা। গ্রামের হাটে আলুর দাম যায় বেড়ে। অনেকেই সেই ক্ষোভে আলু খাওয়াই দিল ছেড়ে। একদিন সকালে, মেম্বার সকলে। এলেন চেয়ারম্যানের বাসায়। তালিকায় বাদ পড়েনি গরিব গোসাঁই। হঠাৎ মেম্বার শুরী। কথায় তুললেন সুরলহরী। ‘এক কিলো করে আলু। তুলছে ভুলু। রাত হতে হতে শেষ হবে ব্যাগেটিং।

তবুও রাতে জানাব করে ম্যাসেজিং।’ আরেক মেম্বার বললেন। ভিন্ন এক চাল চাললেন। ‘সবাই মিলে দেব আলু। সঙ্গে থাকবেন বড় সাংবাদিক কালু। আমাদের দান। হবে অম্লান।’ রাত গড়িয়ে হল ভোর। গ্রামবাসীরা তুলল শোর। চেয়ারম্যান দিলেন একে একে এক কিলো আলু। আর সঙ্গে ছিলেন পাঁচজন দয়ালু।